রাশিয়ার বিজ্ঞানীরা অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধের বিস্তার সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া উন্মোচন করেছেন। দেখা গেছে যে, ব্যাকটেরিয়ার মধ্যে এই প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পন্ন জিনের স্থানান্তর বহুলাংশে বিশেষ কিছু প্রোটিনের ওপর নির্ভর করে, যা 'অ্যান্টি-ক্রিসপার' (anti-CRISPR) নামে পরিচিত।

বহু ব্যাকটেরিয়ার নিজস্ব 'ক্রিসপার-ক্যাস' (CRISPR-Cas) নামক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে। এটি অনেকটা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার মতো কাজ করে এবং কোষে প্রবেশ করা বাইরের কোনো ডিএনএ-কে শনাক্ত করতে সক্ষম।
তবে প্লাজমিড—যা অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী জিন বহনকারী ছোট বৃত্তাকার ডিএনএ অণু—এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দেওয়ার কৌশল শিখে নিয়েছে। গবেষকরা দেখেছেন যে, অ্যান্টি-ক্রিসপার প্রোটিনগুলো ব্যাকটেরিয়ার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে দমন করতে পারে এবং এর মাধ্যমে প্লাজমিডগুলোকে বিভিন্ন প্রজাতির জীবাণুর মধ্যে সফলভাবে ছড়িয়ে পড়তে সাহায্য করে।
বিশেষ উদ্বেগের বিষয় হলো, আবিষ্কৃত প্রোটিনগুলোর মধ্যে কিছু প্রোটিন অত্যন্ত বৈচিত্র্যময় ক্রিসপার-ক্যাস সিস্টেমের বিরুদ্ধেও কাজ করতে পারে। এর ফলে প্লাজমিডগুলো এমন সব ব্যাকটেরিয়ার মধ্যেও যাতায়াত করতে পারে, যেগুলো বিবর্তনীয় দিক থেকে একে অপরের চেয়ে অনেক আলাদা।
গবেষকরা একটি নতুন অ্যান্টি-ক্রিসপার প্রোটিনও খুঁজে পেয়েছেন যার কাজ করার পদ্ধতি বেশ ভিন্ন ও অস্বাভাবিক। ধারণা করা হচ্ছে, এটি ব্যাকটেরিয়ার রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার প্রোটিনের ওপর নয়, বরং সরাসরি এর ডিএনএ-র ওপর কাজ করে।
এই গবেষণার ফলাফলগুলো অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধ ক্ষমতা কেন এত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে, তা আরও ভালোভাবে বুঝতে সাহায্য করে। ভবিষ্যতে এই জ্ঞান এমন পদ্ধতি তৈরিতে সহায়ক হতে পারে, যা সরাসরি ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস না করে বরং তাদের মধ্যে বিপজ্জনক জিনের স্থানান্তর ঠেকাবে।




