গ্রেটার বে টেকনোলজি বৈদ্যুতিক যানবাহনের জন্য তাদের প্রথম 'এ-স্যাম্পল' (A-sample) সলিড-স্টেট ব্যাটারি তৈরির কথা ঘোষণা করেছে। কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, সাধারণ তাপমাত্রায় এই স্যাম্পলগুলো প্রায় ৪০০ ওয়াট-ঘণ্টা/কেজি শক্তির ঘনত্ব প্রদর্শন করে এবং ১০০০ বার চার্জিং সাইকেলের পরেও ৮০ শতাংশের বেশি সক্ষমতা বজায় রাখে।
এগুলো মূলত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রোটোটাইপ, এখনো বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদনের উপযোগী পণ্য নয়। সাধারণত 'এ-স্যাম্পল' দিয়ে প্রাথমিক নকশা এবং প্রযুক্তিগত প্রক্রিয়া যাচাই করা হয়, তবে বাস্তব পরিস্থিতিতে ব্যবহারের জন্য এটি এখনো পূর্ণাঙ্গ যাচাইকরণ বা ভ্যালিডেশন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যায়নি। এই শ্রেণির সলিড-স্টেট সেলের ক্ষেত্রে আগের রেকর্ডটি ছিল ৩৫০-৩৭০ ওয়াট-ঘণ্টা/কেজি-র কাছাকাছি, তাই এই অগ্রগতি উল্লেখযোগ্য হলেও তা এখনো গবেষণাগার এবং প্রাথমিক পর্যায়ের সাফল্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ।
ব্যাপক উৎপাদনের ক্ষেত্রে প্রধান বাধাগুলো হলো নিম্ন তাপমাত্রায় সলিড ইলেকট্রোলাইটের স্থায়িত্ব, উপকরণের উচ্চমূল্য এবং গুণমান বজায় রেখে উৎপাদনের পরিধি বাড়ানো। 'এ-স্যাম্পল' থেকে 'বি' এবং 'সি' সংস্করণে পৌঁছাতে সাধারণত ১৮ থেকে ৩৬ মাস সময় লাগে, আর অটোমোবাইল সার্টিফিকেশনের জন্য নিরাপত্তা ও স্থায়িত্ব সংক্রান্ত আরও অনেক পরীক্ষার প্রয়োজন হয়।
সলিড-স্টেট ব্যাটারিতে লিথিয়াম আয়ন তরল পদার্থের পরিবর্তে কঠিন ইলেকট্রোলাইটের মধ্য দিয়ে চলাচল করে। এটি অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি কমায় এবং অ্যানোডে মেটালিক লিথিয়াম ব্যবহারের সুযোগ দেয়, যা ব্যাটারির শক্তির ঘনত্ব বাড়িয়ে দেয়। বিষয়টি সহজভাবে বোঝার জন্য কল্পনা করুন একটি পাইপ দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে — যদি আপনি পাইপটিকে সুনিয়ন্ত্রিত ছিদ্রযুক্ত একটি পাথুরে কাঠামো দিয়ে প্রতিস্থাপন করেন, তবে প্রবাহ আরও স্থিতিশীল হবে, তবে এর জন্য উপাদানের নিখুঁত সমন্বয় প্রয়োজন।
এই ফলাফলের ফলে প্রথম বাণিজ্যিক সলিড-স্টেট ব্যাটারি বাজারে আসার সম্ভাব্য সময় ২০২৮-২০৩০ সালের কাছাকাছি চলে এসেছে, যদিও এটি প্রতি কিলোওয়াট-ঘণ্টায় ১০০ ডলারের নিচে দাম কমার কোনো গ্যারান্টি দেয় না। বাজারে প্রকৃত প্রভাব ফেলার জন্য বড় আকারের বাণিজ্যিক উৎপাদনে এর কার্যকারিতার প্রমাণ এবং সরাসরি গাড়িতে এর সফল সংযোজন প্রয়োজন।
আপাতত এই 'এ-স্যাম্পল'গুলো প্রযুক্তির কার্যকারিতা প্রমাণ করলেও আগামী কয়েক বছরের মধ্যে এটি অর্থনৈতিকভাবে কতটা সাশ্রয়ী হবে সেই প্রশ্নটি এখনো অমীমাংসিত রয়ে গেছে।



