বার্সেলোনার বিরুদ্ধে রিয়াল মাদ্রিদের ডসিয়ার: ইউরোপীয় ফুটবলের সমীকরণ বদলের আভাস

লেখক: Svitlana Velhush

বার্সেলোনার বিরুদ্ধে রিয়াল মাদ্রিদের ডসিয়ার: ইউরোপীয় ফুটবলের সমীকরণ বদলের আভাস-1

স্পেনের প্রধান দুই ক্লাবের বহু বছরের প্রতিদ্বন্দ্বিতা এখন আর কেবল খেলার মাঠ বা জাতীয় বিচারব্যবস্থার গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নেই। আলোচিত 'নেগ্রেইরা মামলা'য় বার্সেলোনার বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির আনুষ্ঠানিক দাবি জানিয়ে উয়েফা সদর দপ্তরে ৫০০ পৃষ্ঠার একটি ডসিয়ার জমা দিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। তাদের দাবির মূল বিষয়টি বেশ চরমপন্থী: মাদ্রিদ চায় কাতালান ক্লাবটিকে ইউরোপীয় টুর্নামেন্ট থেকে পুরোপুরি বহিষ্কার করা হোক এবং ২০০১ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ১৭ বছরের সব ফলাফল বাতিল করা হোক। এই দাবি গৃহীত হলে 'ব্লাউগ্রানারা' তাদের ২৩টি ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক শিরোপা হারাতে পারে।

এই দ্বন্দ্বের মূলে রয়েছে হোসে মারিয়া এনরিকেজ নেগ্রেইরার সঙ্গে যুক্ত সংস্থাগুলোকে বার্সেলোনার পক্ষ থেকে প্রায় ৮৪ লক্ষ ইউরো প্রদানের প্রমাণিত তথ্য। সেই সময়ে তিনি স্পেনের রেফারিদের টেকনিক্যাল কমিটির সহ-সভাপতি পদে আসীন ছিলেন। কাতালান পক্ষ অবশ্য দুর্নীতির অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছে এবং তাদের দাবি, রেফারিদের কার্যক্রম বিশ্লেষণের সাধারণ পরামর্শমূলক সেবার বিনিময়ে এই অর্থ প্রদান করা হয়েছিল।

স্পেনের ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থার চূড়ান্ত রায়ের অপেক্ষা না করে রিয়াল মাদ্রিদ কেন এখনই উয়েফার মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল?

এর মূল কারণ হলো আইনি এখতিয়ারের পার্থক্য। স্পেনের আদালত যেখানে নির্দিষ্ট ম্যাচের ফলাফলে অর্থের প্রভাবের সরাসরি প্রমাণ দাবি করে (যা আইনিভাবে প্রমাণ করা অত্যন্ত কঠিন), উয়েফার নিয়মকানুন সেখানে ভিন্নভাবে তৈরি। ইউরোপীয় ফুটবল সংস্থার জন্য শাস্তি আরোপ করতে প্রতিযোগিতার স্বচ্ছতা হুমকির মুখে পড়া বা অশোভন আচরণের প্রমাণ থাকাই যথেষ্ট। উয়েফা যদি মনে করে যে রেফারি কমিটির কর্মকর্তাকে দেওয়া অর্থ পরোক্ষভাবে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ক্লাবগুলোর যোগ্যতা অর্জনের মানদণ্ডকে প্রভাবিত করেছে, তবে সংস্থাটির নিজস্ব শৃঙ্খলাভঙ্গমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার রয়েছে।

মাদ্রিদের এমন পদক্ষেপ পুরো ফুটবল শিল্পের জন্য বিশাল রাজনৈতিক ঝুঁকি বয়ে আনতে পারে। প্রায় দুই দশকের ফলাফল নতুন করে পর্যালোচনার এই চেষ্টা ইউরোপীয় ফুটবলের বাণিজ্যিক স্থিতিশীলতাকে সংকটের মুখে ফেলবে। স্পনসর, সম্প্রচারকারী এবং খোদ ফুটবল সংস্থাগুলো অর্জিত শিরোপার মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হোক এমনটা চায় না। তবে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের বর্তমান চ্যাম্পিয়নের পক্ষ থেকে করা এমন ব্যাপক তদন্তের দাবি উয়েফাও এড়িয়ে যেতে পারবে না।

ইউরোপীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের এই সিদ্ধান্ত একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নজির তৈরি করবে। ভবিষ্যতে এটি হয় রাষ্ট্রীয় আদালতের প্রভাব থেকে ক্রীড়া নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর স্বাধীনতাকে সুদৃঢ় করবে, অথবা তাদের প্রকৃত ক্ষমতার সীমাবদ্ধতাকে সামনে আনবে। একটি বিষয় স্পষ্ট: এই কাহিনীর কোনো সমঝোতামূলক পরিণতি হওয়ার সম্ভাবনা আর নেই।

27 দৃশ্য
আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।