২০২৬ সালের জুলাই মাসের শুরুতে ইতালীয় গবেষকদের একটি দল গিজা মালভূমির রহস্য উন্মোচনে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেছেন। গত ২১ জুন বোলোনিয়ার নিকটবর্তী কাস্তেল সান পিয়েত্রো তেরমেতে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলন ও পূর্ণাঙ্গ প্রামাণ্যচিত্র 'গিজা: দ্য হিডেন সিটি - ফাইনাল অ্যাক্ট'-এর ইংরেজি সংস্করণ ৫ জুলাই ইউটিউবে প্রকাশিত হয়েছে। গবেষক ফিলিপো বিয়ন্ডি, কোরাডো মালাঙ্গা এবং তাঁদের সহকর্মীরা হারমোনিকসার (HarmonicSAR) প্রযুক্তি ও ডপলার টমোগ্রাফি ব্যবহার করে দীর্ঘ গবেষণার ফলাফল তুলে ধরেন।
এই সম্মেলনে এক হাজারেরও বেশি মানুষ অংশ নিয়েছিলেন। সেখানে স্যাটেলাইট রাডারের মাধ্যমে প্রাপ্ত অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও উচ্চমানের ছবি প্রদর্শন করা হয়। বিয়ন্ডির মতে, মিলিমিটার পর্যায়ের নির্ভুল তথ্য মালভূমির উত্তর-পশ্চিম অংশে একটি প্রতিসম কাঠামোর অস্তিত্ব নির্দেশ করছে—যা জমাটবদ্ধ বালির পাহাড়ের নিচে দ্বিতীয় একটি স্ফিংস হতে পারে। টমোগ্রামগুলোতে মাথা, দেহ এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের রূপরেখার পাশাপাশি ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গ ও পথ দেখা গেছে, যা বিখ্যাত 'গ্রেট স্ফিংস'-এর নিচের কাঠামোর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। গবেষকদের দাবি অনুযায়ী, ফেসিয়াল রিকগনিশন অ্যালগরিদম এবং ব্লাইন্ড-টেস্টের প্রয়োগ এই অসঙ্গতিটি মানবসৃষ্ট হওয়ার সম্ভাবনাকে আরও জোরালো করেছে।
এই অগ্রগতি ২০২৬ সালের মার্চ-এপ্রিল মাসে শুরু হওয়া ঘটনারই ধারাবাহিকতা। সে সময় স্ক্যানিং সংক্রান্ত প্রথম প্রকাশনাগুলো ব্যাপক কৌতূহল এবং সংশয় তৈরি করেছিল। জুনের সম্মেলনে আরও নতুন ভিজ্যুয়াল উপাদান ও কম্পিউটার বিশ্লেষণ যুক্ত করা হয়েছে, আর জুলাইয়ের ইংরেজি সংস্করণ তা বিশ্বজুড়ে আন্তর্জাতিক দর্শকদের কাছে সহজলভ্য করে তুলেছে। ট্রেভর গ্রাসি এবং অন্যান্য সহ-লেখকরা উল্লেখ করেছেন যে, এই গবেষণার কাজ অত্যন্ত স্বচ্ছভাবে পরিচালিত হচ্ছে এবং তাঁরা বৈজ্ঞানিক আলোচনার জন্য উন্মুক্ত আহ্বান জানিয়েছেন।
আপাতত এগুলো প্রাথমিক তথ্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে এবং এর জন্য স্থলভিত্তিক যাচাইকরণ প্রয়োজন। ভূ-তাত্ত্বিক জরিপ এবং সম্ভাব্য খননকার্য পরিচালনার জন্য গবেষকরা মিশরীয় কর্তৃপক্ষের সাথে সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। মিশরের সরকারি সংস্থাগুলো এখনও এই নতুন তথ্যের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি এবং তারা মালভূমি গবেষণায় তাদের প্রচলিত নীতি বজায় রেখেছে।
এই কাহিনীর প্রতিটি নতুন পর্যায় প্রত্নতত্ত্বে আধুনিক প্রযুক্তির সক্ষমতা প্রদর্শন করে। রাডার টমোগ্রাফির মাধ্যমে ব্যাপক খননকার্য ছাড়াই বালির নিচে 'দেখা' সম্ভব হচ্ছে, তবে অন-সাইট বা সরজমিনে যাচাইয়ের মাধ্যমেই বোঝা যাবে এই ভার্চুয়াল পুনর্নির্মাণ কতটা নির্ভুল। বিয়ন্ডি ও মালাঙ্গার দল নিয়মিত তথ্য প্রকাশ করে চলেছেন এবং তাঁরা জোর দিয়ে বলছেন যে, এই আবিষ্কার কেবল ইতালি বা মিশরের নয়, বরং সমগ্র মানবজাতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
যখন উৎসাহী ও বিশেষজ্ঞরা টমোগ্রাম নিয়ে আলোচনায় ব্যস্ত, তখন গিজা মালভূমি তার রহস্য নিয়ে মৌন হয়ে আছে। তবে ইংরেজি সংস্করণ প্রকাশের ফলে এই বিতর্ক এখন নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। সম্ভবত আগামী মাসগুলোতে আমরা বাস্তব কোনো অভিযানের প্রথম পদক্ষেপ দেখতে পাব—যা হয়তো এই হাইপোথিসিসকে সত্য প্রমাণ করবে নতুবা প্রাচীন সভ্যতা সম্পর্কে আমাদের ধারণা বদলে দেবে।
