যখন আমরা ‘হাঙর’ শব্দটি ব্যবহার করি, তখন সাধারণত আমাদের চোখের সামনে খোলা সমুদ্রের ক্ষিপ্র শিকারিদের ছবি ভেসে ওঠে।
তবে ওশান সেন্সাসের সাম্প্রতিক সবচেয়ে রহস্যময় আবিষ্কারগুলোর মধ্যে একদম ভিন্ন ঘরানার এক প্রাণীর দেখা মিলেছে।
বিজ্ঞানীরা গভীর সমুদ্রের এক নতুন প্রজাতির গোস্ট শার্ক বা ভূতুড়ে হাঙরের (ghost shark / chimaera) সন্ধান দিয়েছেন, যা অস্ট্রেলিয়ার উপকূলীয় কোরাল সি মেরিন পার্কে ৮০২ থেকে ৮৩৮ মিটার গভীরে খুঁজে পাওয়া গেছে।
প্রচলিত নাম হাঙর হলেও এটি কোনো প্রকৃত হাঙর নয়, বরং তার এক অতি দূর সম্পর্কের আত্মীয়—তরুণাস্থিযুক্ত মাছের এক প্রাচীন বংশধর, যারা ডাইনোসরদের যুগেরও অনেক আগে প্রায় ৪০ কোটি বছর পূর্বে হাঙর ও রে মাছের থেকে আলাদা হয়ে গিয়েছিল।
এই সপ্তাহে ওশান সেন্সাস কর্তৃক ঘোষিত ১,১২১টি নতুন সামুদ্রিক প্রজাতির মধ্যে এই বিশেষ আবিষ্কারটি অন্য কোনো ভূতাত্ত্বিক যুগ থেকে আসা বার্তার মতো মনে হচ্ছে।
এই গোস্ট শার্কগুলোর অবয়ব অনেকটা ভিনগ্রহের প্রাণীদের মতো: মসৃণ ফ্যাকাসে দেহ, বড় বড় কালো চোখ এবং পানির গভীর স্তরে ডানা মেলার মতো ভেসে চলার শৈল্পিক ভঙ্গি।
এরা এমন এক নিঝুম অন্ধকারে বাস করে যেখানে সূর্যের আলো পৌঁছানো প্রায় অসম্ভব, আর এ কারণেই এরা সমুদ্রের অন্যতম স্বল্প পরিচিত প্রাণী হিসেবে আজও অজানাই রয়ে গেছে।
আর এই নির্জনতার ভেতরেই লুকিয়ে আছে এক গভীর তাৎপর্য।
বর্তমানে সমুদ্র আমাদের এমন সব প্রাণীর দেখা দিচ্ছে যাদের বিবর্তনের ইতিহাস মানুষের আগমনেরও কয়েক কোটি বছর আগে শুরু হয়েছিল।
এটি কোনো নতুন দানব নয়। এটি কল্পবিজ্ঞানের কোনো ফ্যান্টাসিও নয়। বরং এটি পৃথিবীর বুকে টিকে থাকা এক বাস্তব জীবন।
এই ঘটনাটি বিশ্বের স্পন্দনে নতুন কী অর্থ যোগ করল?
মাঝেমধ্যে সমুদ্র আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, তার কাছে সময়ের হিসাবটা একেবারেই অন্যরকম।
আমরা যখন ভবিষ্যৎ নিয়ে তর্কে মগ্ন, তখন সমুদ্রের অতল গহ্বরে এমন সব প্রাণী আজও বিচরণ করছে যাদের ইতিহাস মানুষের প্রথম পদচিহ্নেরও অনেক আগে শুরু হয়েছে।
সম্ভবত এটিই এই সপ্তাহে সমুদ্রের সবচেয়ে শান্ত অথচ শক্তিশালী কণ্ঠস্বর।



