জেনারেটিভ আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শিল্প এখন গবেষণাগারের পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর্যায় পেরিয়ে বাস্তব প্রয়োগের স্তরে প্রবেশ করছে। চ্যাটজিপিটি-র নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই (OpenAI) যুক্তরাষ্ট্রে আইপিও (IPO) আবেদনের জন্য গোপনীয় নথিপত্র তৈরির প্রস্তুতি নিচ্ছে। আর্থিক খাতের সূত্রের বরাতে রয়টার্স এবং দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালসহ শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়িক সংবাদমাধ্যমগুলো এই খবর জানিয়েছে। আগামী সেপ্টেম্বর মাসেই এই তালিকাভুক্তি সম্পন্ন হতে পারে এবং এই প্রক্রিয়ার আয়োজক হিসেবে কাজ করছে গোল্ডম্যান স্যাকস ও মরগান স্ট্যানলির মতো বৃহৎ প্রতিষ্ঠানগুলো।
সম্প্রতি একটি সাধারণ অলাভজনক গবেষণাগার হিসেবে কাজ করা এই প্রতিষ্ঠানটি হঠাৎ কেন এমন দ্রুত পদক্ষেপ নিতে শুরু করল? এর পেছনে মূল কারণটি হলো আদালতে আইনি বিজয়। আইপিও-র খবর সামনে আসার ঠিক দুই দিন আগে একটি ফেডারেল জুরি ইলন মাস্কের দায়ের করা মামলাটি খারিজ করে দেন, যেখানে তিনি স্যাম অল্টম্যানের বিরুদ্ধে বাণিজ্যিকীকরণের স্বার্থে একটি 'দাতব্য সংস্থা চুরির' অভিযোগ এনেছিলেন। এই বিশাল আইনি ঝুঁকি দূর হওয়ায় কোম্পানিটির সামনে এখন পাবলিক মার্কেটে প্রবেশের পথ সুগম হয়েছে।
পরিস্থিতির গুরুত্ব আরও বেড়েছে কারণ ওপেনএআই করপোরেট খাতে তাদের প্রধান এবং সবচেয়ে বিপজ্জনক প্রতিদ্বন্দ্বী স্টার্টআপ অ্যানথ্রোপিককে (Anthropic) পেছনে ফেলতে চাইছে, যারা এই বছরেই বাজারে আসার পরিকল্পনা করছে। বিনিয়োগকারীদের পুঁজি সংগ্রহের এই লড়াই বেশ কঠিন হতে চলেছে। বিশেষ করে ইলন মাস্কের স্পেসএক্স (SpaceX) একই সময়ে বাজারে আসার প্রস্তুতি নেওয়ায় তা বিনিয়োগের একটি বড় অংশ নিজের দিকে টেনে নিতে পারে। তাই বড় বড় তহবিলগুলো তাদের বাজেট বরাদ্দ করার আগেই নিজেদের শীর্ষস্থান নিশ্চিত করা ওপেনএআই-এর জন্য অত্যন্ত জরুরি।
এই আইপিও-র সম্ভাব্য আকার কল্পনাকেও ছাড়িয়ে যাচ্ছে। ব্যক্তিগত পর্যায়ে ওপেনএআই-এর সর্বশেষ বাজার মূল্য ছিল ৮৫২ বিলিয়ন ডলার, তবে আইপিও-র মাধ্যমে তারা ১ ট্রিলিয়ন ডলারের এক ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করার লক্ষ্য স্থির করেছে। গত মার্চ মাসেই যখন প্রতিষ্ঠানটি অভূতপূর্ব ১২২ বিলিয়ন ডলারের তহবিল সংগ্রহ করেছে, তখন একটি এআই ল্যাবরেটরির কেন এত বিপুল অর্থের প্রয়োজন হচ্ছে?
এই প্রশ্নের উত্তর লুকিয়ে আছে অবকাঠামো তৈরির খরচের মধ্যে। পরবর্তী প্রজন্মের এআই মডেলগুলো প্রশিক্ষণের জন্য নতুন প্রযুক্তির চিপ এবং বিশাল কম্পিউটিং ক্ষমতা কিনতে ব্যাপক ব্যয়ের প্রয়োজন হয়। পাবলিক স্ট্যাটাস বা শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্তি ওপেনএআই-কে প্রায় সীমাহীন পুঁজির স্থিতিশীল জোগান দেবে, যা নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর কাছে তাদের কাঠামোকে আরও স্বচ্ছ করে তুলবে এবং তীব্র প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতায় কৌশলে এগিয়ে থাকতে সাহায্য করবে। দীর্ঘমেয়াদী বিচারে, এই পদক্ষেপ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে এই দশকের প্রধান অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে, যা গতকালের স্টার্টআপগুলোকে বিশ্ব আর্থিক বাজারের নতুন স্তম্ভে পরিণত করবে।



