নিউট্রিজেনোমিক্স বা পুষ্টি ও জিনের পারস্পরিক প্রভাব সংক্রান্ত সাম্প্রতিক গবেষণায় ত্বকের কোষের ওপর আঙুরের এক বিস্ময়কর প্রভাবের কথা উঠে এসেছে। বিজ্ঞানীরা দেখেছেন যে, প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় আঙুর রাখলে শরীরে এমন কিছু জটিল জৈব-রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে, যা ত্বকের কোষগুলোকে পরিবেশের প্রতিকূলতা—বিশেষ করে অতিবেগুনি রশ্মির ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করে। এই প্রক্রিয়ার মূলে কেবল অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের ভূমিকা নেই, বরং এটি সরাসরি জিনের কার্যকারিতা বা 'জেনেটিক এক্সপ্রেশন' নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম।

এই জৈবিক প্রক্রিয়ার পেছনে রয়েছে রেসভেরাট্রল, কুয়েরসেটিন এবং অ্যান্থোসায়ানিনের মতো বিশেষ কিছু পুষ্টি উপাদানের অবদান। গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত এই উপাদানগুলো গ্রহণ করলে শরীরে এমন কিছু সংকেত সক্রিয় হয় যা প্রাকৃতিক সুরক্ষা এনজাইম তৈরিতে সাহায্য করে। এই এনজাইমগুলো অক্সিডেটিভ স্ট্রেসের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ডিএনএ মেরামত করে এবং ত্বকের বলিরেখা বা স্থিতিস্থাপকতা হারানোর প্রধান কারণগুলো প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে।
আঙুর শরীরের ভেতরে একটি বর্ম বা ঢালের মতো কাজ করে; এটি কেবল ত্বকের উপরিভাগের দূষণ দূর করে না, বরং কোষগুলোকে নিজস্ব সুরক্ষা প্রোটিন তৈরিতে উৎসাহিত করে। এর ফলে দীর্ঘমেয়াদে কোষের বার্ধক্য প্রক্রিয়ায় এক অভাবনীয় ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়।
এই প্রক্রিয়াটি মূলত শরীরে ধীরে ধীরে কাজ করে, তাই অতিবেগুনি রশ্মির বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে আঙুর খাওয়ার নিয়মিত অভ্যাস প্রয়োজন। তবে মনে রাখা জরুরি যে, আঙুর বাইরের সানস্ক্রিন বা এসপিএফ-এর বিকল্প নয়; এটি মূলত ভেতর থেকে ত্বককে শক্তিশালী করে জিনের স্তরে এপিডার্মিসের প্রতিরোধ ক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।




