মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশের ফেডারেল প্রয়োজনে ওন্টারিও হ্রদের নাম পরিবর্তন করে Lake America রাখার একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন। নথিটি 27 আগস্ট 2026 তারিখে ওভাল অফিসে স্বাক্ষরিত হয়।
এই আদেশটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং ভৌগোলিক নাম বিষয়ক কাউন্সিলকে 30 দিনের মধ্যে অফিসিয়াল Geographic Names Information System আপডেট করার নির্দেশ দেয়। এই পরিবর্তনটি শুধুমাত্র মার্কিন মানচিত্র, নথি এবং ডেটাবেসের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
এই সিদ্ধান্তটি কানাডার সাথে চলমান বাণিজ্য যুদ্ধের তীব্রতার একটি অংশ। গত সপ্তাহে আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রায় 20 বিলিয়ন ডলার মূল্যের কানাডিয়ান পণ্যের ওপর 50 শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে। কানাডা পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে, যা সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হবে।
ট্রাম্প সোশ্যাল মিডিয়ায় বারবার নাম পরিবর্তনের হুমকি দিয়েছিলেন এবং দাবি করেছিলেন যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র "ওন্টারিওর সাথে খুব বেশি ব্যবসা করার আশা করে না"। আদেশ স্বাক্ষরের পর তিনি কানাডার সমালোচনা করে তাদের বিরুদ্ধে বাণিজ্যে "প্রতারণা" এবং দেশটির আমাদের সাথে "খুব খারাপ আচরণ" করার অভিযোগ পুনর্ব্যক্ত করেন।
এর আগে, 2025 সালে, ট্রাম্প মেক্সিকো উপসাগরের নাম পরিবর্তন করে Gulf of America রেখেছিলেন। এখন তিনি উভয় পদক্ষেপের তুলনা করে উল্লেখ করেছেন যে, "আমাদের একটি উপসাগর এবং একটি হ্রদ আছে"।
কানাডা এবং হ্রদ সংলগ্ন নিউ ইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের কর্তৃপক্ষ নতুন নাম স্বীকৃতি দিতে অস্বীকার করেছে। প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি এবং গভর্নর ক্যাথি হোকুল জোর দিয়ে বলেছেন যে হ্রদটি Lake Ontario-ই থাকবে। জলরাশির প্রায় অর্ধেক প্রতিটি দেশের ভূখণ্ডে অবস্থিত।
এই আদেশটি আন্তর্জাতিক সংস্থা, কানাডা বা ব্যক্তিগত মানচিত্রের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। মার্কিন ফেডারেল নথিতে পরিবর্তন ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে: মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা তাদের ইলেকট্রনিক সংস্করণগুলো আপডেট করেছে।
ট্রাম্প হ্রদটিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি "বিশাল সম্পদ" এবং জাতীয় ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে অভিহিত করেছেন, এবং জোর দিয়ে বলেছেন যে "জলের গভীরতম অংশগুলো" মার্কিন ভূখণ্ডে অবস্থিত। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে, এই প্রতীকী পদক্ষেপ অর্থনৈতিক বাস্তবতায় কোনো পরিবর্তন আনার সম্ভাবনা কম।
