আণবিক সুরক্ষা কবচ: কোষের লুকানো কৌশল কীভাবে খরা থেকে উদ্ভিদকে বাঁচায়

সম্পাদনা করেছেন: An goldy

'Nature Plants' সাময়িকীতে প্রকাশিত সাম্প্রতিক গবেষণাগুলো কোষীয় স্তরে উদ্ভিদের বৃদ্ধি, শক্তি এবং টিকে থাকার পেছনে থাকা আণবিক কৌশলগুলোর ওপর আলোকপাত করেছে। বিজ্ঞানীরা মূলত দুটি মৌলিক প্রক্রিয়ার ওপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করেছেন: তৃণজাতীয় ফসলের কোষ বিভাজনের শেষ পর্যায় (সাইটোকাইনেসিস) এবং বহুবর্ষজীবী বৃক্ষের কাঠের গঠন বিন্যাস।

'Arabidopsis thaliana'-কে মডেল উদ্ভিদ হিসেবে ব্যবহার করে পরিচালিত প্রথম গবেষণায় জীববিজ্ঞানীরা কাইনোসিন-১২ (KINESIN-12) পরিবারের মোটর প্রোটিনগুলোর কার্যকারিতা পরীক্ষা করেছেন। এই প্রোটিনগুলো ফ্র্যাগমোপ্লাস্ট গঠনের সময় নির্মাণ সামগ্রী পরিবহনের কাজ করে—এটি এমন এক অস্থায়ী কাঠামো যার ওপর ভিত্তি করে নতুন কোষীয় প্রাচীর তৈরি হয়। দেখা গেছে যে, কাইনোসিন-১২ পরিবারের মধ্যে কাজের সুনির্দিষ্ট বণ্টন রয়েছে। কিছু প্রোটিন মেমব্রেন ভেসিকলগুলোকে ফ্র্যাগমোপ্লাস্টের সামনের দিকে নিয়ে গিয়ে নতুন সেল প্লেট তৈরিতে সাহায্য করে, আবার অন্যগুলো পিছনের দিকে মেমব্রেনের সাথে মাইক্রোটিউবিউলসের মিথস্ক্রিয়াকে স্থিতিশীল রাখে। এই নিপুণ সমন্বয় ছাড়া সঠিক কোষ বিভাজন অসম্ভব হয়ে পড়ে, যা সরাসরি গম বা সয়াবিনের মতো ফসলের বৃদ্ধি এবং টিস্যু মেরামত প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে।

দ্বিতীয় গবেষণাটিতে পপলার গাছ কীভাবে তাদের পানি পরিবহন তন্ত্রের (জাইলেম) স্থায়িত্ব নিয়ন্ত্রণ করে সেই কৌশল উন্মোচিত হয়েছে। গাছের কোষীয় নালীর ভেতর দিয়ে যখন রস প্রবাহিত হয়, তখন সেখানে তীব্র অভ্যন্তরীণ চাপের সৃষ্টি হয় এবং এই নালীর প্রাচীর যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেজন্য উদ্ভিদ ক্যালসিয়াম-ভিত্তিক সংকেত ব্যবস্থা ব্যবহার করে। নির্দিষ্ট উদ্দীপনা শনাক্ত করার পর কোষের ভেতর 'CPK3' নামক একটি ক্যালসিয়াম-নির্ভর প্রোটিন কাইনেজ এনজাইম সক্রিয় হয়ে ওঠে। এই এনজাইমটি 'ERF72' নামক একটি ট্রান্সক্রিপশন ফ্যাক্টর বা প্রোটিন-সুইচকে রাসায়নিকভাবে পরিবর্তন (ফসফরিলেট) করে। সক্রিয় 'ERF72' তখন লিগনিন তৈরির জন্য দায়ী জিনগুলোকে সচল করে—লিগনিন হলো একটি প্রাকৃতিক পলিমার যা সেলুলোজ তন্তুগুলোকে শক্তভাবে ধরে রাখে। এর ফলে জাইলেম নালীর গৌণ কোষ প্রাচীরগুলো পুরু হয়ে শক্তিবৃদ্ধি করা চ্যানেলে পরিণত হয়। বন্য পপলার গাছের বিশ্লেষণে দেখা গেছে যে, এই মডিউলের কার্যকারিতার প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য তাদের আবাসস্থলের আর্দ্রতার অবস্থার সাথে সরাসরি সম্পর্কিত।

এই আবিষ্কারগুলো উদ্ভিদ প্রজনন বা সিলেকশন প্রক্রিয়াকে অন্ধ পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর্যায় থেকে সূক্ষ্ম ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পর্যায়ে নিয়ে এসেছে। কাইনোসিন-১২ এবং CPK3–ERF72 জোড়ার মতো সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু সম্পর্কে জানার ফলে এখন জিনতত্ত্ববিদরা নির্দেশিত জিনোম এডিটিং (CRISPR/Cas9) পদ্ধতি ব্যবহারের সুযোগ পাচ্ছেন। এটি কৃষিক্ষেত্রে দানাশস্যের দ্রুত বৃদ্ধি নিশ্চিত করতে পারে এবং বনশিল্পে কাঠের ঘনত্ব ও গাছের সংবহনতন্ত্রের সহনশীলতা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে পারে, যার ফলে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র প্রোটিন মেকানিজমগুলো পুরো বাস্তুসংস্থান পরিচালনার শক্তিশালী হাতিয়ারে পরিণত হবে।

6 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • Nature Plants editors' highlights

এই বিষয়ে আরও নিবন্ধ পড়ুন:

Scientists just discovered bees and hummingbirds are drinking alcohol ──────────────── 🟣 A new study reveals that many flowers naturally contain small amounts of alcohol due to yeast fermenting sugars in nectar. As a result, pollinators like bees and hummingbirds

Image
1
Reply
আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।