সাদা-পিঠ শকুনদের শরীরে ১৯টি জিপিএস ট্যাগ: দক্ষিণ আফ্রিকার বিপন্ন এই প্রকৃতির পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের রক্ষায় প্রযুক্তি যেভাবে সাহায্য করছে

লেখক: Svitlana Velhush

২০২৬ সালের এপ্রিলে দক্ষিণ আফ্রিকার কোয়াজুলু-নাটাল প্রদেশের হলুহ্লুয়ে-ইমফলোজি ন্যাশনাল পার্কে সাদা-পিঠ শকুন ধরা এবং তাদের শরীরে ট্যাগ লাগানোর জন্য দুই দিনের একটি অভিযান চালানো হয়। জুলুল্যান্ড ভালচার প্রজেক্টের আওতায় ওয়াইল্ডলাইফ অ্যাক্ট (Wildlife ACT) এবং ইজেমভালো কেজেডএন ওয়াইল্ডলাইফের (Ezemvelo KZN Wildlife) যৌথ প্রচেষ্টায় ১৯টি প্রাপ্তবয়স্ক পাখির শরীরে হালকা ওজনের সৌরচালিত জিপিএস ডিভাইস বসানো হয়েছে।

হলুহ্লুয়ে-ইমফলোজি পার্কটি আফ্রিকার সবচেয়ে পুরনো সংরক্ষিত এলাকা এবং এটি এই প্রদেশে সাদা-পিঠ শকুনদের প্রজননের জন্য বৃহত্তম আবাসস্থল। এই এলাকায় আগে পাখিদের চলাফেরা সম্পর্কে খুব কম তথ্য পাওয়া যেত, তাই স্থানীয় প্রাপ্তবয়স্ক শকুনগুলোকেই গবেষণার জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে।

প্রতিটি পাখির শরীরের মাপ নেওয়া এবং স্বাস্থ্য পরীক্ষার মতো মানসম্মত বায়োমেট্রিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। এই তথ্যগুলো একটি দীর্ঘমেয়াদী ডেটাবেসে যুক্ত করা হয়, যা আঞ্চলিক ও জাতীয় পর্যায়ে এই প্রজাতির সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে।

সাদা-পিঠ শকুন আইইউসিএন (IUCN) এর লাল তালিকায় অতি বিপন্ন প্রজাতি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত। ২০০৪ সাল থেকে জুলুল্যান্ডে এদের প্রজননকারী জনসংখ্যা প্রায় ৮০ শতাংশ কমে গেছে। এর প্রধান কারণ হলো বিষক্রিয়া; যেহেতু এরা দলবেঁধে খাবার খায়, তাই মাত্র একটি বিষাক্ত মৃতদেহের মাংস খেয়ে একবারে কয়েক ডজন পাখির মৃত্যু হতে পারে।

অন্যান্য হুমকির মধ্যে রয়েছে পশুর মৃতদেহে থাকা বুলেটের সিসা থেকে দূষণ, বিদ্যুৎ লাইনের সাথে সংঘর্ষ এবং আবাসস্থল ধ্বংস হওয়া। শকুনরা খুব ধীরগতিতে বংশবৃদ্ধি করে—সাধারণত এক বা দুই বছরে মাত্র একটি বাচ্চা দেয়—ফলে এদের সংখ্যা কমে যাওয়ার প্রভাব অত্যন্ত ভয়াবহ হয়।

জিপিএস ডিভাইসগুলো প্রতিদিন পাখিদের যাতায়াতের পথ, খাবার এবং বিশ্রামের জায়গা সম্পর্কে তথ্য প্রদান করে এবং এটি একটি আগাম সতর্কবার্তা ব্যবস্থা হিসেবেও কাজ করে। শকুনদের আচরণের কোনো আকস্মিক পরিবর্তন বা বিপজ্জনক এলাকা থেকে সংকেত পেলে দ্রুত বিষক্রিয়ার ঘটনার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং আরও প্রাণহানি রোধ করা সম্ভব হয়।

বাস্তুসংস্থানে শকুনদের ভূমিকা বলে শেষ করা যাবে না; এরা দ্রুত মৃত পশুর দেহ সাবার করে অ্যানথ্রাক্স, বটুলিজম এবং জলাতঙ্কের মতো রোগ ছড়ানোর ঝুঁকি কমিয়ে দেয়। এদের অনুপস্থিতিতে বন্যপ্রাণী, গবাদি পশু এবং মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি মারাত্মকভাবে বেড়ে যায়।

পরিবেশ সংরক্ষণ সংস্থা, গবেষক এবং দাতাদের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতায় এই অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব হয়েছে। ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে থাকা এই প্রজাতিকে আরও কার্যকরভাবে রক্ষা করার জন্য পাখিদের চলাফেরা সংক্রান্ত সঠিক তথ্য কতটা জরুরি, তা এই ধরনের প্রকল্পের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়।

প্রতিটি ট্যাগ করা ডিভাইস ম্যাপের কোনো বিন্দু নয়, বরং এটি একটি কার্যকর হাতিয়ার যা বিপদের সময় দ্রুত ব্যবস্থা নিতে এবং বাস্তুসংস্থানের এই অপরিহার্য পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের বাঁচাতে সাহায্য করে।

16 দৃশ্য
আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।