বিটকয়েন এখন টানা পঞ্চম সেশনের মতো ৫৯ থেকে ৬০ হাজার ডলারের একটি সংকীর্ণ পরিসরে লেনদেন হচ্ছে। আপাতদৃষ্টিতে এটি সাধারণ এক স্থিতাবস্থা মনে হলেও, বিশ্লেষকরা একে প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস হিসেবে না দেখে বরং ক্রমবর্ধমান দুর্বলতার সংকেত হিসেবে বিবেচনা করছেন।
২০২৪ সালে উর্ধ্বমুখী প্রবণতার মাঝে এমন বিরতি বাজারকে নতুন করে শক্তি সঞ্চয়ে সহায়তা করেছিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতি ভিন্ন: বিটকয়েনের দাম এখন মূল মুভিং এভারেজ—৫০ দিনের এবং ২০০ দিনের—গড়ের নিচে অবস্থান করছে, যা কি না এখন নিম্নমুখী। এটি আসলে ঘুরে দাঁড়ানোর কোনো ভিত্তি নয় বরং একটি নিম্নমুখী প্রবণতার ধ্রুপদী লক্ষণ।
FxPro-এর প্রধান বাজার বিশ্লেষক অ্যালেক্স কুপতসিকেভিচ বর্তমানের এই স্থিতাবস্থাকে সরাসরি "বুলিশ বিনিয়োগকারীদের জন্য যথেষ্ট বিপজ্জনক" বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর মূল্যায়ন অনুযায়ী, এই সীমা ভেঙে দাম নিচে নেমে গেলে পরবর্তী বড় লক্ষ্যমাত্রা হতে পারে প্রায় ৪০ হাজার ডলার। অন-চেইন নির্দেশকগুলোও একই পরিণতির দিকে ইঙ্গিত দিচ্ছে: দীর্ঘমেয়াদী হোল্ডাররা লোকসান মেনে নিয়ে শেয়ার বিক্রি করতে শুরু করেছেন, যা অতীতের চক্রগুলোতে বড় ধরনের পতনের পূর্বলক্ষণ ছিল।
বাইরের চাপও ক্রমশ বাড়ছে। বৃহত্তম কর্পোরেট হোল্ডার কোম্পানি—স্ট্রেটেজি (Strategy)—তাদের ব্যালেন্স শিট শক্তিশালী করতে ১০০ কোটি ডলারের বেশি মূল্যের বিটকয়েন বিক্রির কথা বিবেচনা করছে। একই সময়ে ডলার শক্তিশালী হচ্ছে এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) খাতের জোয়ারে পুঁজি মার্কিন শেয়ার বাজারে চলে যাচ্ছে। বিটকয়েনের জন্য এটি একটি দ্বিমুখী আঘাত: প্রতিকূল সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিবেশ এবং তারল্য সংকট।
এমন এক নদীর কথা কল্পনা করুন যা সাধারণত বৃষ্টির পরে উপচে পড়ে। বর্তমানে এটি একটি সংকীর্ণ গিরিখাতে আগের গতির চেয়ে অনেক নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তীরের সামান্য ফাটলও পুরো স্রোতকে কোনো বাধা ছাড়াই নিচের দিকে আছড়ে ফেলতে পারে। ক্রিপ্টোকারেন্সি বাজারের বর্তমান চিত্রটি ঠিক এমনই।
ব্যক্তিগত বিনিয়োগকারীদের কাছে এটি কেবল একটি নিছক গ্রাফ নয়। এই ধরনের মুহূর্তে পজিশন ধরে রাখা বা লাভ-লোকসান বুঝে নেওয়ার সিদ্ধান্তই ঠিক করে দেয় যে সামগ্রিক পরিবর্তনের ফলে ব্যক্তিগত পুঁজি কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এই সীমার মধ্যে বজায় থাকা আপাত শান্তি আসলে বিভ্রান্তিকর: এটি মূলত বাজারে চাহিদার অভাব এবং বড় বড় বিনিয়োগকারীদের প্রস্থান করার প্রস্তুতির বিষয়টিই আড়াল করছে।
পরিশেষে বিটকয়েন মনে করিয়ে দিচ্ছে: নিম্নমুখী বাজারে স্তব্ধতা প্রায়শই স্পষ্ট অস্থিরতার চেয়েও বেশি ব্যয়বহুল হয়ে দাঁড়ায়।



