২০০৫ সাল থেকে মাঝারি মাত্রার আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত এবং ভয়াবহ দাবানল স্ট্রাটোস্ফিয়ারে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে—যা মূলত সাধারণ আবহাওয়ামণ্ডলের উপরের স্তর।

এই উচ্চতর অঞ্চলে জলীয় বাষ্প গ্রিনহাউস গ্যাসের মতো কাজ করে: এটি তাপ ধরে রাখে এবং ওজোনের রাসায়নিক ভারসাম্যকে প্রভাবিত করে। গবেষণা অনুযায়ী, এ ধরনের প্রাকৃতিক ঘটনাগুলো ১৫ থেকে ৫০ কিলোমিটার উচ্চতায় আর্দ্রতা বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পিনাটুবোর মতো প্রলয়ঙ্করী বিস্ফোরণের তুলনায় মাঝারি অগ্ন্যুৎপাত ও দাবানলের ধোঁয়া খুব ধীরগতিতে কিন্তু একটানা বাষ্প সরবরাহ করে। এই বাষ্প দ্রুত বিলীন হয়ে যায় না এবং প্রত্যাশার চেয়েও দীর্ঘ সময় ধরে স্ট্রাটোস্ফিয়ারে অবস্থান করে।
উচ্চস্তরে আর্দ্রতার এই বৃদ্ধি গ্রিনহাউস প্রভাবকে আরও শক্তিশালী করে এবং ওজোন স্তরের পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়াকে ধীর করে দিতে পারে। বিজ্ঞানীরা বলছেন যে, মানবসৃষ্ট কারণগুলোর পাশাপাশি জলবায়ু মডেলে এই প্রাকৃতিক প্রক্রিয়াগুলোকেও গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
স্যাটেলাইট এবং ভূ-পৃষ্ঠের পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রগুলো থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, সক্রিয় আগ্নেয়গিরি ও অগ্নিকাণ্ড প্রবণ এলাকাগুলোতেই জলীয় বাষ্পের ঘনত্ব বাড়ছে। এটি বায়ুমণ্ডলের ভারসাম্য রক্ষায় প্রাকৃতিক ঘটনাগুলোর অবদান সম্পর্কে আমাদের প্রচলিত ধারণা বদলে দিচ্ছে।
আগ্নেয়গিরি এবং দাবানলের ভূমিকা অনুধাবন করা জলবায়ু পরিবর্তনের আরও সঠিক পূর্বাভাস দিতে এবং ওজোন স্তর ও বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির ঝুঁকি হ্রাসে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সাহায্য করে।




