২০২৬ সালের ৩ জুন ব্লুমবার্গের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, চীন, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় দেশগুলোসহ ৬০টি সহযোগী দেশের আমদানিকৃত পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ১০ শতাংশ বা ১২.৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের প্রস্তাব দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। সরবরাহ শৃঙ্খলে জোরপূর্বক শ্রমের ব্যবহারের বিষয়ে চলমান একটি তদন্তের প্রেক্ষিতে এই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
ব্লুমবার্গের একটি ভিডিওতে জোর দিয়ে বলা হয়েছে যে, এই উদ্যোগটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি বড় অংশের বাণিজ্যিক অংশীদারদের অন্তর্ভুক্ত করেছে। দাপ্তরিক বিবৃতিতে জোরপূর্বক শ্রমের মাধ্যমে উৎপাদিত পণ্য থেকে মার্কিন বাজারকে সুরক্ষা দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করা হলেও, দেশ নির্বাচনের সঠিক মাপকাঠিগুলো মূল প্রতিবেদনে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
এই তদন্ত ইলেকট্রনিক্স, বস্ত্র এবং কৃষি পণ্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোকে প্রভাবিত করছে। ব্লুমবার্গের তথ্যমতে, নতুন এই শুল্ক আমেরিকান ভোক্তাদের জন্য পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিতে পারে এবং এশিয়া ও ইউরোপ থেকে পণ্য সরবরাহের লজিস্টিক ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপটি বাণিজ্য চুক্তিগুলো পুনর্বিবেচনা করার একটি বৃহত্তর কৌশলের অংশ। যুক্তরাজ্য এবং ইউরোপীয় দেশগুলো, যারা আগে ওয়াশিংটনের সাথে স্থিতিশীল সম্পর্কের প্রত্যাশা করেছিল, তারা এখন অতিরিক্ত বাধার সম্মুখীন হচ্ছে, যা তাদের বিকল্প বাজার খুঁজতে ত্বরান্বিত করতে পারে।
এই ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হিসেবে চীন গত কয়েক বছর ধরেই এ ধরনের বিধিনিষেধের মোকাবিলা করছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, চীনের জন্য শুল্কের হার হবে ১২.৫ শতাংশ, যা বর্তমান শুল্কের সাথে যুক্ত হবে এবং এটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলে উৎপাদন শৃঙ্খল স্থানান্তরের প্রক্রিয়াকে আরও উসকে দিতে পারে।
ইউরোপীয় রপ্তানিকারকদের জন্য এই নতুন নিয়ম মানে হলো তাদের মূল্য নির্ধারণ নীতি পুনর্মূল্যায়ন করা এবং সম্ভবত নতুন বাণিজ্যিক কাঠামোর বিষয়ে আলোচনা দ্রুত করা। ব্লুমবার্গ উল্লেখ করেছে যে, কোম্পানিগুলো ইতিমধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য সরবরাহের ক্ষেত্রে তাদের লাভের মার্জিনের ওপর এর প্রভাব খতিয়ে দেখতে শুরু করেছে।
পরিশেষে, সূত্রের খবর অনুযায়ী, ২০২৬ সালের এই শুল্ক নীতি বিশ্ব বাণিজ্যের খণ্ডন প্রবণতাকে আরও জোরালো করছে এবং কোম্পানিগুলোকে পণ্যের উৎস সম্পর্কে আরও সতর্ক হওয়ার তাগিদ দিচ্ছে। উল্লেখ্য যে, এই উদ্যোগটি বর্তমানে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির (USTR) কার্যালয়ের একটি প্রস্তাবনা পর্যায়ে রয়েছে এবং এটি এখনও চূড়ান্তভাবে কার্যকর করা হয়নি।



