জ্যোতির্বিক্ষণীরা জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ ব্যবহার করে প্রথমবারের মতো শীতল গ্রহ সদৃশ সঙ্গী GJ 504 b-এর একটি বিস্তারিত বর্ণালী বা স্পেকট্রাম সংগ্রহ করেছেন। এর আগে এই বস্তুটি শুধুমাত্র ফটোমেট্রির মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হলেও, এখন ২.৯ থেকে ৫.৩ মাইক্রোমিটার তরঙ্গদৈর্ঘ্যের সীমার মধ্যে এর বিকিরণকে বিভিন্ন উপাদানে বিশ্লেষণ করা সম্ভব হয়েছে।
অ্যারিজোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনীশ বাবুরাজের নেতৃত্বে একটি গবেষক দল জেমস ওয়েব টেলিস্কোপের NIRSpec যন্ত্রটি এই কাজে ব্যবহার করেছেন। 'হাই কন্ট্রাস্ট' প্রোগ্রামের আওতায় উন্নত ডাটা প্রসেসিং পদ্ধতি এবং 'অ্যাঙ্গুলার ডিফারেনশিয়াল ইমেজিং' প্রযুক্তি ব্যবহার করে এই পর্যবেক্ষণ চালানো হয়। এই বর্ণালীতে 'সিগন্যাল-টু-নয়েজ' অনুপাত ৩০০-এর বেশি ছিল, যার ফলে পানি, মিথেন, কার্বন ডাই অক্সাইড, অ্যামোনিয়া এবং হাইড্রোজেন সালফাইডের অণুসহ কার্বন ও অক্সিজেনের আইসোটোপগুলো নিশ্চিতভাবে শনাক্ত করা গেছে।
বায়ুমণ্ডলীয় মডেলিং থেকে জানা গেছে যে এর কার্যকর তাপমাত্রা ৫৬৪ ± ৪ কেলভিন, পৃষ্ঠের মাধ্যাকর্ষণ লগ জি (log g) প্রায় ৪.৮৭ এবং ধাতব গুণাগুণ বা মেটালোসিটি [M/H] = ০.৬৭। এছাড়া সেখানে ভারসাম্যহীন রাসায়নিক বিক্রিয়া এবং লবণের মেঘের উপস্থিতির লক্ষণ পাওয়া গেছে। বস্তুটির ভর বৃহস্পতির ভরের প্রায় ২৫.২ গুণ এবং এর বয়স আনুমানিক ২.৫ থেকে ৪ বিলিয়ন বছর ধরা হয়েছে।
মূল নক্ষত্রের রাসায়নিক উপাদানের সাথে তুলনা করে দেখা গেছে যে, এই গ্রহে কার্বন এবং সম্ভবত অক্সিজেনের পরিমাণ অনেক বেশি। এটি গ্রহ তৈরির প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এর উৎপত্তির দিকে ইঙ্গিত দিলেও, নক্ষত্রের মতো করে এর সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনাকে এখনও পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
গবেষণার ফলাফলগুলো ২০২৬ সালের ১৭ জুন arXiv-এর প্রিপ্রিন্ট হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে। এই সাফল্য সরাসরি ছবি তোলা যায় এমন শীতলতম মহাজাগতিক বস্তুগুলোর বায়ুমণ্ডল নিয়ে গবেষণার নতুন পথ খুলে দিল, যা আগে বর্ণালী বিশ্লেষণের নাগালের বাইরে ছিল।

