বার্মিংহামে ইংল্যান্ড পাকিস্তানের বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজে হোয়াইটওয়াশ জয়ের দিকে আত্মবিশ্বাসের সাথে এগিয়ে চলেছে, এবং এটি এখন আর কেবল স্কোরবোর্ডের সংখ্যার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। দুটি বিধ্বংসী পরাজয়ের পর সফরকারী দলটিকে এমন একটি দল বলে মনে হচ্ছে যারা কেবল ম্যাচই হারায়নি, বরং নিজেদের শক্তির ওপর বিশ্বাসও হারিয়েছে।
পাকিস্তান এই সফর শুরু করেছিল একটি ইনিংস এবং 194 রানের ব্যবধানে পরাজয় দিয়ে, আর এজবাস্টনে তৃতীয় টেস্টে তারা আবারও প্রথম ইনিংসে মাত্র 133 রানে ধসে পড়ে। ইংল্যান্ড এর জবাবে 453 রান তোলে, এবং মনে হচ্ছিল খেলাটি তিন দিনেই শেষ হয়ে যাবে। কিন্তু তৃতীয় দিনে পাকিস্তান অপ্রত্যাশিতভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলে: শান মাসুদ 95 রান করেন এবং নয় নম্বরে নামা অভিষিক্ত রাজাউল্লাহ নয়টি ছক্কাসহ 81 রান সংগ্রহ করেন।
দিনের শেষে এই ঝোড়ো ব্যাটিং চতুর্থ দিনের জন্য ইংল্যান্ডের সামনে 130 রানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে দেয়। তবে এই প্রতিরোধ কেবল সমস্যার গভীরতাকেই ফুটিয়ে তুলেছে: পাকিস্তানকে এখন টপ-অর্ডারের স্থিতিশীলতার পরিবর্তে নবাগত এবং লেজসারী ব্যাটসম্যানদের অলৌকিক কিছুর ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।
অন্যদিকে ইংল্যান্ড পদ্ধতিগত শ্রেষ্ঠত্ব প্রদর্শন করছে। জো রুট ‘বেজবল’-এর পর দলকে কঠোর শৃঙ্খলায় ফিরিয়ে এনেছেন, আর আর্চার, রবিনসন এবং টং-এর বোলিং আক্রমণ প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগকে নিয়মতান্ত্রিকভাবে ধ্বংস করে দিচ্ছে। সফরের মাঝপথে কোচ পরিবর্তনের ফলে পাকিস্তানি খেলোয়াড়দের ওপর মানসিক চাপ আরও বেড়েছে।
একে একটি সাধারণ পারিবারিক ঝগড়ার সাথে তুলনা করুন: যখন একজন অংশগ্রহণকারী ক্রমাগত হারতে থাকে এবং মাঝপথে নিয়ম বদলাতে থাকে, তখন অন্যজন কেবল নিজের নিয়মেই খেলা চালিয়ে যায়। ইংল্যান্ড কোনো তাড়াহুড়ো করছে না, তারা কেবল পাকিস্তানিদের ঘুরে দাঁড়ানোর কোনো সুযোগই দিচ্ছে না।
পাকিস্তানি ক্রিকেটের জন্য এটি কেবল হারের একটি সিরিজ নয়। এটি একটি সংকেত যে, দল নির্বাচন, কোচিং এবং মানসিক প্রস্তুতির আমূল পরিবর্তন ছাড়া পরবর্তী সফরগুলো আরও কঠিন হবে। অন্যদিকে ইংল্যান্ড প্রমাণ করছে যে: টেস্ট ক্রিকেটে ধারাবাহিকতা এবং ধৈর্য যে কোনো উজ্জ্বল কিন্তু বিশৃঙ্খল প্রচেষ্টাকে পরাজিত করে।



