১৭ জুন ২০২৬-এর সন্ধ্যায় দক্ষিণ আমেরিকা ও সেই মহাদেশের অন্যান্য অঞ্চলের বাসিন্দারা সান্ধ্য আকাশের উজ্জ্বলতম দুই জ্যোতিষ্ক—সরু একফালি চাঁদ ও জ্যোতির্ময় শুক্রের এক মনোমুগ্ধকর মিলনের সাক্ষী হন। সূর্যাস্তের প্রেক্ষাপটে পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহ ও এই গ্রহটির মধ্যে দূরত্ব কমে দৃশ্যত মাত্র আধ ডিগ্রিতে নেমে আসে, যা খালি চোখেও এক নয়নাভিরাম দৃশ্যের সৃষ্টি করে।

‘সন্ধ্যাতারা’ নামে পরিচিত শুক্র গ্রহটি এদিন চাঁদের ফালি থেকে মাত্র ০.৫° দূরে অবস্থান করছিল। দিগন্তের কিছুটা নিচে বৃহস্পতিকেও দেখা যাচ্ছিল, যা এই তিনটি মহাজাগতিক বস্তুর সমন্বয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ ছবি তৈরি করে। আর্জেন্টিনা, কলম্বিয়া ও পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর পর্যবেক্ষকরা জানান, গ্রহটির প্রখর আলো এবং চাঁদের স্নিগ্ধ আভা মিলে গোধূলির আকাশকে এক বিশেষ রঙে রাঙিয়ে দিয়েছিল। কোনো কোনো অঞ্চলে এমনকি ক্ষণস্থায়ী ‘অকাল্টেশন’ বা গ্রহণও ঘটেছিল—যেখানে চাঁদ সাময়িকভাবে শুক্রকে আড়াল করে ফেলে।
পৃথিবীর চারদিকে চাঁদের নিজস্ব কক্ষপথে পরিভ্রমণ এবং একই সাথে ক্রান্তিবৃত্ত বরাবর গ্রহগুলোর অবস্থানের পরিবর্তনের কারণেই এই ধরনের ঘনিষ্ঠ মিলন ঘটে থাকে। ২০২৬ সালের মধ্যে এই দুই জ্যোতিষ্কের মধ্যবর্তী দূরত্ব এবারই সর্বনিম্ন ছিল, ফলে গোধূলি বেলায় এই দৃশ্যটি বিশেষভাবে নজরে আসে। আলোকচিত্রী ও জ্যোতির্বিজ্ঞান প্রেমীরা এমন সব ছবি শেয়ার করেছেন যেখানে মনে হচ্ছিল চাঁদের কাস্তে যেন শুক্রের উজ্জ্বল বিন্দুর দিকে ‘ইঙ্গিত’ করছে।
জুনের মাঝামাঝি সময়ে গ্রহ ও চাঁদের মধ্যে ঘটে যাওয়া ধারাবাহিক সংযোগের অংশ ছিল এই ঘটনাটি। এর কয়েক দিন আগে শুক্র ও বৃহস্পতিও কাছাকাছি এসেছিল এবং ১৭ জুন তাদের সাথে যোগ দেয় একফালি চাঁদ। এই দৃশ্য দেখার জন্য বিশেষ কোনো যন্ত্রপাতির প্রয়োজন ছিল না—সূর্যাস্তের প্রায় ৩০-৪০ মিনিট পর পশ্চিম দিগন্তে চোখ রাখাই যথেষ্ট ছিল।
এ ধরনের সংযোগ নিয়মিত বিরতিতে ঘটে থাকে যা পৃথিবী থেকে সৌরজগতের বস্তুগুলোর গতিবিধি পর্যবেক্ষণের সুযোগ করে দেয়। চাঁদের বিশেষ দশা এবং শুক্রের প্রখর উজ্জ্বলতার কারণে এবার দৃশ্যটি অত্যন্ত নান্দনিক হয়ে উঠেছিল, যা সেই মুহূর্তে সূর্য বাদে আকাশের অন্য সব জ্যোতিষ্ককে ম্লান করে দিয়েছিল।
