২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রেসিডেন্ট এমন একটি আইনে স্বাক্ষর করেছেন যা ডিজিটাল মুদ্রাকে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পত্তির মর্যাদা দিয়েছে—তবে শুধুমাত্র দণ্ডবিধির আওতায়। ৩ মার্চ থেকে এই নিয়ম কার্যকর হয়েছে: এখন থেকে তদন্তকারীরা ফ্ল্যাট বা গাড়ির মতোই বিটকয়েন বা ইথারিয়ামও বাজেয়াপ্ত করতে পারবেন। পরিহাসের বিষয় হলো, যা আগে 'মালিকহীন অর্থ' হিসেবে গণ্য হতো, তা হঠাৎ এমন এক মর্যাদা পেল যা রাষ্ট্র রক্ষা করতে এবং কেড়ে নিতে—উভয়ই জানে।
এখন পর্যন্ত রাশিয়ায় ক্রিপ্টোকারেন্সি একটি অস্পষ্ট বা ‘গ্রে জোনে’ অবস্থান করছিল। এটি মাইনিং করা বা জমা রাখা যেত, কিন্তু বিবাহবিচ্ছেদ, দেউলিয়াত্ব বা ফৌজদারি মামলার ক্ষেত্রে আদালত প্রায়শই এই সম্পদগুলোকে স্বীকৃতি দিতে অস্বীকার করত। এখন পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে। ফেডারেল আইন নং ৩৮-এফজেড রুশ দণ্ডবিধির ১০৪.১ ধারা এবং ফৌজদারি কার্যবিধিতে সংশোধনী এনেছে: ডিজিটাল অর্থ এখন সম্পদে পরিণত হয়েছে, যা বাজেয়াপ্ত, ক্রোক এবং সরকারি আইডেন্টিফায়ার ঠিকানায় স্থানান্তর করা সম্ভব। এই প্রক্রিয়ায় বিশেষজ্ঞের অংশগ্রহণ এবং স্টোরেজ ডিভাইস সিলগালা করা প্রয়োজন—এমন সব প্রযুক্তিগত বিবরণ যা আগে ছিল না।
এই পদক্ষেপের পেছনে সুস্পষ্ট স্বার্থ রয়েছে। রাষ্ট্র মানিলন্ডারিং ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের একটি হাতিয়ার পেল এবং সেই সঙ্গে ঋণ ও কর আদায়ের সুযোগও তৈরি হলো। একই সাথে সম্পদের মালিকরা প্রথমবারের মতো আইনি সুরক্ষা পাচ্ছেন: সাংবিধানিক আদালত জানুয়ারিতেই নিশ্চিত করেছে যে ক্রিপ্টোকারেন্সির সম্পত্তির অধিকার রক্ষা করা আবশ্যক। অর্থাৎ, এখন থেকে বিবাহবিচ্ছেদের সময় এই সম্পদ ভাগ করা যাবে, উত্তরাধিকার সূত্রে হস্তান্তর করা যাবে এবং দেউলিয়াত্ব প্রক্রিয়ার অন্তর্ভুক্ত করা যাবে—তবে এগুলো লুকিয়ে রাখা এখন আরও কঠিন হবে।
মস্কোর শহরতলির একটি সাধারণ পরিবারের কথা ভাবুন: স্বামী তার সঞ্চয়ের একটি অংশ বিটকয়েনে রেখেছিলেন, যা স্ত্রী জানতেন না। আগে সম্পত্তি ভাগের সময় এই মুদ্রাগুলো হিসাব থেকে সহজেই ‘উধাও’ হয়ে যেতে পারত। এখন আদালত হিসাব চাইবে এবং স্ত্রী তার অংশের দাবি করতে পারবেন। এর তুলনাটা সহজ: একটি বুনো জঙ্গল এখন ঘেরা জমিতে পরিণত হয়েছে—গাছগুলো আগের মতোই আছে, কিন্তু বেড়া দেওয়া হয়েছে এবং মালিক এখন পরিচিত।
সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য এর ফলাফল দ্বিমুখী। একদিকে, বৈধ মর্যাদা ব্যাংক ও নোটারি পাবলিকদের সাথে লেনদেন সহজ করে তুলবে। অন্যদিকে, কর তদন্ত এবং অ্যাকাউন্ট ব্লক হওয়ার সম্ভাবনা বাড়বে। ইতিমধ্যেই এমন কিছু সংশোধনী নিয়ে আলোচনা চলছে যা ব্যাংক অফ রাশিয়াকে ক্রিপ্টোকারেন্সি প্রচলন নিয়ন্ত্রণ এবং এক্সচেঞ্জগুলোর জন্য শর্ত আরোপের ক্ষমতা দেবে। রুশ কার্ড ব্যবহার করে বিদেশি প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ক্রিপ্টো কেনা এখন সমস্যাযুক্ত হয়ে উঠতে পারে।
এখন মূল প্রশ্ন ‘ক্রিপ্টো রাখা যাবে কি না’ তা নয়, বরং ‘কিভাবে এর সঠিক হিসাব রাখা হবে’। যারা দীর্ঘদিন ধরে ডিজিটাল সম্পদকে বিনিয়োগের বৈচিত্র্য আনার উপায় হিসেবে দেখছিলেন, তারা অতিরিক্ত সুরক্ষা পেলেন। যারা পূর্ণ গোপনীয়তার আশা করেছিলেন, তাদের জন্য বাড়তি ঝুঁকি তৈরি হলো। পরিশেষে, রাষ্ট্র ক্রিপ্টোকারেন্সি নিষিদ্ধ করেনি, বরং এটিকে স্রেফ নথিবদ্ধ করেছে—যেমনটি একসময় বৈদেশিক মুদ্রার অ্যাকাউন্ট এবং বিদেশের স্থাবর সম্পত্তির ক্ষেত্রে করা হয়েছিল।
