অনেকের কাছেই কুকুর পোষার স্বপ্ন কেবল স্বপ্নই থেকে যায়। একটি কুকুরছানাকে আদর করলেই কয়েক মিনিটের মধ্যে হাঁচি, চোখে চুলকানি, নাক দিয়ে জল পড়া বা এমনকি হাঁপানির আক্রমণ শুরু হয়ে যায়। মনে হয় যেন কুকুর প্রেম এবং অ্যালার্জি একে অপরের পরিপন্থী। তবে, সম্ভবত এই পরিস্থিতি এবার বদলাতে চলেছে।
মার্কিন বিজ্ঞানীরা প্রথমবারের মতো এমন কুকুর তৈরি করেছেন যা Can f 1 উৎপাদন করে না। এই প্রোটিনটিই বেশিরভাগ সংবেদনশীল মানুষের মধ্যে অ্যালার্জির প্রধান কারণ। এই গবেষণাটি ২০২৬ সালের আগস্ট মাসে The CRISPR Journal-এ প্রকাশিত হয়েছে।
এই কাজটি করার জন্য গবেষকরা CRISPR-Cas9 প্রযুক্তি ব্যবহার করেছেন, যাকে প্রায়শই আণবিক জেনেটিক কাঁচি বলা হয়। তারা Can f 1 উৎপাদনে দায়ী জিনটি নিষ্ক্রিয় করে দেন এবং এরপর ক্লোনিং পদ্ধতির মাধ্যমে দুটি বিগেল কুকুর—আলফি ও বেইলি—তৈরি করেন।
কুকুরছানাগুলো জন্ম নেওয়ার পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তটি আসে। বিজ্ঞানীরা তাদের লালা এবং লোম পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা করেন, কারণ এই স্থানগুলো থেকেই অ্যালার্জেন সাধারণত বাতাসে মিশে আসবাবপত্র, পোশাক এবং মানুষের ত্বকে জমা হয়। ফলাফল ছিল অসাধারণ: Can f 1 প্রোটিনটি সম্পূর্ণভাবে অদৃশ্য হয়ে গেছে।
তবে এটিই যথেষ্ট ছিল না। মানুষের শরীর এই পার্থক্য অনুভব করতে পারে কিনা, তা বোঝা দরকার ছিল। এর জন্য গবেষকরা কুকুর অ্যালার্জিতে আক্রান্ত একজন ব্যক্তির উপর অ্যালার্জির স্কিন টেস্ট পরিচালনা করেন। সাধারণ কুকুরের নমুনা স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করলেও, আলফি এবং বেইলির নমুনা কোনো প্রতিক্রিয়া দেখায়নি।
আরেকটি পর্যবেক্ষণও সমানভাবে আশ্চর্যজনক ছিল। প্রায় দুই বছর ধরে বিগেল কুকুরগুলো বড় হয়েছে, খেলাধুলা করেছে, বিকাশ লাভ করেছে এবং যেকোনো সুস্থ কুকুরের মতোই অনুভব করেছে। বিজ্ঞানীরা তাদের আচরণ, বিকাশ বা সার্বিক স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে এই প্রোটিনের অনুপস্থিতির সাথে সম্পর্কিত কোনো অস্বাভাবিকতা খুঁজে পাননি।
এই গল্পের একটি অত্যন্ত ব্যক্তিগত দিকও রয়েছে। প্রকল্পের প্রধান ম্যাট ওয়াকার নিজে শৈশব থেকেই কুকুরের অ্যালার্জিতে ভুগছেন। মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দমন করার জন্য বারবার নতুন উপায় খোঁজার পরিবর্তে, তিনি একটি ভিন্ন প্রশ্ন উত্থাপন করেন: যদি অ্যালার্জির উৎসকেই সরিয়ে দেওয়া যায় তাহলে কেমন হয়?
এই ধারণাটিই প্রকল্পের ভিত্তি তৈরি করেছিল। তবে প্রাণীদের ডিএনএতে কোনো বিদেশী জিন যোগ করা হয়নি। CRISPR সিস্টেম কেবল কুকুরের নিজস্ব জিনে একটি ছোট পরিবর্তন ঘটিয়ে একটি নির্দিষ্ট প্রোটিনের উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছে।
অবশ্যই, সম্পূর্ণরূপে হাইপোঅ্যালার্জেনিক কুকুর সম্পর্কে কথা বলার সময় এখনও আসেনি। Can f 1 প্রধান অ্যালার্জেন হলেও, এটি একমাত্র নয়। কিছু মানুষের ক্ষেত্রে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা অন্যান্য প্রোটিনগুলোতেও প্রতিক্রিয়া দেখায়, তাই নতুন এই বিগেলগুলো সবার জন্য সহায়ক নাও হতে পারে। এখন গবেষকদের পরীক্ষা করে দেখতে হবে যে Can f 1 এর অনুপস্থিতি বাস্তব জীবনে অ্যালার্জির সম্ভাবনা কতটা কমিয়ে দেয় এবং কয়েক বছর পর এর কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায় কিনা।
যদি এই ফলাফলগুলো নিশ্চিত হয়, তবে এটি কেবল জিন প্রকৌশলের একটি নতুন সাফল্যর চেয়েও অনেক বেশি কিছু হবে। সম্ভবত, প্রথমবারের মতো CRISPR কোনো রোগ নিরাময় না করে, মানুষের সমস্যায় পড়ার আগেই তার উৎস নির্মূল করতে সাহায্য করবে। এবং তখন লক্ষ লক্ষ মানুষ, যারা বহু বছর ধরে কেবল একটি কুকুর পোষার স্বপ্ন দেখেছেন, একদিন নির্ভয়ে তাদের নতুন চার পায়ের বন্ধুকে বাড়িতে আনতে পারবেন।



