গত বছর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ক্রিপ্টোকারেন্সি প্রকল্পগুলো থেকে ১৪০ কোটি ডলার আয়ের কথা জানানোর পর, এই অংকটি তার সাফল্যের প্রমাণ হিসেবেই গণ্য হয়েছিল। এর মধ্যে ৬০ কোটি ডলারের বেশি এসেছে $TRUMP মেমে-কয়েনের রয়্যালটি থেকে এবং প্রায় ৫০ কোটি ডলার এসেছে 'ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফিন্যান্সিয়াল' থেকে। এতে স্পষ্টভাবে বোঝা যায় যে ট্রাম্প পরিবার অত্যন্ত লাভবান হয়েছে। তবে এই পরিসংখ্যানের আড়ালে রয়েছে ভিন্ন এক বাস্তবতা: এই টোকেনের অধিকাংশ ক্রেতাই বড় ধরনের লোকসানের শিকার হয়েছেন।
$TRUMP মেমে-কয়েনটির বাজার মূলধন ১৫০০ কোটি ডলারে পৌঁছানোর পর ৯৭ শতাংশ কমে গিয়ে মাত্র ৪০ কোটি ডলারে নেমে আসে। বিশ্লেষকদের তথ্য অনুযায়ী, যারা এই টোকেন কিনেছিলেন তাদের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ওয়ালেট এখন লোকসানে রয়েছে। অনেক বিনিয়োগকারী দ্রুত লাভের আশায় হাজার হাজার ডলার বিনিয়োগ করেছিলেন, আর বড় বিনিয়োগকারীরা হারিয়েছেন লক্ষ লক্ষ ডলার। এই টোকেনের দাম কত ছিল তা ট্রাম্প পরিবারের জন্য কোনো গুরুত্ব রাখেনি, কারণ রয়্যালটি এবং বিক্রয় থেকেই তারা ইতোমধ্যে শত কোটি ডলার আয় নিশ্চিত করে ফেলেছেন।
এই ঘটনায় ক্রিপ্টো বাজারের একটি চিরাচরিত অসমতা ফুটে উঠেছে। ট্রাম্প পরিবার তাদের প্রভাব এবং ব্যাপক জনসমর্থন কাজে লাগিয়ে অত্যন্ত কম ঝুঁকিতে এই প্রকল্প শুরু করেছিল। অন্যদিকে, বিনিয়োগকারীরা কাজ করেছিলেন তথ্যের অভাব এবং আবেগতাড়িত উত্তেজনার মধ্যে। যখন কেউ কেউ সর্বোচ্চ দামে তাদের মুনাফা তুলে নিচ্ছিলেন, তখন বাকিরা এমন এক সম্পদ ধরে রেখেছিলেন যার মূল্য দ্রুত কমে আসছিল।
এ ধরনের প্রকল্পগুলো সেই পুরনো যুক্তিতেই চলে: চরম অস্থিরতাপূর্ণ খেলায় তারাই জয়ী হয় যারা এর নিয়ন্ত্রণ এবং বণ্টনের দায়িত্বে থাকে। সাধারণ বিনিয়োগকারীরা প্রায়শই এই বাজার বৃদ্ধির 'জ্বালানি' হিসেবে ব্যবহৃত হন এবং পরবর্তীতে দাম কমে যাওয়ার ধাক্কা তারাই সবচেয়ে বেশি সামলান। এটি কেবল ভাগ্য বা দুর্ভাগ্যের বিষয় নয়—এটি এমন একটি কাঠামো যেখানে ক্ষমতা এবং যোগাযোগ ক্রিপ্টোকে পুঁজি জমানোর একটি হাতিয়ারে পরিণত করে।
নদীর কথা ভাবুন যেখানে উৎসেই একটি বাঁধ দেওয়া হয়েছে: পানি সবার আগে তাদের কাছেই যায় যারা এটি নিয়ন্ত্রণ করে, আর নদীর ভাটিতে পড়ে থাকে সামান্য অবশিষ্টাংশ। মেমে-কয়েনের ক্ষেত্রেও বিষয়টি একই: এর নির্মাতারা এবং ঘনিষ্ঠরা মূল মুনাফা তুলে নেন, আর সাধারণ ক্রেতাদের ভাগ্যে জোটে মূল্যহীন সম্পদ।
এই ঘটনাটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, ক্রিপ্টো বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কারা নিয়ম বানাচ্ছে আর কারা এর মূল্য পরিশোধ করছে তা বোঝা জরুরি। ট্রাম্প পরিবার দেখিয়ে দিয়েছে কীভাবে রাজনৈতিক ও মিডিয়া প্রভাবকে নিজেদের ন্যূনতম ঝুঁকিতে আর্থিক লাভে রূপান্তর করা যায়। অন্যদের জন্য শিক্ষাটি খুব সহজ: এ ধরনের প্রকল্পে একজনের জয় মানেই প্রায় সবসময় অন্যের লোকসান।

