জুন মাসে মার্কিন স্পট বিটকয়েন ইটিএফগুলো (ETF) যখন রেকর্ড ৪.০৬ বিলিয়ন ডলার হারিয়েছে, তখন 'হুইল' নামে পরিচিত বড় বিনিয়োগকারীরা মাত্র দুই সপ্তাহে ১৬.৭ বিলিয়ন ডলার মূল্যের ২ লাখ ৭০ হাজারের বেশি বিটকয়েন সংগ্রহ করেছেন। বাজার সংশ্লিষ্টদের আচরণের এই বৈপরীত্য বেশ অদ্ভুত মনে হতে পারে: যেখানে প্রাতিষ্ঠানিক তহবিলগুলো লোকসান গুনছে, সেখানে বিশাল ব্যালেন্সের অধিকারী অ্যাকাউন্টগুলো সম্পদ জমানো অব্যাহত রেখেছে।
বিটফিনেক্স (Bitfinex) বিশ্লেষকদের তথ্য অনুযায়ী, স্পট প্রিমিয়াম ঋণাত্মক ছিল, যার অর্থ হলো এই কেনাকাটা এক্সচেঞ্জ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে নয়, বরং সরাসরি হয়েছে। অতীতেও বাজারের এমন চিত্র দেখা গেছে ঠিক স্থানীয় নিম্নস্তরে পৌঁছানোর আগে: দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগকারীরা তখন সেই সব বিক্রেতাদের কাছ থেকে মুদ্রা হাতিয়ে নেন যারা সামষ্টিক অর্থনৈতিক চাপের মুখে বিক্রি করতে বাধ্য হন।
উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার নিয়ে প্রত্যাশার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে প্রাতিষ্ঠানিক তহবিল প্রত্যাহারের এই হিড়িকের মধ্যে। মে মাসে ৪.২ শতাংশ মূল্যস্ফীতির হার অনেক তহবিল ব্যবস্থাপককে ঝুঁকি কমাতে বাধ্য করেছে। তবে বড় বিনিয়োগকারীরা বা হুইলরা স্পষ্টতই দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্যের দিকে তাকিয়ে আছেন এবং ৬২ হাজার ডলারের বর্তমান দামকে বাজারে প্রবেশের জন্য একটি আকর্ষণীয় সুযোগ হিসেবে দেখছেন।
মজার বিষয় হলো, সব অল্টকয়েন (altcoin) একই রকম আচরণ করছে না। জুনের শুরু থেকে সোলানা (Solana) প্রায় ১৫ শতাংশ বেড়েছে, যেখানে ইথেরিয়াম লেয়ার ২-এর কিছু টোকেন সর্বকালের সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে। এটি নিশ্চিত করে যে, পুঁজি এখন নির্দিষ্ট কিছু খাতে প্রবাহিত হচ্ছে এবং অন্ধভাবে বিটকয়েনকে অনুসরণ করছে না।
এই পরিস্থিতিকে একটি বাগানের সঙ্গে তুলনা করা যেতে পারে: খরার প্রথম লক্ষণে কেউ যখন তরুণ গাছগুলো উপড়ে ফেলতে ব্যস্ত, অন্যরা তখন শিকড়ে জল ঢেলে যাচ্ছেন এটা জেনে যে ঋতু এখনও শেষ হয়নি। বড় বিনিয়োগকারীরা ঠিক এভাবেই কাজ করছেন—তারা বাজার থেকে মুদ্রা সরিয়ে নিয়ে সরবরাহ কমিয়ে দিচ্ছেন।
পরবর্তী মূল্যস্ফীতির প্রতিবেদন বাজারের জন্য একটি মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া ঘটনা হতে পারে। যদি তথ্যে মূল্যস্ফীতি কমার ইঙ্গিত পাওয়া যায়, তবে ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদের ওপর চাপ কমবে এবং বড় বিনিয়োগকারীদের সঞ্চিত সম্পদগুলোর নতুন করে মূল্যায়ন হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
পরিশেষে, বড় বিনিয়োগকারীরা আবারও প্রমাণ করলেন যে অস্থির বাজারে ধৈর্য এবং স্বল্পমেয়াদী প্রবাহের ওপর নির্ভরশীল না হওয়াটাই প্রায়ই চূড়ান্ত জয় এনে দেয়।

