IKKT মডেলে স্থান এবং কাল কোনো মৌলিক সত্তা হিসেবে নয়, বরং বিশালাকার ম্যাট্রিক্সের সম্মিলিত আচরণের ফল হিসেবে আবির্ভূত হয়। টোকিও বিশ্ববিদ্যালয় এবং কিয়োটো বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা দেখিয়েছেন যে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে এই ম্যাট্রিক্সগুলো স্বতঃস্ফূর্তভাবে একটি চতুর্মাত্রিক জ্যামিতি গঠন করে, যা আমাদের পর্যবেক্ষণযোগ্য মহাবিশ্বের খুব কাছাকাছি।
২০২৬ সালের মে মাসে arXiv-এ প্রকাশিত একটি গবেষণাপত্রে অধ্যাপক হিদেও মাতসুমোতোর নেতৃত্বাধীন একটি দল সুপারকম্পিউটারে সংখ্যাতাত্ত্বিক সিমুলেশন ব্যবহার করেছেন। তাঁরা ৩২×৩২ আকারের একটি ১০-মাত্রিক ম্যাট্রিক্স বিশ্লেষণ করেছেন এবং মহাকাশে এর 'আইগেনভ্যালু' বা স্বকীয় মানগুলোর বিন্যাস পর্যবেক্ষণ করেছেন। নিম্ন তাপমাত্রায় ম্যাট্রিক্সগুলো এমনভাবে সজ্জিত হয় যে তিনটি স্থানিক মাত্রা প্রসারিত হয়, আর বাকিগুলো সংকুচিত অবস্থায় থাকে।
এই আচরণটি উলের বলের সুতোর মতো, যা নির্দিষ্ট টানে হঠাৎ একটি মজবুত কাপড়ে পরিণত হয়। এখানে সুতোর ভূমিকা পালন করে ম্যাট্রিক্সের স্বকীয় মানগুলো, আর টান হলো তাপমাত্রার প্যারামিটার। এর ফলে কেবল একটি অনিয়মিত কাঠামো নয়, বরং সমতলীয় মেট্রিকের কাছাকাছি একটি মসৃণ স্থান-কাল তৈরি হয়।
কোয়ান্টাম মহাকর্ষের ক্ষেত্রে এই আবিষ্কারটি গুরুত্বপূর্ণ: এটি একটি সুনির্দিষ্ট কৌশল প্রদান করে যে কীভাবে কোনো কৃত্রিম হস্তক্ষেপ ছাড়াই বিশুদ্ধ কোয়ান্টাম পর্যায় থেকে চিরায়ত মহাকাশ তৈরি হতে পারে। যদি বৃহৎ পরিসরের গণনায় এই ফলাফল নিশ্চিত হয়, তবে এটি আমাদের স্ট্রিং থিওরির নন-পার্টার্বেটিভ বর্ণনার এবং সম্ভবত আদি মহাবিশ্ব বোঝার খুব কাছাকাছি নিয়ে যাবে।
গবেষণার ফলাফলগুলো দেখায় যে ম্যাট্রিক্স মডেলগুলো কেবল স্থিতি নয়, বরং মহাকাশ প্রসারণের গতিশীলতাও ব্যাখ্যা করতে সক্ষম। এটি কোয়ান্টাম মহাকর্ষের প্রভাব কোথায় খুঁজতে হবে সে সম্পর্কে আমাদের ধারণা বদলে দেয়—বিদ্যমান মহাকাশের বক্রতায় নয়, বরং ক্ষুদ্র উপাদান থেকে মহাকাশ গড়ে ওঠার প্রক্রিয়ার মধ্যে।




