২০২৬ সালের একটি নিবন্ধে ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়া রিভারসাইডের অধ্যাপক এরিক শুইটজগেবেল এবং লিসবন ইউনিভার্সিটির গবেষক জেরেমি পোবার দাবি করেছেন যে, চেতনা কেবল পৃথিবীর কার্বন-ভিত্তিক জৈব রসায়নেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং বিভিন্ন ধরনের ভৌত মাধ্যমেও বিকশিত হতে পারে। লেখকদ্বয় এখানে ‘সাবস্ট্রেট নমনীয়তা’ বা কাঠামোগত নমনীয়তার ধারণা প্রবর্তন করেছেন এবং জ্যোতির্জীববিজ্ঞানের মূল্যায়নের ওপর ভিত্তি করে দেখিয়েছেন যে, মহাবিশ্বে আচরণগতভাবে জটিল প্রায় এক হাজার প্রজাতি থাকতে পারে এবং বাসযোগ্য গ্রহের সংখ্যা কুইন্টিলিয়ন পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
এই যুক্তিটি সরাসরি ‘জৈবিক প্রকৃতিবাদ’ বা বায়োলজিক্যাল ন্যাচারালিজমকে চ্যালেঞ্জ করে, যা মনে করে যে চেতনার জন্য ঠিক সেই ধরনের রাসায়নিক পরিবেশ প্রয়োজন যা পৃথিবীতে বিদ্যমান। যদি জটিল প্রাণীদের আচরণ—যেমন যোগাযোগ, লক্ষ্য নির্ধারণ এবং সহযোগিতা—সিলিকন, সালফার বা অন্য কোনো ব্যবস্থায় কার্যকর হতে পারে, তবে অভ্যন্তরীণ অভিজ্ঞতার এই বিষয়টিটিকে কেবল পৃথিবীর মেরুদণ্ডী প্রাণী, সেফালোপড বা কিছু পতঙ্গের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার কোনো যৌক্তিক কারণ নেই। লেখকরা একে চেতনার ‘কোপার্নিকান নীতি’ বলে অভিহিত করেছেন: মহাবিশ্বে বা সম্ভাব্য অভিজ্ঞতার বাহক হিসেবে পৃথিবীর কোনো বিশেষ বা সুবিধাজনক অবস্থান নেই।
এই গবেষণার পদ্ধতিটি সম্পূর্ণ দার্শনিক এবং সম্ভাব্যতা-ভিত্তিক। এখানে কোনো পরীক্ষামূলক তথ্য, নিউরোইমেজিং বা আচরণগত পরীক্ষা নেই; বরং এই অনুমানের ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, ভিন্ন পরিবেশে—যেমন শুক্র গ্রহের সালফিউরিক অ্যাসিডের মেঘে—বিবর্তন সম্ভবত জীবনের ভিন্ন রাসায়নিক ভিত্তি তৈরি করতে পারে। এর বিরুদ্ধে সবচেয়ে জোরালো আপত্তি হলো যে, আচরণগত জটিলতা থাকলেই সেখানে দৃশ্যমান চেতনার উপস্থিতি নিশ্চিত হয় না: কার্যগত সামঞ্জস্য আর আত্মগত বা সাবজেক্টিভ অভিজ্ঞতা থাকা এক বিষয় নয়। লেখকরা নিজেরাও উল্লেখ করেছেন যে, বর্তমান কম্পিউটার চিপগুলোকে স্বাভাবিকভাবে চেতনার বাহক হিসেবে ধরা হয় না, যতক্ষণ না এর সপক্ষে সুনির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়।
এই ধারণাটি কম্পিউটিং ডিভাইসের সাথে তুলনার মাধ্যমে সবচেয়ে স্পষ্টভাবে বোঝা যায়: একটি নির্দিষ্ট লজিক্যাল অপারেশন যেমন ভ্যাকুয়াম টিউব, ট্রানজিস্টর বা কোয়ান্টাম এলিমেন্টে সম্পন্ন হতে পারে—মাধ্যম বদলালেও ফলাফল একই থাকে। একইভাবে, যদি জটিল আচরণ এবং অভ্যন্তরীণ কার্যকারণ কোনো অজৈবিক কাঠামোতে তৈরি হতে পারে, তবে চেতনাকে কেবল পৃথিবীর জৈবিক টিস্যুর সাথে বেঁধে রাখার ধারণাটি তার সর্বজনীনতা হারায়।
এই গবেষণাটি বর্তমান কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার চেতনা আছে বলে দাবি করে না এবং এটি শনাক্ত করার কোনো অভিজ্ঞতামূলক মানদণ্ডও প্রদান করে না। এটি কেবল অজৈবিক বাহকগুলোর ওপর থাকা পূর্বনির্ধারিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয় এবং এর মাধ্যমে বহির্গ্রহে ভবিষ্যৎ অভিযান থেকে শুরু করে সিলিকন সিস্টেমের দার্শনিক বিশ্লেষণ পর্যন্ত গবেষণার ক্ষেত্রকে আরও প্রসারিত করে।



