সারপেনস নক্ষত্রমণ্ডলীর একটি কমলা বামন নক্ষত্র গ্লিস ৭১০ (Gliese 710), নজিরবিহীন নির্ভুল গতিবেগে সৌরজগতের দিকে ধেয়ে আসছে যা বর্তমানে পরিমাপ করা সম্ভব হয়েছে। আগামী ১.৩৪ মিলিয়ন বছর পর এটি আমাদের সৌরজগতের সবচেয়ে দূরবর্তী অঞ্চল ওর্ট ক্লাউডে প্রবেশ করবে এবং মাত্র ২.৪ আলোক মাস বা প্রায় ১৩ হাজার অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল ইউনিট দূরত্ব দিয়ে অতিক্রম করবে।
স্পেনের ইনস্টিটিউট অফ স্পেস সায়েন্সেস (ICE-CSIC)-এর একটি গবেষক দল ইলোই ফার্নান্দেজের নেতৃত্বে এই গবেষণাটি পরিচালনা করেছে। বিজ্ঞানীরা ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার ‘গায়া ডিআর৩’ (Gaia DR3) মিশনের তথ্য এবং ‘কারমেনেস’ (CARMENES) যন্ত্রের মাধ্যমে সংগৃহীত ভূপৃষ্ঠের পর্যবেক্ষণ ডেটা ব্যবহার করেছেন। গবেষণার ফলাফলগুলো ২০২৬ সালে ‘অ্যাস্ট্রোনমি অ্যান্ড অ্যাস্ট্রোফিজিক্স’ জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। হিসাব অনুযায়ী, সূর্য থেকে বর্তমানে ৬২ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত গ্লিস ৭১০ নক্ষত্রটি আগের ধারণার চেয়ে কিছুটা ধীরগতিতে এগিয়ে আসছে।
বিশ্লেষণ থেকে জানা গেছে যে, সৌরজগতের ৪.৫৬ বিলিয়ন বছরের ইতিহাসে ১.৬ আলোকবর্ষ ব্যাসার্ধের মধ্যে প্রায় ১২ হাজার বার বিভিন্ন নক্ষত্রের কাছাকাছি আসার ঘটনা ঘটেছে। গড়ে প্রতি ৯৫ হাজার বছরে একবার কোনো না কোনো নক্ষত্র সৌরজগতের ৩.৩ আলোকবর্ষ দূরত্বের মধ্যে চলে আসে। তবে গ্লিস ৭১০-এর বিষয়টি ব্যতিক্রমী; কারণ এমন অতি-নিকটবর্তী হওয়ার ঘটনা প্রতি ৫০ মিলিয়ন বছরে মাত্র একবারই ঘটে থাকে।
এই ধরনের ঘটনাগুলো কেবল বিরল মহাজাগতিক ঘটনাই নয়। এদের সম্মিলিত প্রভাবে ধীরে ধীরে ওর্ট ক্লাউড অস্থিতিশীল হয়ে পড়ে এবং ধুমকেতুগুলোকে সৌরজগতের ভেতরে বা আন্তঃনাক্ষত্রিক মহাকাশে ঠেলে দেয়। গবেষকরা উল্লেখ করেছেন যে, এই ধরনের মিথস্ক্রিয়ার ফলেই ওমুয়ামুয়া (Oumuamua) বা বরিসভ (Borisov)-এর মতো আন্তঃনাক্ষত্রিক বস্তুর আবির্ভাব ব্যাখ্যা করা সম্ভব হয়।
যদি গ্লিস ৭১০-এর কোনো গ্রহ থাকে, তবে ভবিষ্যতে সেগুলোই হবে পৃথিবীর নিকটতম প্রতিবেশী—যা প্লুটোর তুলনায় মাত্র ৩০০ গুণ বেশি দূরে অবস্থান করবে। গবেষক দলটি জোর দিয়ে বলেছে যে, সৌরজগত কোনো বিচ্ছিন্ন দ্বীপ নয়, বরং ভূতাত্ত্বিক সময়ের মানদণ্ডে এটি ক্রমাগত প্রতিবেশী নক্ষত্রদের দ্বারা প্রভাবিত হয়।
গায়া এবং কারমেনেস-এর তথ্য বিজ্ঞানীদের একটি উন্নত পরিসংখ্যানগত মডেল তৈরি করতে সাহায্য করেছে, যা নক্ষত্রের গতিবিধি মূল্যায়নের ক্ষেত্রে পূর্বের পদ্ধতিগত ত্রুটিগুলো দূর করেছে।
