বাস্তবক্ষেত্রে প্রয়োগের পর আফ্রিকায় শিশুদের মৃত্যুহার কমাতে আরটিএস,এস (RTS,S) ম্যালেরিয়া টিকা দারুণ কার্যকারিতা দেখিয়েছে। ২০২৬ সালের ৯ মে 'দ্য ল্যানসেট' সাময়িকীতে প্রকাশিত একটি গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, বেশ কয়েকটি আফ্রিকান দেশে এই টিকার ব্যাপক প্রয়োগ ম্যালেরিয়াজনিত শিশু মৃত্যুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করেছে।
গবেষণায় কী ফলাফল পাওয়া গেছে
বিজ্ঞানীরা ঘানা, কেনিয়া এবং মালাউই—এই তিনটি দেশে চার বছর ধরে শিশু মৃত্যুর হার বিশ্লেষণ করেছেন, যেখানে ২০১৯ সাল থেকে শিশুদের লক্ষ্যভিত্তিক ম্যালেরিয়া টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়। গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, টিকাদান শুরু হওয়ার পর এই দেশগুলোতে প্রতি আটটি শিশু মৃত্যুর মধ্যে একটি প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়েছে, যার অর্থ হলো আরটিএস,এস প্রতি বছর হাজার হাজার শিশুর প্রাণ বাঁচাচ্ছে।
আফ্রিকান দেশগুলোতে ম্যালেরিয়া এখনও অন্যতম প্রধান ঘাতক হিসেবে রয়ে গেছে: প্রতি বছর এই রোগে প্রায় ৬,০০,০০০ মানুষ মারা যায়, যাদের বিশাল অংশই ছোট শিশু। আরটিএস,এস, যা আগে ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে ভালো ফলাফল দেখিয়েছিল, এবারই প্রথম গণহারে টিকাদানের ক্ষেত্রে নিজের কার্যকারিতা জোরালোভাবে প্রমাণ করেছে।
প্রয়োগের পরিধি এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
বর্তমানে ২৫টি আফ্রিকান দেশে এই ম্যালেরিয়া টিকা দেওয়া হচ্ছে। যেসব দেশে পরে টিকাদান শুরু হয়েছে, গবেষকরা সেখানেও একই রকম বা আরও ভালো ফল আশা করছেন, কারণ সেখানে টিকাদানের পদ্ধতি এবং সরবরাহ ব্যবস্থা ইতিমধ্যেই সুবিন্যস্ত করা হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ডঃ কেট ও'ব্রায়ান, যিনি এই মূল্যায়নের অন্যতম লেখক, তার মতে এটি "আফ্রিকায় শিশু মৃত্যুর গতিপথ পরিবর্তনের ক্ষেত্রে ম্যালেরিয়া টিকার সম্ভাবনার অত্যন্ত জোরালো প্রমাণ।"
সীমাবদ্ধতা ও চ্যালেঞ্জসমূহ
সাফল্য সত্ত্বেও এখনও অনেক চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে।
- বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা উল্লেখ করেছে যে, দেশগুলো যাতে পর্যাপ্ত পরিমাণ টিকা নিশ্চিত করতে পারে এবং সেই সাথে অন্যান্য প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা (যেমন মশারি, কীটনাশক স্প্রে, কম্বিনেশন থেরাপি) সংগ্রহ করতে পারে, তার জন্য অতিরিক্ত অর্থায়ন প্রয়োজন।
- সবচেয়ে দরিদ্র এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতে, যেখানে সরবরাহ ব্যবস্থা এবং চিকিৎসা সেবার সহজলভ্যতা এখনও একটি কঠিন বিষয়, সেখানে উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা সমস্ত শিশুদের টিকার আওতায় আনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
পরবর্তী পদক্ষেপ
আরটিএস,এস এখন পর্যন্ত আফ্রিকায় ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত একমাত্র ম্যালেরিয়া টিকা, তবে অন্যান্য সম্ভাব্য টিকাগুলো ইতিমধ্যেই উন্নয়ন ও ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের পর্যায়ে রয়েছে।
যদি টিকাদানের পরিধি বাড়ানো এবং প্রতিরোধ ব্যবস্থা আরও উন্নত করা সম্ভব হয়, তবে এটি ম্যালেরিয়ায় মৃত্যুহার নাটকীয়ভাবে কমিয়ে আনার পাশাপাশি সাব-সাহারান আফ্রিকার দেশগুলোর জনতাত্ত্বিক চিত্র পরিবর্তনের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে।




