ছায়াপথের মিলনের ফলেই সৃষ্টি হয় মহাবিশ্বের সবচেয়ে দানবীয় কৃষ্ণগহ্বর

সম্পাদনা করেছেন: Aleksandr Lytviak

যখন দুটি ছায়াপথ বা গ্যালাক্সি একে অপরের কাছাকাছি আসে, তখন তাদের কেন্দ্রে থাকা কৃষ্ণগহ্বরগুলো কেবল একে অপরের মুখোমুখিই হয় না—তারা এমন এক নাচের সূচনা করে যা শেষ পর্যন্ত এক দানবীয় বস্তুর জন্ম দেয়। এই ধরণের মহাজাগতিক বস্তুর ভর কোটি কোটি সূর্যের সমান হতে পারে এবং গ্যাসের ধীর গতির শোষণের চেয়ে এই মিলনই তাদের ভর দ্রুত বৃদ্ধিতে সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকা রাখে।

জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা লক্ষ্য করেছেন যে, সবচেয়ে ভারী অতিভরের কৃষ্ণগহ্বরগুলো মূলত সেই সব গ্যালাক্সিতেই অবস্থান করে যেখানে সাম্প্রতিক সংঘর্ষের চিহ্ন স্পষ্ট। গ্যালাক্সিগুলো কাছাকাছি আসার সাথে সাথে তাদের কেন্দ্রগুলোও নিকটবর্তী হতে থাকে, এক সময় গতি হারায় এবং শেষ পর্যন্ত একে অপরের সাথে মিশে যায়। প্রতিটি মিলনের ফলে কৃষ্ণগহ্বরের মোট ভরের সাথে এক বিশাল অংশ যুক্ত হয়, যা কয়েক শ কোটি বছর ধরে ধীরে ধীরে বড় হওয়ার প্রয়োজনীয়তাকে দূর করে দেয়।

জলের মধ্যে দুটি বিশাল ঘূর্ণাবর্তের কথা কল্পনা করুন: যখন তারা মিলে যায়, তখন তৈরি হওয়া সাধারণ ঘূর্ণাবর্তটি আগের দুটির তুলনায় অনেক বেশি গভীর এবং প্রশস্ত হয়ে ওঠে। কৃষ্ণগহ্বরগুলোর ক্ষেত্রেও ঠিক একই ঘটনা ঘটে—তাদের মহাকর্ষীয় 'ঘূর্ণাবর্তগুলো' একত্রিত হয় এবং এই প্রক্রিয়ায় প্রচণ্ড শক্তির বিচ্ছুরণ ঘটায় যা আমরা কোয়াসার হিসেবে দেখতে পাই।

এই আবিষ্কার পূর্বের ধারণা বদলে দিচ্ছে: আগে মনে করা হতো যে আশেপাশের গ্যাস শান্তভাবে শোষণের মাধ্যমেই কৃষ্ণগহ্বরগুলো বড় হয়। এখন এটি পরিষ্কার যে ভরের এই আকস্মিক উল্লম্ফন মূলত গ্যালাক্সিগুলোর পারস্পরিক মিলনের সময়েই ঘটে থাকে। মহাবিশ্বের প্রাথমিক যুগে যখন গ্যালাক্সিগুলো বড় বড় স্তবকে পরিণত হচ্ছিল, তখন এই ধরণের ঘটনা বেশ নিয়মিত ছিল।

এই প্রক্রিয়ার কার্যপদ্ধতি বুঝতে পারা মহাকর্ষীয় তরঙ্গের সবচেয়ে শক্তিশালী উৎসগুলো খুঁজে বের করতে এবং মহাকাশের আদি দানবগুলোর বিবর্তন বুঝতে সাহায্য করে। সবচেয়ে বড় কৃষ্ণগহ্বরগুলো কেবল ধীরগতির সঞ্চয়ের ফল নয়, বরং এগুলো মহাজাগতিক সংঘর্ষের এক প্রত্যক্ষ ফলাফল।

16 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • The Universe’s Biggest Black Holes May Be Forged in Violent Mergers

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।