প্রায় দুইশ কোটি বছর আগে পৃথিবী শুধুমাত্র অণুবীক্ষণিক জীবদের আবাসস্থল ছিল। ঠিক সেই সময়েই এমন সব ঘটনা ঘটেছিল, যা পরবর্তীতে উদ্ভিদ, প্রাণী এবং মানুষের আবির্ভাব সম্ভবপর করে তুলেছিল।

স্প্যানিশ জিনতত্ত্ববিদ টনি গাবালডনের নেতৃত্বে গবেষকদের একটি আন্তর্জাতিক দল আধুনিক সকল ইউক্যারিওটিক প্রাণীর শেষ সাধারণ পূর্বপুরুষ — বা তথাকথিত 'লেকা' (LECA - Last Eukaryotic Common Ancestor)-র বংশগতির ইতিহাস পুনর্গঠন করেছেন। গবেষণার ফলাফল থেকে জানা যায় যে, জটিল কোষের গঠন কোনো একক বিবর্তনীয় লাফ ছিল না, বরং এটি ছিল বিভিন্ন অণুজীবের দীর্ঘকালীন পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়ার ফল।
প্রাচীন জিনগত নিদর্শনের বিশ্লেষণ নির্দেশ করে যে, ইউক্যারিওটদের পূর্বপুরুষরা ব্যাকটেরিয়া এবং দানবাকৃতি ভাইরাসের সাথে সক্রিয়ভাবে জিনের আদান-প্রদান করেছিল। কোষের শক্তির ব্যবস্থায় ব্যাকটেরিয়া বড় অবদান রেখেছিল, যা পরবর্তীতে শক্তি উৎপাদনের প্রধান উৎস মাইটোকন্ড্রিয়ার জন্ম দেয়। দানবাকৃতি ভাইরাসগুলোও সম্ভবত কোষের সংগঠন ও নিয়ন্ত্রণের কিছু প্রক্রিয়া তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল।
নতুন এই তথ্যগুলো প্রাণের উৎপত্তির একটি আরও জটিল চিত্র আমাদের সামনে তুলে ধরে। শুধুমাত্র দৈব পরিবর্তনের মাধ্যমে ধীরে ধীরে জটিল হওয়ার পরিবর্তে, ইউক্যারিওটিক কোষকে একটি প্রাচীন জৈবিক সহযোগিতার ফলাফল হিসেবে দেখা যায়, যেখানে বিভিন্ন ধরনের প্রাণের মধ্যে জিনগত উদ্ভাবনের আদান-প্রদান ঘটেছিল।
এই গবেষণা বিবর্তনে ভাইরাসের ভূমিকা সম্পর্কে আমাদের প্রচলিত ধারণা বদলে দেয়। তারা কেবল পরজীবীই ছিল না, বরং গুরুত্বপূর্ণ কোষীয় কার্যাবলী শুরু করতে সহায়ক নতুন জিনের উৎস হিসেবেও কাজ করতে পারে।
গবেষকরা জোর দিয়ে বলেছেন যে, আধুনিক কোষের অনেক বৈশিষ্ট্যই সেই প্রাচীন জিনগত বিনিময়ের উত্তরাধিকার হতে পারে, যা প্রথম বহুকোষী জীবের জন্মের অনেক আগে ঘটেছিল। সরল অণুজীবের জগত থেকে কীভাবে পৃথিবীতে আজকের এই বৈচিত্র্যময় ও জটিল প্রাণের সৃষ্টি হলো, তা আরও ভালোভাবে বুঝতে এই গবেষণা নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।




