মিশরের সর্বজনীন স্বাস্থ্য বীমা ব্যবস্থায় জাল বিল এবং তথ্য ফাঁসের কারণে প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা নষ্ট হচ্ছে—২০৩০ সাল নাগাদ এই ক্ষতির পরিমাণ ১১.২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। ঠিক এই কারণেই সরকারি হাসপাতালগুলোতে ব্লকচেইন প্রযুক্তি চালুর বিষয়টি কেবল প্রযুক্তির গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি জনসম্পদ রক্ষার একটি মাধ্যম, যা অন্যথায় হাতছাড়া হয়ে যেত।
সায়েন্টিফিক রিপোর্টস-এ (Scientific Reports) প্রকাশিত একটি গবেষণায় 'ইউনিভার্সাল হেলথ ইন্স্যুরেন্স সিস্টেম'-এর অধীনে কর্মরত ৫৩টি সরকারি হাসপাতালের ২১৮ জন নির্বাহী ও আইটি বিশেষজ্ঞের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে। গবেষণার ফলাফল অনুযায়ী: ব্লকচেইন ব্যবহারের আগ্রহ মূলত এই প্রযুক্তির আনুপাতিক সুবিধা, হাসপাতালের আর্থিক সক্ষমতা এবং এর ওপর আস্থার স্তরের ওপর নির্ভর করে। পক্ষান্তরে, এই প্রযুক্তির জটিলতা এবং ঝুঁকি প্রক্রিয়াটিকে ধীর করে দেয়। লক্ষণীয় যে, এখানে 'আস্থা' একটি মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করে: সরকারি সমর্থন এবং নিরাপত্তার নিশ্চয়তা সরাসরি সিদ্ধান্তে প্রভাব না ফেললেও মানুষের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেয়, যা শেষ পর্যন্ত এটি গ্রহণে উৎসাহিত করে।
আর্থিক প্রস্তুতি এখানে কেবল প্রশ্নপত্রের কোনো সাধারণ ঘর নয়। সীমিত বাজেটের হাসপাতালগুলো এমনকি প্রাথমিক পরীক্ষামূলক প্রকল্পও শুরু করতে পারে না, অথচ তারাই বীমা জালিয়াতির কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ব্লকচেইনের অপরিবর্তনীয় রেকর্ড এবং 'স্মার্ট কন্ট্রাক্ট' বিল যাচাইকরণ প্রক্রিয়াকে স্বয়ংক্রিয় করতে পারে, প্রশাসনিক খরচ কমাতে পারে এবং রোগীদের নিজস্ব তথ্যের ওপর নিয়ন্ত্রণ দিতে পারে—যার সবই সরাসরি সিস্টেম থেকে অর্থের অপচয় রোধ করে।
প্রাতিষ্ঠানিক চাপও এখানে ভূমিকা রাখে: মন্ত্রণালয়ের নির্দেশিকা এবং শিল্পের মানদণ্ড একটি বাহ্যিক উদ্দীপনা তৈরি করে, তবে অভ্যন্তরীণ আর্থিক সংস্থান এবং প্রযুক্তির ওপর আস্থা না থাকলে হাসপাতালগুলো স্থবির হয়ে থাকে। উন্নয়নশীল দেশগুলোতে, যেখানে ডিজিটাল অবকাঠামো এখনও পুরোপুরি উন্নত নয়, সেখানে উদ্ভাবনগুলো যেন কেবল পরীক্ষামূলক পর্যায়েই আটকে না থাকে, সেজন্য এই বিষয়গুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
কল্পনা করুন এমন একটি সাধারণ ক্লিনিকের কথা, যেখানে প্রতিটি জাল বিল মানেই হলো ওষুধের বাজেট বা চিকিৎসকদের বেতন থেকে অর্থ কমে যাওয়া। ব্লকচেইন এখানে একটি ডিজিটাল সিন্দুকের মতো কাজ করে: রোগীর তথ্য সুরক্ষিত থাকে এবং বীমার অর্থ কেবল যাচাইকৃত চেইনের মাধ্যমেই লেনদেন হয়। যেসব হাসপাতালের আর্থিক নমনীয়তা রয়েছে এবং যারা এই সিস্টেমের নির্ভরযোগ্যতায় বিশ্বাস করে, তারাই প্রথম এই সাশ্রয়ের সুবিধা ভোগ করবে।
পরিশেষে, এই প্রযুক্তির সাফল্য শুধু কোডিংয়ের ওপর নয়, বরং রাষ্ট্র এবং হাসপাতালগুলো আস্থা ও সম্পদের পেছনে কতটা বিনিয়োগ করতে প্রস্তুত তার ওপর নির্ভর করে—এটিই নির্ধারণ করবে ব্লকচেইন কি অর্থ সাশ্রয়ের হাতিয়ার হয়ে উঠবে নাকি নিছক এক সুন্দর তত্ত্বে সীমাবদ্ধ থাকবে।




