এনএসএফ-এর প্রাক্তন প্রোগ্রাম ডিরেক্টর: "আমি ৯৫ শতাংশ নিশ্চিত যে মানুষের সাথে একাধিক অমানবিক প্রজাতি যোগাযোগ রাখছে"

লেখক: Uliana S

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অজ্ঞাত অস্বাভাবিক ঘটনার (ইউএপি) বিষয়টি ষড়যন্ত্র তত্ত্বের গণ্ডি পেরিয়ে বিজ্ঞানী এবং সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের নজরে আসতে শুরু করেছে। এর একটি সাম্প্রতিক উদাহরণ হলো মার্কিন ন্যাশনাল সায়েন্স ফাউন্ডেশনের (এনএসএফ) প্রাক্তন প্রোগ্রাম ডিরেক্টর ড. আন্না ব্র্যাডি-এস্তেভেজের বক্তব্য। সাংবাদিক রস কোল্টহার্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি সরাসরি বলেন, "আমি ৯৫ শতাংশ নিশ্চিত যে পৃথিবীতে একাধিক অমানবিক প্রজাতি আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছে।"

ব্র্যাডি-এস্তেভেজ একজন অভিজ্ঞ প্রকৌশলী, যিনি এনএসএফ-এর মাধ্যমে বিভিন্ন উন্নত প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনী প্রকল্প নিয়ে কাজ করেছেন। তার এই অবস্থানটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ কারণ তিনি তথাকথিত 'ইউএফও শিকারি' গোত্রের কেউ নন। তিনি জানান যে, বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সূত্র এবং তার মতো উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের কাছে লভ্য তথ্যের ভিত্তিতেই তিনি এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন। এমনকি এই সত্তাগুলোর কাছ থেকে তথাকথিত প্রযুক্তির 'উপহার' পাওয়ার দাবি এবং অমানবিক জীববিদ্যার উপস্থিতির সম্ভাবনা সম্পর্কেও তিনি কথা বলেছেন।

সামরিক পাইলট, সরকারি কর্মকর্তা এবং বিজ্ঞানীদের কাছ থেকে পাওয়া ক্রমবর্ধমান প্রমাণের পরিপ্রেক্ষিতেই এই আলোচনা সামনে এসেছে। গত কয়েক বছরে মার্কিন কর্তৃপক্ষ ইউএপি নিয়ে বেশ কিছু প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, অস্বাভাবিক বস্তুর ভিডিও জনসমক্ষে এনেছে এবং প্রকাশ্য শুনানিও করেছে। যদিও সাধারণ মানুষের সামনে এখনো কোনো অকাট্য প্রমাণ পেশ করা হয়নি, তবে আলোচনার ধরন উল্লেখযোগ্যভাবে বদলেছে। যা আগে গুরুত্বহীন বিষয় হিসেবে বিবেচিত হতো, তা এখন এমন ব্যক্তিদের মুখে শোনা যাচ্ছে যাদের কর্মজীবন অত্যন্ত উচ্চমানের বিজ্ঞান এবং সরকারি কাঠামোর সাথে জড়িত।

ব্র্যাডি-এস্তেভেজ কঠোর মূল্যায়ন, স্বচ্ছতা এবং এই বিষয়টিকে ঘিরে থাকা সামাজিক জড়তা কাটানোর ওপর জোর দিয়ে একটি বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন। তিনি জনমানসের ধারণার পরিবর্তনের বিষয়টিও উল্লেখ করেছেন—যেখানে একসময় এগুলো সরাসরি অস্বীকার করা হতো, সেখানে এখন সতর্কভাবে স্বীকার করা হচ্ছে যে কিছু ঘটনা পরিচিত প্রযুক্তি বা প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া দিয়ে ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয়। তবে তিনি একজন বাস্তববাদী হিসেবেই নিজেকে ধরে রেখেছেন; তার মতে ৯৫ শতাংশ নিশ্চয়তা মানে ১০০ শতাংশ নয়। ফলে এখনো সন্দেহ প্রকাশ এবং গভীরতর গবেষণার সুযোগ রয়ে গেছে।

এই ঘটনাটি বর্তমানে প্রচলিত একটি বৃহত্তর প্রবণতাকেই প্রতিফলিত করে। ক্রমেই অনেক প্রাক্তন সরকারি কর্মকর্তা এবং বিজ্ঞানী তাদের নিজস্ব পর্যালোচনার ফলাফল জনসমক্ষে প্রকাশ করতে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। সমাজও ধীরে ধীরে এই ধারণার সাথে অভ্যস্ত হয়ে উঠছে যে মহাবিশ্বে আমরা সম্ভবত একা নই। যদিও এখনও চূড়ান্ত কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি, তবে তথ্যের প্রবাহ এবং বক্তব্যের ধরনে পরিবর্তন আসার কারণে বিষয়টি বিজ্ঞান ও সমাজতাত্ত্বিক আলোচনায় ক্রমশ জায়গা করে নিচ্ছে। আগামী বছরগুলোতে হয়তো এমন নতুন তথ্য সামনে আসবে যা এই রহস্যময় পর্যবেক্ষণগুলোর পেছনে আসল কারণ কী, তা স্পষ্ট করতে সাহায্য করবে।

44 দৃশ্য

মন্তব্য

এই বিষয়ে আরও নিবন্ধ পড়ুন:

We’re sharing a solution to the Navier-Stokes Millennium Prize Problem, one of the deepest problems at the frontier of mathematics. The proof was produced by a group of agents, using an OpenAI next-generation model significantly more capable than GPT-6 Astra. The problem

Image
Reply
আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।