লেজার প্রযুক্তিতে প্রথম মহাকাশ বিদ্যুৎ গ্রিড: দাবির বাস্তবতা ও অমীমাংসিত প্রশ্নসমূহ

সম্পাদনা করেছেন: Aleksandr Lytviak

এই প্রকল্পের সাথে সংশ্লিষ্ট একটি প্রতিষ্ঠান বিশ্বের প্রথম মহাকাশ ভিত্তিক বিদ্যুৎ গ্রিড তৈরির পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে, যেখানে কক্ষপথে সৌরশক্তি সংগ্রহ করে লেজার রশ্মির মাধ্যমে পৃথিবীতে পাঠানো হবে। সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, এই ব্যবস্থাকে একটি "চাহিদা অনুযায়ী সৌর ব্যাটারি" হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে, যা দিন-রাত বা আবহাওয়ার তোয়াক্কা না করেই বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে সক্ষম।

বর্তমানে এটি কেবল একটি প্রাথমিক ধারণা এবং গাণিতিক হিসাবের পর্যায়ে রয়েছে, কোনো সচল অবকাঠামো নয়। মহাকাশে তারহীন বিদ্যুৎ সঞ্চালনের আগের পরীক্ষাগুলো ল্যাবরেটরির গণ্ডিতে কয়েক মিটার বা বায়ুমণ্ডলের কয়েক কিলোমিটার দূরত্বের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। নতুন এই প্রস্তাবনায় সৌর প্যানেল সমৃদ্ধ স্যাটেলাইট কক্ষপথে স্থাপন এবং ভূপৃষ্ঠে গ্রাহক যন্ত্র বসানোর কথা বলা হলেও, প্রকৃত দূরত্বে এই সঞ্চালন প্রক্রিয়ার কার্যকারিতা নিয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য এখনও প্রকাশ করা হয়নি।

এই ঘোষণার সাথে বাস্তব রূপায়ণের মূল ব্যবধানটা রয়ে গেছে প্রকল্পের পরিধি বৃদ্ধি এবং নিরাপত্তার ক্ষেত্রে। শত শত কিলোমিটার দূর থেকে লেজার সঞ্চালনের জন্য রশ্মির নিখুঁত লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ, বায়ুমণ্ডলীয় বাধা মোকাবিলা এবং শক্তি যাতে ছড়িয়ে না পড়ে বা কোনো ক্ষতি না করে তার নিশ্চয়তা প্রয়োজন। এই ধরনের অবকাঠামো স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণের খরচ এখনও অনিশ্চিত এবং কক্ষপথের ব্যবহার ও লেজার বিকিরণ সংক্রান্ত নীতিমালার বিষয়টিও অমীমাংসিত।

এর কার্যপদ্ধতি অনুযায়ী, স্যাটেলাইটে প্রথমে সূর্যের আলোকে বিদ্যুতে রূপান্তরিত করা হবে, এরপর সেই বিদ্যুৎ লেজার রশ্মিতে পরিণত হয়ে ভূপৃষ্ঠের স্টেশনে পৌঁছাবে এবং সেখানে পুনরায় বিদ্যুতে রূপান্তরিত হবে। এটি অনেকটা মাইক্রোওয়েভ ট্রান্সমিশনের অপটিক্যাল সংস্করণের মতো, তবে এতে শক্তির ঘনত্ব বেশি এবং মহাশূন্যের শূন্যস্থানে শক্তির বিচ্ছুরণ কম হয়, যদিও বায়ুমণ্ডলের কারণে শক্তির কিছুটা অপচয় ঘটবেই।

এই উদ্যোগের গুরুত্ব মূলত এর প্রযুক্তিগত কার্যকারিতা প্রমাণের মধ্যে নিহিত, জ্বালানি সংকটের তাৎক্ষণিক সমাধান হিসেবে নয়। এটি গবেষণাকে ক্ষুদ্র পরিসরে ব্যবহারিক পরীক্ষার দিকে নিয়ে যেতে পারে, তবে মূল বিদ্যুৎ গ্রিডের সাথে যুক্ত হওয়ার আগে একে প্রকৌশলগত উন্নয়ন এবং নিরাপত্তা যাচাইয়ের বেশ কিছু ধাপ পার করতে হবে।

কক্ষপথের দূরত্বে বিদ্যুৎ সঞ্চালনের প্রকৃত দক্ষতা সম্পর্কে তথ্য প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত, এই প্রকল্প খাতা-কলম থেকে বাস্তবে কতটা দ্রুত রূপ পাবে তা বলা কঠিন।

4 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • World's First Space Power Grid Will Be an On-Demand Solar Battery

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।