আস্তানায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দল কুস্তির পূর্ণাঙ্গ বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপে ইতিহাসে প্রথমবার সবচেয়ে বেশি স্বর্ণপদক জিতেছে — সাতটি, যেখানে ইরানের ছয়টি। এটি কেবল তালিকার একটি সংখ্যা নয়, বরং এমন এক ক্রীড়ায় শক্তির গভীর পুনর্বিন্যাসের সংকেত, যেখানে দশক ধরে অন্য দেশগুলো প্রাধান্য বিস্তার করেছিল।
মার্কিনীরা মোট 15টি পদক জিতেছে, সামগ্রিক সংখ্যায় ইরানের সমান হয়েছে, তবে স্বর্ণে তাকে ছাড়িয়ে গেছে। রাশিয়া চারটি স্বর্ণ নিয়ে তৃতীয় স্থানে থেকেছে। একই সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রথমবার এক সপ্তাহে নারী ও পুরুষ ফ্রিস্টাইল কুস্তি—উভয় বিভাগেই দলগত শিরোপা জিতেছে, যা এক বিরল সমন্বয় এবং সব স্তরে সুশৃঙ্খল কাজের পরিচয় দেয়।
শুষ্ক সংখ্যার পেছনে কেবল আলাদা আলাদা কুস্তিগীরদের প্রতিভা নয়, বরং একটি কৌশলও রয়েছে: দলের গভীরতার ওপর জোর, একাধিক ওজন শ্রেণিতে প্রস্তুতি এবং নারীদের কর্মসূচির সংযুক্তিকরণ। স্পেন্সার লি, কাইল স্নাইডার, কাইল ডেক, বো ব্যাসেট এবং লেভি হেইন্স আর কেবল আলাদা তারকা নন, বরং এমন এক সম্পূর্ণ প্রজন্ম, যারা প্রায় সব ওজন শ্রেণি সামলাতে সক্ষম।
নারী দলের উদাহরণ বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ: 19 বছর বয়সী এভারেস্ট লেইডেকার এবং আদাউগো নোয়াচুকভু স্বর্ণ এনে দিয়েছেন, আর সামগ্রিক ফলাফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জাপান ও চীনকে ছাড়িয়ে গেছে। এটি কোনো আকস্মিক উত্থান নয়, বরং জুনিয়রদের সঙ্গে বহু বছরের কাজ এবং ক্রীড়াবিদদের সহায়তায় সেনাবাহিনীর কর্মসূচির ফল।
ইরান ও রাশিয়া এখনও শক্তিশালী, তবে সার্বজনীনতা ও মানসিক দৃঢ়তার ওপর জোর দেওয়া মার্কিন মডেল এখন সুশৃঙ্খল প্রাধান্য আনতে শুরু করেছে। ঠিক দাবায় যেমন একজন শক্তিশালী খেলোয়াড় সব বোর্ডে সমান শক্তির দলের কাছে হেরে যায়।
আস্তানার রেকর্ড কোনো শেষ বিন্দু নয়, বরং নতুন অধ্যায়ের সূচনা: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রমাণ করেছে তারা কেবল অংশগ্রহণই করতে পারে না, বরং বিশ্ব পর্যায়ে কুস্তিতে নিয়মও নির্ধারণ করতে পারে। এটি টেকসই সুবিধা হবে নাকি সাময়িক শিখর, তা পরবর্তী চক্রেই বোঝা যাবে।


