পোষা প্রাণীর ভাষা বোঝার চ্যালেঞ্জ: চীনা এআই কলার 'পেটিচ্যাট' কি আসলেই মনের ভাব অনুবাদ করতে পারে?

লেখক: Svitlana Velhush

চীনে প্রাণীদের ভাষার অনুবাদকটি উপস্থাপন করা হয়েছে।

অনেক বিড়াল বা কুকুর মালিকই স্বপ্ন দেখেন তাদের পোষা প্রাণীটি খালি বাটির দিকে তাকিয়ে কী ভাবছে বা বন্ধ দরজার ওপাশে কেন ঘেউ ঘেউ করছে তা জানতে। চীনে এই ইচ্ছাকেই একটি বাণিজ্যিক পণ্যে রূপ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। হ্যাংজু-ভিত্তিক স্টার্টআপ মেং শিয়াওয়ি (Meng Xiaoyi) বাজারে এনেছে ক্ষুদ্রাকৃতির 'পেটিচ্যাট' (PettiChat) কলার, যা প্রাণীদের ডাক স্মার্টফোনের পর্দায় টেক্সট মেসেজ হিসেবে অনুবাদ করার প্রতিশ্রুতি দেয়। মে মাসের প্রি-অর্ডার পর্যায়েই ৭৯৯ ইউয়ান (প্রায় ১১৮ ডলার) দামের এই ডিভাইসটি ১০ হাজারেরও বেশি মানুষ কিনেছেন। প্রযুক্তি কি আসলেই ভিন্ন প্রজাতির সাথে যোগাযোগের দোরগোড়ায় পৌঁছে গেছে, নাকি এটি কেবল একটি দামি ডিজিটাল খেলনা মাত্র?

এই গ্যাজেটটির হার্ডওয়্যার অংশের ওজন মাত্র ২৭ গ্রাম। কলারটি প্রাণীর করা শব্দ রেকর্ড করে এবং বিল্ট-ইন অ্যাক্সিলারোমিটারের সাহায্যে তাদের শারীরিক অঙ্গভঙ্গি পর্যবেক্ষণ করে।

এরপর তথ্যগুলো ক্লাউডে পাঠানো হয়, যেখানে আলিবাবা ক্লাউডের 'কিউওয়েন' (Qwen) ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল সেগুলো বিশ্লেষণ করে। নির্মাতাদের দাবি, এই সিস্টেমটি ১৫ লক্ষ অডিও রেকর্ডিংয়ের ওপর ভিত্তি করে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এবং এটি ৯৪.৬ শতাংশ নির্ভুলতার সাথে ২০টি ভিন্ন মানসিক অবস্থা শনাক্ত করতে সক্ষম। অ্যাপটি মাত্র এক সেকেন্ডের মধ্যেই 'আমি খেলতে চাই' বা 'আমি ভয় পাচ্ছি'-র মতো তৈরি করা বাক্য প্রদর্শন করে।

তবে বৈজ্ঞানিক মহল এ ধরনের পরিসংখ্যানকে সন্দেহের চোখেই দেখছে। জীববিজ্ঞানী এবং প্রাণীদের আচরণ বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন যে, শব্দ করা প্রাণীদের যোগাযোগের একটি ক্ষুদ্র অংশ মাত্র।

কুকুর এবং বিড়াল মূলত পারিপার্শ্বিক অবস্থা, গন্ধ, মুখের ভঙ্গি এবং লেজের অবস্থানের মাধ্যমে যোগাযোগ করে। একই শব্দ ভিন্ন ভিন্ন পরিস্থিতিতে সম্পূর্ণ আলাদা অর্থ বহন করতে পারে। বাস্তব ঘরোয়া পরিবেশে টেলিভিশন বা ভ্যাকিউম ক্লিনারের শব্দের মাঝে অ্যালগরিদমের নির্ভুলতা কমে যাওয়াটাই স্বাভাবিক। বিশেষায়িত ফোরামগুলোতে এই নতুন উদ্ভাবনটিকে ইতিমধ্যে বিদ্রূপ করে মানুষের 'আইকিউ টেস্ট' হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছে।

তা সত্ত্বেও, পেটিচ্যাটের আবির্ভাব প্রযুক্তির উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক নির্দেশ করছে। মোশন সেন্সরের সাথে বড় ল্যাঙ্গুয়েজ মডেলগুলোর সমন্বয় ভবিষ্যতে পশুচিকিৎসা সেবার মান উন্নত করতে পারে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এখনই কুকুরের মনের সঠিক চিন্তা অনুবাদ করতে না পারলেও, এটি মানসিক চাপ বা ব্যথার এমন সূক্ষ্ম নমুনা শনাক্ত করতে পারে যা মানুষের চোখে ধরা পড়ে না। এটি মূলত স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণের আরও সংবেদনশীল ব্যবস্থা তৈরির একটি ধাপ, যেখানে নিউরাল নেটওয়ার্ক কোনো অনুবাদক নয় বরং একজন সতর্ক সহকারী হিসেবে কাজ করবে।

38 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • AI-Powered Dog Collar 'Translates' Barks Into Emotions

  • AI-Powered Dog Collar 'Translates' Barks Into Emotions

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।
পোষা প্রাণীর ভাষা বোঝার চ্যালেঞ্জ: চীনা এআ... | Gaya One