ডিজিটাল ইউরো: ৩৬টি পরিষেবা প্রদানকারী বেটা-টেস্টিংয়ে যোগ দিচ্ছে, যা নির্ধারণ করবে পেমেন্টের ভবিষ্যৎ কার হাতে থাকবে

সম্পাদনা করেছেন: Yuliya Shumai

ডিজিটাল ইউরো: ৩৬টি পরিষেবা প্রদানকারী বেটা-টেস্টিংয়ে যোগ দিচ্ছে, যা নির্ধারণ করবে পেমেন্টের ভবিষ্যৎ কার হাতে থাকবে-1

ইউরোপীয় সেন্ট্রাল ব্যাংক ডিজিটাল ইউরোর বেটা-টেস্টিংয়ের জন্য ৩৬টি পেমেন্ট পরিষেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানকে নির্বাচন করেছে। ২০২৭ সালের দ্বিতীয়ার্ধে এই পরীক্ষামূলক প্রকল্পটি শুরু হবে এবং এক বছর ধরে চলবে। এই সিদ্ধান্তের পেছনে কেবল প্রযুক্তিগত যাচাই-বাছাই নয়, বরং আগামী দশকগুলোতে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলো যেভাবে অর্থ লেনদেন করবে, সেই নিয়মগুলো নতুন করে লেখার এক প্রচেষ্টা লুকিয়ে আছে।

পঞ্চাশটিরও বেশি কোম্পানি এই প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে আবেদন করেছিল। নির্বাচিত প্রতিষ্ঠানগুলো ইউরোজোনের বিভিন্ন ব্যবসায়িক মডেল এবং ভৌগোলিক বৈচিত্র্যের প্রতিনিধিত্ব করছে। এদের মধ্যে কিছু প্রতিষ্ঠান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মীদের ডিজিটাল ইউরো প্রদান করবে, আবার অন্যরা বিক্রেতাদের কাছ থেকে পেমেন্ট গ্রহণের কাজ করবে। কিছু প্রতিষ্ঠান আবার এই উভয় দায়িত্বই পালন করবে। ইউরোপীয় সেন্ট্রাল ব্যাংক এবং ১৯টি দেশের জাতীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এই পরীক্ষায় প্রকৃত দোকান ও ক্যাফেগুলোও অংশগ্রহণ করবে।

পাইলট প্রকল্পে ব্যবহৃত ডিজিটাল ইউরো হবে একটি বেটা-ভার্সন, যার কোনো আইনি মুদ্রা বা 'লিগ্যাল টেন্ডার'-এর মর্যাদা থাকবে না। এটি অনলাইন এবং অফলাইন—উভয় পদ্ধতিতেই ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি এবং ব্যক্তি থেকে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের লেনদেনে ব্যবহৃত হবে। ইউরোপীয় সেন্ট্রাল ব্যাংক জোর দিয়ে বলেছে যে, এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো ইউরোপের পেমেন্ট অবকাঠামোকে শক্তিশালী করা এবং বিদেশি সেবাদাতাদের ওপর নির্ভরতা কমানো। তবে অন্তর্ভুক্তি এবং দক্ষতার কথার আড়ালে একটি গভীর প্রশ্ন রয়ে গেছে—প্রতিটি লেনদেনের তথ্য আসলে কার নিয়ন্ত্রণে থাকবে।

বেসরকারি ব্যাংক এবং ফিনটেক কোম্পানিগুলো দীর্ঘ সময় ধরেই গ্রাহকদের খরচের হিসাব সংগ্রহ করে আসছে। এখন কেন্দ্রীয় ব্যাংক সরাসরি সেই সুযোগ পেতে যাচ্ছে। এই পাইলট প্রকল্পে ব্যাংক এবং নন-ব্যাংকিং উভয় ধরনের প্রতিষ্ঠান থাকলেও এর সমস্ত নিয়মকানুন ইউরোপীয় সেন্ট্রাল ব্যাংকই নির্ধারণ করছে। এটি ক্ষমতার ভারসাম্য বদলে দিচ্ছে: রাষ্ট্র এমন এক হাতিয়ার পাচ্ছে যা আগে কখনও ছিল না, আর নাগরিকদের আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে যুক্ত হচ্ছে স্বচ্ছতার এক নতুন স্তর।

ধরুন, আপনি সাধারণ এক কাপ কফি কিনছেন। বর্তমানে আপনি যখন কার্ড দিয়ে টাকা পরিশোধ করেন, সেই তথ্য বেশ কয়েকজন মধ্যস্থতাকারীর হাত ঘুরে যায়। ডিজিটাল ইউরোর ক্ষেত্রে এই লেনদেনের ধাপগুলো কমে আসতে পারে এবং লেনদেনের রেকর্ডটি সরাসরি কেন্দ্রীয় লেজারের কাছাকাছি চলে আসবে। কারো কাছে এটি সহজলভ্যতা ও গতির বিষয় হলেও, অন্যদের জন্য এটি দৈনন্দিন খরচের গোপনীয়তা কতটা বজায় থাকবে তা নিয়ে ভাবার নতুন কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

এই পরীক্ষামূলক প্রকল্পের মানে এই নয় যে ডিজিটাল ইউরো এখনই চালু হয়ে যাচ্ছে। বরং এটি বাস্তব ক্ষেত্রে সিস্টেমটি কীভাবে কাজ করে তা দেখার এবং প্রয়োজনে এর নকশায় পরিবর্তন আনার একটি সুযোগ। এই পরীক্ষার সাফল্য বা ব্যর্থতা কেবল ইউরোজোনের ওপরই নয়, বরং অন্যান্য দেশগুলো তাদের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডিজিটাল মুদ্রার ক্ষেত্রে কী ধরনের পদক্ষেপ নেবে তার ওপরও প্রভাব ফেলবে।

পরিশেষে, বিষয়টি শুধু প্রযুক্তির নয়। এটি মূলত আমাদের অর্থের তথ্য কার কাছে থাকবে এবং আমরা কীভাবে তা খরচ করছি, তা দেখার অধিকার কার থাকবে—সেই সম্পর্কিত একটি বিষয়।

27 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • ECB selects 36 payment service providers to join digital euro pilot

মন্তব্য

এই বিষয়ে আরও নিবন্ধ পড়ুন:

HSBC just named its Hong Kong stablecoin. It's called RedCoin. And it's going straight to 3.3 million retail users. No exchange. No self-custody wallet. Just PayMe and the HSBC app. • Name: HSBC RedCoin • Peg: 1:1 HKD • License: HKMA FRS02 (granted April 2026) •

Reply
আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।