২০২৬ সালের ১৪ মে এক আকস্মিক বৈঠকে মার্কিন ও চীনা নেতা ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং শি জিনপিং বিশ্ব জ্বালানি খাতের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছেন: আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের জন্য হরমুজ প্রণালী অবশ্যই উন্মুক্ত রাখতে হবে।
এই কৌশলগত নৌপথটি দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল সরবরাহ করা হয়, যা দীর্ঘকাল ধরে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র এবং তাদের মিত্রদের মধ্যে উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে রয়েছে। দুই পরাশক্তির এই চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান অস্থিরতার মাঝে স্বার্থের এক বিরল মেলবন্ধনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
উভয় পক্ষের উদ্দেশ্য অত্যন্ত স্পষ্ট: ওয়াশিংটন নির্বাচনের আগে জ্বালানি তেলের দাম স্থিতিশীল রাখতে চায়, আর বেইজিংয়ের লক্ষ্য হলো নিজস্ব অর্থনীতির জন্য কাঁচামালের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা। দুই নেতাই অনুধাবন করছেন যে, এই প্রণালী বন্ধ হয়ে গেলে এমন এক বৈশ্বিক সংকট তৈরি হবে যা থেকে কেউ রেহাই পাবে না।
বিশ্লেষকরা বলছেন, পারস্য উপসাগরের নিরাপত্তা ইস্যু নিয়ে আরও বিস্তৃত আলোচনার ক্ষেত্রে এই চুক্তিটি প্রথম পদক্ষেপ হতে পারে, যদিও অনেক বিশেষজ্ঞ সতর্ক করেছেন যে আঞ্চলিক দেশগুলোর অংশগ্রহণ ছাড়া এমন ঐকমত্য অত্যন্ত ভঙ্গুর হতে পারে।
দীর্ঘমেয়াদে এই ঘটনাটি এই অঞ্চলের ক্ষমতার ভারসাম্য বদলে দিতে পারে, যা সংঘাতের ঝুঁকি কমিয়ে দুই পরাশক্তির মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতার এক নতুন সুযোগ তৈরি করবে।



