মস্তিষ্কের শক্তির ঘাটতি: বয়সের সাথে কেন সময়ের গতি বাড়ে বলে মনে হয়?

সম্পাদনা করেছেন: Aleksandr Lytviak

বয়স বাড়ার সাথে সাথে দিন এবং বছরগুলো ছোট মনে হতে থাকে, যদিও ক্যালেন্ডারের পাতা একই গতিতে উল্টায়। একটি নতুন হাইপোথিসিস বা ধারণা অনুযায়ী, এই অনুভূতির কারণ স্মৃতির আধিক্য নয়, বরং মস্তিষ্কের শক্তির উৎসগুলো ধীরে ধীরে কমে যাওয়া।

এই প্রক্রিয়াটি বোঝা অত্যন্ত জরুরি: সময়ের গতির এই অনুভূতি যদি সত্যিই শক্তির সীমাবদ্ধতাকে প্রতিফলিত করে, তবে তা বয়োজ্যেষ্ঠদের অনুপ্রেরণা, পরিকল্পনা এবং মানসিক অবস্থার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। ‘ফ্রন্টিয়ার্স ইন এজিং নিউরোসায়েন্স’ জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় এই বিষয়টিকে মেটাবলিক বা বিপাকীয় পরিবর্তনের একটি সরাসরি ফলাফল হিসেবে দেখার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

আগে এই ধারণাই প্রচলিত ছিল যে, স্মৃতির সঞ্চয়ের কারণেই সময়ের গতি বাড়ে: শৈশবে প্রতিটি দিনই নতুনত্ব নিয়ে আসে, কিন্তু পরে জীবনের ঘটনাগুলো একঘেয়েমিতে রূপ নেয়। তবে নতুন এই গবেষণার লেখকরা ভিন্ন একটি বিষয়ের দিকে ইঙ্গিত করেছেন—প্রাপ্য শক্তি কমে যাওয়ার ফলে স্নায়বিক প্রক্রিয়ার কার্যকারিতা হ্রাস পাওয়া। ৬০ বছরের বেশি বয়সী ব্যক্তিদের মস্তিষ্কের বহিঃস্তরে মাইটোকন্ড্রিয়াল ফাংশন এবং গ্লুকোজ ব্যবহারের তথ্য এই যোগসূত্রটিকে সমর্থন করে, যদিও মানুষের ওপর সরাসরি পরীক্ষার সংখ্যা এখনও পর্যাপ্ত নয়।

অন্যান্য ব্যাখ্যার সাথে তুলনা করলে দেখা যায় যে, এই এনার্জি হাইপোথিসিস বা শক্তি সংক্রান্ত ধারণাটি বার্ধক্যজনিত কগনিটিভ বা জ্ঞানীয় প্রক্রিয়াগুলো ধীর হয়ে যাওয়ার পর্যবেক্ষণের সাথে বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ। বিভিন্ন গবেষণায় যখন স্বেচ্ছাসেবকদের সময়ের ব্যবধান পরিমাপ করতে বলা হয়, তখন দেখা গেছে যে বয়োজ্যেষ্ঠরা প্রায়ই সময়ের হিসাব কমিয়ে ধরেন, যেন তাদের শরীরের অভ্যন্তরীণ ‘ঘড়ি’ আরও দ্রুত চলছে। তবে গবেষকরা জোর দিয়ে বলেছেন যে, এই তথ্যগুলো প্রাথমিক পর্যায়ের এবং নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে আরও যাচাইয়ের প্রয়োজন রয়েছে।

একটি কম্পিউটারের কথা কল্পনা করুন, যেটি বছরের পর বছর চলার ফলে তার ব্যাটারির সক্ষমতা হারিয়েছে। একই কাজ করার জন্য এখন সেটিকে প্রসেসরের গতি কমিয়ে দিতে হচ্ছে। মস্তিষ্কও একই রকম পরিস্থিতিতে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কম তথ্য বিশ্লেষণ করে, যার ফলে বাইরের ঘটনাগুলোকে অনেক দ্রুত ঘটছে বলে মনে হয়। এই তুলনাটি বুঝতে সাহায্য করে যে কেন স্মৃতিশক্তি ঠিক থাকা সত্ত্বেও আমাদের জীবনের ব্যক্তিগত অনুভবের গতি বেড়ে যায়।

এই হাইপোথিসিসটি এখনই কোনো ব্যবহারিক পরামর্শ দেয় না, তবে সময় উপলব্ধির প্রেক্ষাপটে মস্তিষ্কের মেটাবলিজম বা বিপাক প্রক্রিয়া নিয়ে গবেষণার প্রয়োজনীয়তা নির্দেশ করে। শক্তির সীমাবদ্ধতাই যদি এই ঘটনার মূল কারণ হয়ে থাকে, তবে মাইটোকন্ড্রিয়াল ফাংশন সচল রাখার পদক্ষেপগুলো পরোক্ষভাবে জীবনের গতির এই ব্যক্তিগত অনুভূতিকেও প্রভাবিত করতে পারে।

এই পর্যবেক্ষণটি বার্ধক্যকে এক ভিন্ন নজরে দেখতে বাধ্য করে: এটি শুধু শরীরকেই পরিবর্তন করে না, বরং জীবনকে মাপার মানদণ্ডকেও বদলে দেয়।

8 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • Hypothesis on energetic constraints in aging making time appear to pass faster

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।