গ্রীষ্মের দাবদাহ থেকে সুরক্ষা: তপ্ত দিনে পোষা প্রাণীদের জন্য নিরাপত্তা বিধি ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম

লেখক: Svitlana Velhush

গ্রীষ্মের দাবদাহ থেকে সুরক্ষা: তপ্ত দিনে পোষা প্রাণীদের জন্য নিরাপত্তা বিধি ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম-1

গ্রীষ্মের প্রচণ্ড দাবদাহ কেবল মানুষের জন্যই নয়, বরং এক কঠিন পরীক্ষা। খুব কম মানুষই ভেবে দেখেন যে, আমাদের প্রিয় পোষা প্রাণীরা এই চরম তাপমাত্রা সহ্য করতে মানুষের চেয়েও বেশি হিমশিম খায়। বিড়াল ও কুকুরের শরীরে ঘাম গ্রন্থি নেই বললেই চলে, যার ফলে তাদের শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা অত্যন্ত সীমিত। তবে আপনার আদরের প্রাণীটির যে সাহায্য প্রয়োজন, তা আপনি সময়মতো বুঝবেন কীভাবে?

বিশেষ ঝুঁকির তালিকায় কারা রয়েছে, তা সহজেই অনুমেয়। এর মধ্যে রয়েছে বয়স্ক প্রাণী, অতিরিক্ত ওজনের অধিকারী এবং দীর্ঘস্থায়ী হৃদরোগে আক্রান্ত পোষা প্রাণীগুলো। এছাড়াও পাগ, বুলডগ বা পার্সিয়ান বিড়ালের মতো বিশেষ প্রজাতির প্রাণীদের প্রতি বাড়তি নজর দেওয়া জরুরি। তাদের খুলির বিশেষ গঠন এবং সংকুচিত শ্বাসনালীর কারণে নিঃশ্বাসের মাধ্যমে শরীরের তাপমাত্রা কমানো এদের জন্য অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে পড়ে।

অসুস্থ বোধ করলে প্রাণীটিকে প্রথমেই কোনো ঠান্ডা, বাতাস চলাচল করে এমন ছায়াযুক্ত স্থানে নিয়ে যান। বরফ-ঠান্ডা পানি নয়, বরং সাধারণ ঠান্ডা পানিতে তাদের পেট, ঘাড় ও থাবা ভিজিয়ে ধীরে ধীরে শরীরের তাপমাত্রা কমিয়ে আনুন। তাদের জোর না করে বরং অল্প অল্প করে পানি পান করতে দিন। প্রাথমিক চিকিৎসার পর অবশ্যই পশুচিকিৎসকের পরামর্শ নিন; কারণ অভ্যন্তরীণ ক্ষতিগুলো কয়েক ঘণ্টা পর প্রকাশ পেতে পারে এবং তা হৃৎপিণ্ড, মস্তিষ্ক বা বৃক্কের মতো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে কুকুরকে কেবল ভোরে বা সন্ধ্যার পর হাঁটতে বের করুন, যখন রাস্তার পিচ বা মাটি খুব বেশি তপ্ত থাকে না। একটি সহজ পরীক্ষা হলো— মাটির ওপর হাতের উল্টো পিঠ পাঁচ সেকেন্ড চেপে ধরুন; যদি তা সহ্য করা অসম্ভব হয়, তবে বুঝবেন সেই পৃষ্ঠটি হাঁটার জন্য বড্ড গরম। ঘরের ভেতরে সবসময় সতেজ ঠান্ডা পানির ব্যবস্থা রাখুন, পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের সুযোগ দিন এবং রোদ তীব্র হলে জানালার পর্দা টেনে ছায়াযুক্ত স্থান তৈরি করুন। গ্রীষ্মের প্রধান নিয়মটি কখনোই ভুলবেন না: আপনার পোষা প্রাণীটিকে বদ্ধ গাড়ির ভেতরে কখনোই রেখে যাবেন না, এমনকি তা কয়েক মিনিটের জন্য হলেও।

গ্রীষ্মের কষ্ট লাঘবে বিশেষ কিছু সরঞ্জাম বেশ কার্যকর হতে পারে: যেমন কুলিং ম্যাট বা বিছানা, স্বয়ংক্রিয় পানির ফোয়ারা, বহনযোগ্য পানির পাত্র, কুকুরের জন্য ছোট পুল, বরফ করা খেলনা এবং শরীর ঠান্ডা রাখার জন্য বিশেষ কলার বা ব্যান্ডানা।

প্রতিদিনের এই সহজ ব্যবস্থাগুলো গ্রীষ্মকালীন তপ্ত আবহাওয়ার ঝুঁকি অনেকাংশেই কমিয়ে দেয়। যে সব মালিকরা তাদের পোষা প্রাণীর শারীরিক বৈশিষ্ট্য বোঝেন এবং সময়মতো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেন, তারা এই প্রচণ্ড গরমের দিনগুলোতেও তাদের প্রিয় সঙ্গীর সুস্বাস্থ্য ও আরাম নিশ্চিত করতে পারেন।

23 দৃশ্য
আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।