Perturb-DBiT: টিস্যুর মধ্যেই জিনের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের নতুন পদ্ধতি

মনে করুন, আপনি একটি শহর কীভাবে কাজ করে তা বুঝতে চান। আপনি চাইলে শহরটিকে প্রতিটি ইটের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশে বিভক্ত করে আলাদাভাবে বিশ্লেষণ করতে পারেন। আবার চাইলে এর রাস্তাঘাট, ঘরবাড়ি, মানুষজন এবং তাদের পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়াগুলোকেও একই সাথে পর্যবেক্ষণ করতে পারেন। গবেষকরা Perturb-DBiT নামক নতুন একটি পদ্ধতি উদ্ভাবনের মাধ্যমে ঠিক এই বড় পদক্ষেপটিই নিয়েছেন।

নেচার বায়োটেকনোলজি (Nature Biotechnology) সাময়িকীতে প্রকাশিত 'Perturb-DBiT' পদ্ধতিটি টিস্যুর স্বাভাবিক গাঠনিক অবস্থান বজায় রেখেই একই সাথে জিনে পরিবর্তন আনতে এবং জিনের সক্রিয়তা বিশ্লেষণ করতে সক্ষম।
অধিকাংশ CRISPR স্ক্রিনিংয়ের সমস্যা হলো, বিশ্লেষণের জন্য সাধারণত কোষগুলোকে একে অপরের থেকে বিচ্ছিন্ন করতে হয়। এর ফলে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হারিয়ে যায়—আর তা হলো কোষের পারিপার্শ্বিক পরিবেশ। কিন্তু জীবদেহে একটি কোষের ভবিষ্যৎ কেবল তার জিনের ওপর নয়, বরং তার প্রতিবেশী কোষ, চারপাশের সংকেত এবং টিস্যুর মধ্যে তার অবস্থানের ওপরও নির্ভর করে।
Perturb-DBiT এই পারিপার্শ্বিক মানচিত্রটি বজায় রাখতে সাহায্য করে। বিজ্ঞানীরা এখন একই সাথে জিনে পরিবর্তন আনতে পারেন এবং টিস্যুর খণ্ডিতাংশের ভেতরে কোষগুলো কীভাবে প্রতিক্রিয়া দেখায় তা সরাসরি দেখতে পারেন। মূলত এটি একটি বিস্তারিত মানচিত্র তৈরি করে, যেখানে কেবল কোন কোন জিন পরিবর্তন করা হয়েছে তাই নয়, বরং সেই পরিবর্তনগুলো পার্শ্ববর্তী কোষের ওপর কী প্রভাব ফেলছে তাও দেখা যায়।
টিউমার গবেষণার ক্ষেত্রে এই পদ্ধতিটি বিশেষভাবে সহায়ক হতে পারে। এমনকি একই টিউমারের কোষগুলো প্রায়ই ভিন্ন ভিন্ন আচরণ করে: কিছু কোষ চিকিৎসায় ভালো সাড়া দেয়, আবার কিছু কোষ প্রতিরোধ গড়ে তোলে। এই নতুন পদ্ধতিটি টিস্যুর স্বাভাবিক অণু-পরিবেশের মধ্যেই এই পার্থক্যের কারণগুলো খুঁজে পেতে সাহায্য করে।
পৃথক কোষ নিয়ে গবেষণার স্তর পেরিয়ে প্রকৃত জৈবিক সিস্টেমে জেনেটিক পরিবর্তনগুলো কীভাবে কাজ করে, তা বোঝার ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। কেননা টিস্যু কেবল কোষের সমষ্টি নয়, বরং একটি জটিল বাস্তুতন্ত্র, যেখানে জিনের চেয়েও অনেক সময় পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি বা প্রেক্ষাপট বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।




