কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে আশাবাদের জোয়ারে বিশ্বব্যাপী শেয়ারবাজারের সূচকগুলো যখন ইতিহাসের সর্বোচ্চ উচ্চতা স্পর্শ করছে, তখন বিটকয়েন ৬৪ হাজার ডলারের আশেপাশে প্রায় স্থবির হয়ে রয়েছে। এটি কেবল বাজারের কোনো সাধারণ পরিসংখ্যান নয়, বরং নতুন প্রযুক্তির যুগে বিনিয়োগের অর্থ প্রকৃতপক্ষে কোন দিকে ধাবিত হচ্ছে তারই একটি সংকেত।
এসঅ্যান্ডপি ৫০০ (S&P 500) এবং এমএসসিআই অল কান্ট্রি ওয়ার্ল্ড (MSCI All Country World) সূচকসহ বৈশ্বিক শেয়ারগুলোর মূল্য বৃদ্ধি পাচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রতি প্রত্যাশা এবং হরমুজ প্রণালী নিয়ে অগ্রগতির ফলে তেলের দাম কমে যাওয়ার কারণে। তবে বিটকয়েন, যা প্রথাগতভাবে ঝুঁকির সম্পদ (risk asset) হিসেবে বিবেচিত, এই ঊর্ধ্বগতির সাথে তাল মেলাতে পারছে না। বছরের প্রথমার্ধে স্পট বিটকয়েন ইটিএফ (ETF) থেকে ৫.৪ বিলিয়ন ডলার তুলে নেওয়া হয়েছে, যা স্পষ্টতই ইঙ্গিত দেয় যে পুঁজি এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর শেয়ারে স্থানান্তরিত হচ্ছে।
ডিডব্লিউএফ ল্যাবস (DWF Labs)-এর বিশ্লেষকদের মতে, প্রাতিষ্ঠানিক ও খুচরা বিনিয়োগকারীরা ক্রিপ্টোকারেন্সির প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন, কারণ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এখন মনোযোগ ও তহবিলের সিংহভাগ দখল করে নিয়েছে। গত এক বছরে কেবল ক্রিপ্টো নয়, বরং অধিকাংশ খাতই মুনাফার দিক থেকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কাছে পিছিয়ে পড়েছে। এটি কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়, বরং একটি সুনির্দিষ্ট প্রবণতা: অর্থ এখন সেখানেই যাচ্ছে যেখানে সবচেয়ে আলোচিত ও সম্ভাবনাময় প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছে।
আরেকটি উদ্বেগের বিষয় হলো গত ৬০ দিনে টেথারের (Tether) বাজার মূলধন ৪ বিলিয়ন ডলার হ্রাস পাওয়া। ইউএসডিটি (USDT) ক্রিপ্টো বাজারে নতুন তহবিলের আগমনের সূচক হিসেবে কাজ করে: যখন ক্রিপ্টো কেনার জন্য ডলারকে স্টেবলকয়েনে রূপান্তরিত করা হয়, তখন এর পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। এর বিপরীত প্রক্রিয়াটি বাজার থেকে পুঁজি বেরিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দেয়। ঐতিহাসিকভাবে, এই ধরনের বড় মাপের হ্রাস প্রায়ই বিক্রির চূড়ান্ত পর্যায়ের সাথে মিলে যায়, যদিও এটি সবসময় তাৎক্ষণিক পতনের পূর্বাভাস দেয় না।
ডেরিভেটিভস বাজারে বিটকয়েন এবং ইথারের কার্যক্রম বেশ মন্থর থাকলেও নির্দিষ্ট কিছু অল্টকয়েন আগ্রাসী লং পজিশন (long positions) আকর্ষণ করছে। বিটকয়েনের অস্থিরতা বা ভোলাটালিটি বর্তমানে প্রায় ৩৬ শতাংশে অবস্থান করছে—যা সাধারণত কোনো বড় ধরনের উল্লম্ফনের ইঙ্গিত দেয়। তবে এখন পর্যন্ত তেমন কোনো বিচলন লক্ষ্য করা যাচ্ছে না।
এই পরিস্থিতি সেই পুরনো প্রবাদের কথা মনে করিয়ে দেয়: "চকচক করলেই সোনা হয় না।" ডিজিটাল সোনা হিসেবে পরিচিতি পাওয়া বিটকয়েন আজ কোনো ধাতুর কাছে নয়, বরং হেরে যাচ্ছে অ্যালগরিদম আর চিপসের শক্তির কাছে। পুঁজি বণ্টনের ক্ষেত্রে আমরা কি প্রচলিত ও জনপ্রিয় প্রচারণার ওপর খুব বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়ছি—বিনিয়োগকারীদের এখন এটি ভেবে দেখার সময় এসেছে।
কেবল বিটকয়েনের দাম নয়, বরং ইউএসডিটি (USDT)-র সরবরাহের গতির দিকেও নজর রাখা প্রয়োজন—যদি এটি বাড়তে শুরু করে, তবেই বোঝা যাবে ক্রিপ্টো বাজারে পুনরায় অর্থ ফিরে আসছে।
