সিঙ্গাপুরের একটি স্কুলে মাত্র তিন সপ্তাহের ব্যবধানে একটি অ্যালগরিদম খুঁজে বের করেছে যে, পঞ্চম শ্রেণির ২৭ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ১৮ জনই সমীকরণ সমাধানের সময় গাণিতিক প্রক্রিয়ার ক্রম নিয়ে ভুল করছিল, যদিও তাদের সবার গড় নম্বর ছিল গড়পড়তার চেয়ে বেশি।
'ফ্রন্টিয়ার্স ইন এডুকেশন' জার্নালে প্রকাশিত একটি নিবন্ধে ইউরোপ ও এশিয়ার ৪৭টি স্কুলে অভিযোজিত প্ল্যাটফর্ম চালুর পাঁচ বছরের তথ্য সংকলিত করা হয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং লার্নিং অ্যানালিটিক্স কীভাবে শিক্ষকদের দৈনন্দিন কাজ এবং শিক্ষার্থীদের ফলাফলের ওপর প্রভাব ফেলে, গবেষকরা সেটিই পর্যবেক্ষণ করেছেন।
এই সিস্টেমটি প্রতিটি ভুল এবং উত্তরের পেছনে সময় রেকর্ড করে, তারপর স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরবর্তী কাজটি এমনভাবে নির্ধারণ করে যাতে সেটি ইতোমধ্যে শেখা বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে শিক্ষার্থীর নির্দিষ্ট দুর্বলতা দূর করতে পারে। শিক্ষকরা এখন কেবল নম্বরের তালিকার বদলে ক্লাসের সাধারণ সমস্যাগুলোর একটি ম্যাপ দেখতে পান এবং ১০-১২ মিনিটের সংক্ষিপ্ত পাঠের একটি প্রস্তুত সেট হাতে পান। এটি অনেকটা এমন যে, একজন চিকিৎসক সাধারণ কোনো ওষুধ না লিখে রোগীর স্বাস্থ্য পরীক্ষার তথ্যের ওপর ভিত্তি করে সঠিক চিকিৎসা নির্ধারণ করছেন।
১২টি স্কুলে পরিচালিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে, এক সেমিস্টারে শিক্ষার্থীদের পারফরম্যান্স ০.৩ স্ট্যান্ডার্ড ডেভিয়েশন বৃদ্ধি পেয়েছে। মানবিক বিষয়ের তুলনায় গণিত ও বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে এই ফলাফল ছিল অনেক বেশি কার্যকর। তবে ৩০ জনের বেশি শিক্ষার্থীর ক্লাসে এই উন্নতির হার অর্ধেক হয়ে যায়, এবং দুর্বল ইন্টারনেট সংযোগ থাকা স্কুলগুলোতে প্ল্যাটফর্মটি প্রায়ই ব্যাহত হয়েছে। এক বছর পরও এই সুফলের স্থায়িত্ব কতটুকু থাকবে, সে বিষয়ে দীর্ঘমেয়াদী কোনো তথ্য এখনো নেই।
নিয়মিত মূল্যায়নের এই স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা খাতা দেখার পেছনে শিক্ষকের সময় বাঁচালেও ডেটা বিশ্লেষণ এবং পাঠ পরিকল্পনার ওপর এখন বেশি গুরুত্ব দিতে হচ্ছে। একই সাথে কম বাজেটের স্কুলগুলো বৈষম্যের শিকার হচ্ছে: স্থিতিশীল ইন্টারনেট এবং ডিভাইসের অভাবে অ্যালগরিদমগুলো কাজ করতে পারছে না, ফলে বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে শিক্ষার সুযোগের ব্যবধান আরও বাড়ছে।
মূল্যায়নের কাজের একটি বড় অংশ যখন অ্যালগরিদমের নিয়ন্ত্রণে চলে যাবে, তখন শিক্ষকতা পেশার কী পরিবর্তন ঘটবে?



