পরিষ্কার ক্যানভাসের প্রভাব: অভ্যন্তরীণ সংলাপ বন্ধ হয়ে গেলে মানুষের আর কী অবশিষ্ট থাকে?

লেখক: lee author

পরিষ্কার ক্যানভাসের প্রভাব: অভ্যন্তরীণ সংলাপ বন্ধ হয়ে গেলে মানুষের আর কী অবশিষ্ট থাকে?-1
‘I am’ কীভাবে বোঝা যায়?

❓ প্রশ্ন:

দয়া করে ‘আমি আছি’ (I Am) বিষয়টি একটু স্পষ্ট করবেন? আমি এমন একটি অবস্থার সাথে পরিচিত যেখানে সবকিছু আমার দ্বারাই অনুভূত হয় এবং অন্তত শুরুর দিকে মনে হয় যে ব্যক্তি হিসেবে আমার কোনো পৃথক অস্তিত্ব নেই (যা ব্যক্তিস্বত্বায় ফিরে আসার পর এমনকি ভয়েরও সৃষ্টি করত)। সাধারণ ব্যক্তিগত উপলব্ধির সাথে এর সম্পর্ক আমার কাছে স্পষ্ট: সাধারণত সেখানে আমি একজন মানুষ এবং অন্যজন আরেকজন মানুষ; কিন্তু ওই বিশেষ অবস্থায় উপলব্ধির একটি সমান্তরাল স্তর থাকে যেখানে মনে হয় সবকিছুই ‘আমি’ নামক উপাদান দিয়ে তৈরি, যদিও এটি আমি এবং অন্যের মধ্যকার পার্থক্য বা আমিত্বের বোধকে পুরোপুরি মুছে দেয় না। সবকিছু একাকার হয়ে মিশে যায় না। এটি অনেকটা উপলব্ধির একটি অতিরিক্ত স্তরের প্রকাশের মতো। কিন্তু আমার কাছে এখনও পরিষ্কার নয় যে, ‘আমি আছি’ বা এই অস্তিত্বের বোধটি আসলে কীভাবে অনুভূত হয়? একে কীভাবে চেনা সম্ভব (বোঝা নয়) এবং ব্যক্তিগত উপলব্ধির সাথে এর সম্পর্কই বা কী? সম্ভব হলে দয়া করে এটি যুক্তি দিয়ে নয়, বরং উপলব্ধির বৈশিষ্ট্যগত পরিবর্তনের বর্ণনার মাধ্যমে বুঝিয়ে বলুন।

❗️ লি-র (lee) উত্তর:

অস্তিত্ব হলো একটি ক্রিয়া বা ‘অ্যাক্ট’। এটি এমন নয় যে ‘কিছু একটা আছে কারণ...’। বরং এটি একটি সক্রিয় প্রক্রিয়া—‘আমি উপলব্ধি করতে পারছি, তাই এটি একটি ক্রিয়া’। এটি উপলব্ধির তথ্য প্রবাহ মাত্র।

এখন, ‘সেই তথ্যটি আসলে কী’ তা সরিয়ে ফেলা যাক। অর্থাৎ সব ধরণের অনুভূতি, জ্ঞানের ধরণ এবং পদ্ধতিসমূহ বাদ দিন।

আপনি শুধু সচেতনভাবে লক্ষ্য করছেন (বিশ্লেষণ ছাড়া) যে সেখানে একটি ‘ক্রিয়া’ বর্তমান।

এই বিশেষ অনুভূতিতে স্থান বা কালের কোনো অস্তিত্ব নেই।

আপনি কেবল সেই ‘ক্রিয়ায় অংশগ্রহণকারী’ যার কোনো নির্দিষ্ট চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য নেই।

তখন সেখানে কেবল এক অখণ্ড ‘এখানে’ বর্তমান থাকবে এবং ‘আমি আছি’ ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না।

এই ‘আমি’-র মধ্যে ‘এটি আমি আর ওটি আমি নই’—এমন কোনো বিভেদ থাকবে না। এই আমি-র একমাত্র অর্থ হবে ‘অস্তিত্ব’।

বস্তুত, এই ‘ক্রিয়া’-ই আপনাকে ‘আমি’ হিসেবে সৃষ্টি করে, কারণ তা না হলে ‘অস্তিত্ব আছে’—এমনটা নথিভুক্ত করার মতোও কেউ থাকবে না।

সাধারণ আমিত্বে ফিরে আসা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ আপনি যখন ব্যক্তিস্বত্বা এবং ‘অন্যদের’ ধারণায় ফিরে আসেন, তখন লক্ষ্য করেন কীভাবে নতুন নতুন স্তর তৈরি হচ্ছে যা আর বিশুদ্ধ ‘আমি আছি’ নয়, বরং ‘আমি হলাম এই অমুক...’। ফিরে আসার সময় সবার আগে অলক্ষ্যে কিছু অনুভূতি আসে—যেমন ‘আমি এই জায়গায় আছি’, ‘আমি শুনছি’, ‘আমি দেখছি’—এগুলো কোনো চিন্তা হিসেবে নয়, বরং সূক্ষ্ম অনুভূতি হিসেবে ধরা দেয়।

অনুভূতিগুলো মূলত বাস্তবতাকে বোঝার জন্য আমাদের যে নির্দিষ্ট অভ্যন্তরীণ বিশ্বাস বা ‘সেটিংস’ আছে, তারই মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হওয়া। এখানে মূলত কোনো নির্দিষ্ট তকমা বা গুণাগুণ বিচার ছাড়াই সব ধরণের বিশ্বাসের কথা বলা হচ্ছে। এগুলো দেখা বা শোনা যায় না; এগুলোই মায়ার সেই মূল বুনন যা প্রকৃত ‘আমি’-কে আচ্ছন্ন করে রাখে এবং ‘আমি অন্য কেউ’—এমন একটি স্বতন্ত্র পরিচয় তৈরি করে।

সবশেষে আসে চিন্তা—যা এই প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত অংশ। এগুলো স্পষ্ট দেখা ও শোনা যায়। চিন্তার মাধ্যমে ‘আমি আছি’ বা বিশুদ্ধ অস্তিত্বকে খুঁজে পাওয়া অসম্ভব, কারণ চিন্তা হলো গৌণ বিষয় এবং এটি ব্যক্তিস্বত্বার দ্বারা তৈরি।

এই কারণেই আত্মসচেতনতার প্রাথমিক পর্যায়টি এত জটিল—মানুষ চিন্তার মধ্যেই সব উত্তর খোঁজে, কিন্তু সেই চিন্তার মূলে থাকা বিশ্বাস পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে না, যার আরও গভীরে গেলেই কেবল সংজ্ঞা ছাড়া সেই মূল ‘ক্রিয়া’-কে অনুভব করা সম্ভব। যিনি অন্তত একবার এই পথে হেঁটেছেন, তার জন্য পরবর্তীতে এই পথ অনুসরণ করা এবং ‘আমি আছি’-র এক বিস্তৃত ও গভীর উপলব্ধিতে নিমজ্জিত হওয়া অনেক সহজ হয়ে যায়।

27 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • Lee I.A.

  • Сайт автора lee

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।