ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং শি জিনপিংয়ের সাম্প্রতিক আলোচনার পর এক অপ্রত্যাশিত ঐকমত্য তৈরি হয়েছে: আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের স্বার্থে হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত রাখা হবে এবং ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারবে না। মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই ঘোষণাটি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে উভয় শক্তির অগ্রাধিকারের বিষয়টিকেই স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তুলেছে।
বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল সরবরাহ যে হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমে সম্পন্ন হয়, তা দীর্ঘকাল ধরে বিশ্ব অর্থনীতির জন্য একটি স্পর্শকাতর স্থান হিসেবে পরিচিত। ইরানের পক্ষ থেকে যেকোনো ধরণের অবরোধ বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী করে দিতে পারে, যা বিশ্বের বৃহত্তম আমদানিকারক দেশ হিসেবে চীনের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক হবে। ট্রাম্প মার্কিন স্বার্থের দিকে নজর রেখে বেইজিংয়ের সমর্থন আদায়ের জন্য এই যুক্তিটিকেই ব্যবহার করেছেন।
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়টি এই চুক্তির দ্বিতীয় প্রধান কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে। শি জিনপিং, যার সাথে তেহরানের সম্পর্ক ঐতিহাসিকভাবে অর্থনৈতিক সহযোগিতার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে, ইসরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সংঘাত এড়ানোর লক্ষ্যে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপে সম্মত হয়েছেন। বেইজিংয়ের এই সিদ্ধান্ত তাদের বাস্তববাদী দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন, যার লক্ষ্য হলো সরাসরি নিষেধাজ্ঞায় না জড়িয়েও এই অঞ্চলে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা।
ভূ-রাজনীতির প্রেক্ষাপটে উভয় পক্ষের উদ্দেশ্য বেশ স্পষ্ট: ট্রাম্পের জন্য এই চুক্তিটি চীনের সাথে আলোচনার সক্ষমতা দেখিয়ে নির্বাচনের আগে রিপাবলিকানদের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে। অন্যদিকে শির জন্য এটি এশিয়ায় নিজের প্রভাব বৃদ্ধির একটি পথ, যা 'বেল্ট অ্যান্ড রোড' উদ্যোগের ঝুঁকিগুলোকেও কমিয়ে আনবে। এই আলোচনার একটি অপ্রত্যাশিত দিক ছিল সাইবার নিরাপত্তা এবং সামুদ্রিক পথ সংক্রান্ত বিষয়গুলোর অন্তর্ভুক্তি।




