দর্শক ও সমালোচকদের প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া অনুসারে 'ব্যাকরুমস' প্রজেক্টটি সাম্প্রতিক বছরগুলোর ইন্টারনেটের সবচেয়ে ভয়ংকর ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। স্যাঁতসেঁতে কার্পেট আর গুনগুন শব্দ করা বাতিসহ অন্তহীন হলুদ অফিস কক্ষের এই ধারণাটি মুহূর্তেই লক্ষ লক্ষ মানুষের কল্পনাকে জয় করে নিয়েছে।
চলচ্চিত্রটি দর্শককে এমন এক জগতে নিয়ে যায় যেখানে বাস্তবের পরিচিত নিয়মগুলো আর কার্যকর থাকে না। এখানে প্রথাগত অর্থে কোনো দানব নেই—আছে শুধু সীমাহীন শূন্যতা, নিস্তব্ধতা এবং চিরতরে হারিয়ে যাওয়ার এক অনুভূতি। পরিচালক এখানে নূন্যতম অনুষঙ্গ ব্যবহার করেছেন: অবিরাম বাতির গুঞ্জন ছাড়া সংলাপ এবং শব্দের প্রায় পূর্ণ অনুপস্থিতি লক্ষণীয়।
'ব্যাকরুমস' এক সম্পূর্ণ ভিন্ন ধাঁচের ভয় প্রদর্শন করে—যা ধীরগতির, অস্তিত্ববাদী এবং অত্যন্ত ব্যক্তিগত।
বিশেষ করে সেই দৃশ্যটি মনে রাখার মতো, যেখানে মূল চরিত্রটি অন্য একটি দরজা খোলে এবং আগেরটির মতোই হুবহু একটি করিডোর দেখতে পায়, যেখানে কেবল আসবাবপত্রের বিন্যাসে অতি সামান্য পার্থক্য থাকে। এই মুহূর্তটি আশাহীনতা এবং দিকভ্রান্ত হওয়ার বোধকে নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তোলে।
যারা পরিচিত বড় ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো দেখে ক্লান্ত এবং ধীরস্থির কিন্তু নিরেট ভয়ের অভিজ্ঞতা খুঁজছেন, তাদের জন্য এই ছবিটি আদর্শ। যারা দ্রুত উত্তেজনা এবং জাঁকজমকপূর্ণ দৃশ্য পছন্দ করেন, তাদের এটি না দেখাই ভালো: কারণ এখানে কোনো ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, দানব বা উচ্চকিত দৃশ্য নেই।
'ব্যাকরুমস' ইতিমধ্যে এক পুরো প্রজন্মের স্বতন্ত্র নির্মাতাদের প্রভাবিত করেছে, যারা এই জগতের নিজস্ব সংস্করণ তৈরি করতে শুরু করেছেন। সামনে সম্ভবত এই ফ্র্যাঞ্চাইজির আরও বিস্তার এবং এর ফরম্যাট নিয়ে নতুন কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষা অপেক্ষা করছে।


