নিজের সত্তাকে খুঁজে পেতে আপনাকে কোথাও যাওয়ার প্রয়োজন নেই।
প্রশ্ন:
আমি কি সঠিকভাবে বুঝতে পারছি যে ‘আমি আছি’ বা অস্তিত্বের এই চেতনাটি সমাধির তৃতীয় স্তর, এবং আপনি কি এটি বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের জন্য ব্যবহার করার পরামর্শ দিচ্ছেন? এর মধ্যে কি ‘সবকিছু ঠিক আছে’—এই বোধ অর্জন করা, শারীরিক যত্ন নেওয়া এবং কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ের সাথে একাত্ম হয়ে বিচ্ছিন্নতা কাটিয়ে ওঠার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত? আমি বলছি না যে এই অবস্থাটি অস্বাভাবিক, তবে বর্তমান জগতের বাস্তবতায় এই ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি আমাদের কাছে অপরিচিত হওয়ায় এটি রপ্ত করতে হয়তো কিছুটা প্রস্তুতি বা অনুশীলনের প্রয়োজন হয়—আর এটি পকেটে হাত দেওয়ার মতো সহজ কোনো বিষয় নয়।
লি (lee)-এর উত্তর:
আপনি পুরো বিষয়টিকেই আসলে উল্টোভাবে দেখছেন। ‘আমি আছি’ হলো ঠিক সেই অনুভূতি যা আপনি বর্তমানে অনুভব করছেন এবং যা আপনি নিজে—এর জন্য কোথাও যাওয়ার দরকার নেই—শুধু নিজের দিকে আঙুল নির্দেশ করুন, তাহলেই আপনি সঠিক দিশা পেয়ে যাবেন। খেয়াল করে দেখুন, আপনি নিজের কপালের দিকে নয়, বরং বুকের দিকে অর্থাৎ হৃদয়ের দিকেই আঙুল দিয়ে দেখাচ্ছেন।
তাই নিজেকে সমাধির তৃতীয় স্তর বলাটা অনেকটা পৃথিবীকে কেবল ‘স্ট্রবেরি চাষের জমি’ বলা অথবা সামান্য এক ডোবাকে ‘মহাসাগরের প্রথম ধাপ’ হিসেবে ডাকার মতো।
বরং ‘আমি আছি’ এই বিশুদ্ধ সত্তার কাছে সমাধিই এক অর্থে ‘অস্বাভাবিক অবস্থা’, কারণ তখন নিজের অস্তিত্বকে দেহের এক জটিল কাঠামোর মধ্য দিয়ে অনুভব করতে হয়।




