ভারত ও চীন — এশিয়ার দুটি বৃহত্তম জনসংখ্যার শক্তি এবং পারমাণবিক শক্তি, যাদের মধ্যে হিমালয়ে প্রায় 3800 কিমি দীর্ঘ একটি সাধারণ সীমান্ত বিরোধ রয়েছে — তারা বহু বছরের সীমান্ত বিরোধের সমাধান খোঁজার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে সম্মত হয়েছে। উভয় দেশের প্রকাশিত আট-দফা যৌথ নথিতে এই কথা বলা হয়েছে, যা 26 আগস্ট 2026 সালে বিশেষ প্রতিনিধিদের 25তম রাউন্ড আলোচনার পরে প্রকাশিত হয়।
উচ্চপদস্থ কূটনীতিকদের বৈঠকটি 25 আগস্ট বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত হয়। ভারতের পক্ষে প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল এবং চীনের পক্ষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই উপস্থিত ছিলেন। উভয় পক্ষ বহু বছরের সংঘাত, যার মধ্যে 2020 সালের গালওয়ান উপত্যকায় সংঘর্ষ, যেখানে কয়েক ডজন সেনা নিহত হয়েছিল, তার প্রেক্ষিতে 'সমন্বিত, গভীর এবং বন্ধুত্বপূর্ণ' সংলাপ চালানোর প্রস্তুতি প্রকাশ করেছে।
আলোচনাগুলি 2005 সালে স্বাক্ষরিত সীমান্ত সমস্যা সমাধানের রাজনৈতিক পরামিতি এবং নির্দেশিকা সংক্রান্ত চুক্তির ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে। এই নথি অনুসারে, চূড়ান্ত সমাধানটি কয়েকটি ধাপে সম্পন্ন হবে: প্রথমে সাধারণ নীতিগুলির সম্মতি, তারপর একটি কাঠামো চুক্তি, এবং শেষ পর্যন্ত সীমান্তের বিরোধপূর্ণ অংশগুলির প্রকৃত সীমানা নির্ধারণ।
যৌথ বিবৃতিতে উভয় পক্ষ নিশ্চিত করেছে যে সীমান্ত নির্ধারণের বিশেষজ্ঞ দল এবং সীমান্ত ব্যবস্থাপনা কর্মদলকে শীঘ্রই তাদের কার্যাবলী সম্মত করতে হবে। এছাড়াও, উভয় পক্ষ জেনারেল এবং সিনিয়র সামরিক কমান্ডারদের স্তরে অতিরিক্ত বৈঠক করার এবং সীমান্তের পূর্ব ও মধ্য সেক্টরে দুটি নতুন হটলাইন স্থাপন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে — যা মাটিতে অপ্রত্যাশিত সংঘর্ষ প্রতিরোধের লক্ষ্যে একটি পদক্ষেপ।
আলোচনার এজেন্ডায় আন্তঃসীমান্ত নদী সংক্রান্ত প্রক্রিয়া ফিরে এসেছে: উভয় পক্ষ সেপ্টেম্বরে বিশেষজ্ঞ সংস্থার পরবর্তী বৈঠক করার এবং বিরোধপূর্ণ অঞ্চল দিয়ে প্রবাহিত নদীগুলির জলতাত্ত্বিক তথ্য নিয়মিত বিনিময় চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছে। উভয় দেশ সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার মৌলিক প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে এবং বিদ্যমান কূটনৈতিক ও সামরিক চ্যানেলের মাধ্যমে মাটিতে উদ্ভূত যেকোনো পরিস্থিতি দ্রুত সমাধান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
রাজনৈতিক অগ্রগতির পাশাপাশি, উভয় পক্ষ বাণিজ্য ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ে একটি কৌশলগত 'গলানো' লক্ষ্য করছে। তিনটি সীমান্ত বাণিজ্য পয়েন্ট পুনরায় খোলা হয়েছে, এবং তিব্বত স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলে পবিত্র কৈলাস পর্বত ও মানস সরোবর হ্রদ পরিদর্শনকারী ভারতীয় তীর্থযাত্রীদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। উভয় দেশ বাণিজ্য ও তীর্থযাত্রায় সহযোগিতা সম্প্রসারণের ইচ্ছা প্রকাশ করেছে, যা পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং দীর্ঘমেয়াদী সংলাপের পরিবেশ জোরদার করার উদ্দেশ্যে।
এই বিষয়গুলিতে সমন্বয় বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি ভারতে অনুষ্ঠিতব্য ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আগে, যেখানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যে বৈঠক সম্ভব। বিশ্লেষকরা বর্তমান আলোচনাকে উচ্চ পর্যায়ের কৌশলগত সংলাপের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করার জন্য উভয় শক্তির প্রচেষ্টা হিসাবে দেখছেন।
