যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে পাল্টাপাল্টি হামলার জেরে তেলের দাম যখন হু হু করে বাড়ে, তখন বিটকয়েন ও শেয়ার বাজারের বিনিয়োগকারীরাই প্রথম অস্থিরতা অনুভব করেন। গত ২৪ ঘণ্টায় বিটকয়েনের দাম কমে ৬২,৬০০ ডলারে নেমে এসেছে এবং সিডি২০ ইনডেক্স ০.৬ শতাংশ মান হারিয়েছে — যা মূলত ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কায় বাজারের একটি স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া।
হরমুজ প্রণালীতে তেলবাহী ট্যাঙ্কারে হামলার ঘটনার পর ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম প্রায় ৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস সরবরাহের এক-পঞ্চমাংশ এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়েই পরিবাহিত হয়। ট্রেডাররা বর্তমানে বিষয়টিকে 'নাচো' (Nacho) বা 'প্রণালীটি খোলার আর কোনো সম্ভাবনা নেই' বলে অভিহিত করছেন। বছরের শেষ নাগাদ সেখানে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা ৬৫ শতাংশ থেকে কমে বর্তমানে ৫৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
জ্বালানি পণ্যের দাম বৃদ্ধি পাওয়ার সাথে সাথেই দুই বছর মেয়াদী ট্রেজারি বন্ডের আয়ের হার বেড়ে ৪.২৮ শতাংশে পৌঁছেছে। ফেডারেল রিজার্ভ আগামী জুলাই মাসেই সুদের হার বাড়িয়ে দিতে পারে বলে এখন ৩৬ শতাংশ সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। বিটকয়েনসহ অর্থের মানের ওপর নির্ভরশীল অন্যান্য সম্পদের জন্য এটি একটি বড় ধরনের ধাক্কা।
এর নেপথ্যে রয়েছে সেই চিরন্তন সত্য: বিনিয়োগ অনিশ্চয়তা পছন্দ করে না, বিশেষ করে যখন তা গুরুত্বপূর্ণ কোনো প্রাকৃতিক সম্পদের ক্ষেত্রে ঘটে। বিনিয়োগকারীরা এখন ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে তুলনামূলক নিরাপদ জায়গায় মূলধন সরিয়ে নিচ্ছেন। ইউরোপীয় কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দাম ১ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে এবং আমেরিকান ইনডেক্স ফিউচার কমেছে ০.৩ শতাংশ।
আজ প্রকাশিত হতে যাওয়া সিপিআই মুদ্রাস্ফীতির তথ্য হবে বাজারের জন্য পরবর্তী বড় পরীক্ষা। যদি সামগ্রিক মুদ্রাস্ফীতি কমে ৩.৮ শতাংশে দাঁড়ায় এবং মূল সূচক ২.৯ শতাংশেই স্থির থাকে, তবে সুদের হার বৃদ্ধির চাপ কিছুটা কমতে পারে। অন্যথায়, বাজারগুলো বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আরও সতর্ক হওয়ার সংকেত পাবে।
সাধারণ মানুষের কাছে এগুলো পর্দার কেবল কিছু সংখ্যা মাত্র নয়। তেলের দাম বাড়লে জ্বালানি তেল, ঘর গরম রাখা এবং নিত্যপণ্যের খরচও বেড়ে যায়। এমন পরিস্থিতিতে ক্রিপ্টোকারেন্সি বা শেয়ার বাজারে থাকা সঞ্চয়ের বিষয়ে নতুন করে ভাবার প্রয়োজন পড়ে: ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ ধরে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ হবে নাকি পোর্টফোলিওকে স্থিতিশীল বিনিয়োগের দিকে ঘুরিয়ে দেওয়া উচিত।
ভূ-রাজনীতি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, সম্পদের নিয়ন্ত্রণের ওপরই সব সময় অর্থের মূল্য নির্ভর করে। যারা ঝুঁকি ও নিরাপত্তার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে চলেন, তারা এই ধরনের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি ভালোভাবেই মোকাবিলা করতে পারেন।




