১৮ জুন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরান সংঘাত প্রশমনে এক চূড়ান্ত পদক্ষেপ নিয়েছে: প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং মাসুদ পেজেশকিয়ান যুদ্ধ বন্ধ ও যুদ্ধপূর্ব পরিস্থিতি পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে একটি প্রাথমিক রূপরেখা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন। এই স্বাক্ষর অনুষ্ঠানটি যুগপৎভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে—মার্কিন নেতা ভার্সাইয়ে স্বাক্ষর করেন এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট তেহরানে বসে এই নথিতে সম্মতি জানান।
চুক্তির প্রধান শর্ত হলো অবিলম্বে হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়া এবং ইরানি বন্দরগুলোর ওপর থেকে মার্কিন নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়া। ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথটি ১৯ জুন থেকেই নৌ-চলাচলের জন্য সম্পূর্ণ উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে এবং এর জন্য কোনো ট্রানজিট ফি প্রদান করতে হবে না। এর বিনিময়ে ইরান তাদের উচ্চ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত ধ্বংস করার দায়ভার গ্রহণ করেছে, যদিও এই প্রক্রিয়ার সুনির্দিষ্ট কর্মপদ্ধতি নিয়ে ঐক্যমতে পৌঁছানো এখনও বাকি।
সব ফ্রন্টে যুদ্ধবিরতির এই খবরে বিশ্ববাজারে তেলের দাম তাৎক্ষণিকভাবে হ্রাস পেয়েছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের ওপর থেকে হুমকি দূর করেছে।
তবে বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে, চূড়ান্ত শান্তির পথ এখনও বেশ কন্টকাকীর্ণ। প্রণালী দিয়ে যাতায়াতের জন্য শুল্ক আদায়ের বিষয়ে তেহরানের আগের দাবির প্রেক্ষিতে এই চুক্তিটি কিছু প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে, এবং গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী ইসরায়েল আপাতত লেবানন থেকে তাদের বাহিনী প্রত্যাহার করতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে। তা সত্ত্বেও, এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরকে একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে, যা দীর্ঘ কয়েক মাসের সামরিক উত্তেজনার অবসান ঘটাচ্ছে।



