মহাসাগরের নীল স্মৃতি: বিজ্ঞানীরা ৩২০০ বছরেরও বেশি পুরনো এক বিরল প্রবাল ব্লু হোল আবিষ্কার করেছেন

লেখক: Inna Horoshkina One

হুয়াংয়ান ডাও-এ চীনের প্রথম কোরাল রিফ ব্লু হোল আবিষ্কার করা হয়েছে

প্রতিদিন মহাসাগর তার ইতিহাসের এমন কোনো নতুন পাতা উন্মোচন করে না।

গত ২৫ জুন চীনের পরিবেশ ও বাস্তুসংস্থান মন্ত্রণালয় দক্ষিণ চীন সাগরের হুয়াংইয়ান দ্বীপের লেগুনে আবিষ্কৃত একটি বিরল প্রবাল ব্লু হোলের দুই বছরব্যাপী গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করেছে। বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত করেছেন যে, এটি চীনে এ ধরণের প্রথম অনুসন্ধানকৃত এবং আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃত প্রবাল ব্লু হোল এবং বিশ্বের এই ধরণের অত্যন্ত বিরল বস্তুগুলোর মধ্যে অন্যতম।

প্রাথমিক রেডিওকার্বন ডেটিং থেকে জানা গেছে যে, এই প্রাকৃতিক কাঠামোটি কমপক্ষে ৩২০০ বছর আগে গঠিত হয়েছিল। সাধারণ অধিকাংশ ব্লু হোল চুনাপাথরের স্তরে তৈরি হলেও, এটি প্রবাল প্রাচীরের স্বাভাবিক বৃদ্ধির ফলে সৃষ্টি হয়েছে—আর ঠিক এই কারণে এটি বিজ্ঞানের কাছে বিশেষ আগ্রহের বিষয়।

চীনের পরিবেশ ও বাস্তুসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীন South China Institute of Environmental Sciences, Guangxi Laboratory on the Study of Coral Reefs in the South China Sea এবং অন্যান্য বৈজ্ঞানিক সংস্থাগুলো যৌথভাবে এই অভিযানটি পরিচালনা করেছে। এই গবেষণায় পানির নিচে ডুব দেওয়া, রিমোটলি অপারেটেড ভেহিকল (ROV), ড্রোন এবং environmental DNA (eDNA) প্রযুক্তির সাহায্যে পরিবেশগত বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

গবেষণার ফলাফল ছিল এক কথায় মনোমুগ্ধকর।

ব্লু হোলের ভেতরে এবং আশেপাশে গবেষকরা এক সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্য লক্ষ্য করেছেন। দুই বছরের মাঠ পর্যায়ের কাজে সেখানে ১৬৫ প্রজাতির কঠিন প্রবাল এবং ১৮৪ প্রজাতির মাছের সন্ধান পাওয়া গেছে, আর eDNA বিশ্লেষণের মাধ্যমে আশেপাশের পানিতে ২৭০০টিরও বেশি সামুদ্রিক প্রজাতির উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। এখানকার বাসিন্দাদের মধ্যে সবুজ সামুদ্রিক কচ্ছপও রয়েছে, যা এই অঞ্চলের একটি সংরক্ষিত প্রজাতি।

তবে সম্ভবত সবচেয়ে মূল্যবান বিষয়টি কেবল প্রজাতির সংখ্যার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই।

বিজ্ঞানীরা এ ধরণের ব্লু হোলকে মহাসাগরের প্রাকৃতিক সংগ্রহশালা বলে অভিহিত করেন।

পলিমাটির স্তর, পানির রাসায়নিক গঠন এবং প্রবাল সঞ্চয় সহস্রাব্দ ধরে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতার পরিবর্তন, জলবায়ু পরিবর্তন এবং রিফ ইকোসিস্টেমের বিবর্তনের তথ্য সংরক্ষণ করে। এ কারণেই এই ধরণের কাঠামো সমুদ্রের ইতিহাসকে বর্তমান পর্যবেক্ষণের তুলনায় অনেক গভীর থেকে পুনর্গঠন করতে সাহায্য করে।

এই ঘটনাটি আমাদের পৃথিবীর কলতানে নতুন কী যোগ করল?

ব্লু হোলগুলো আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে মহাসাগর কেবল জীবনকেই ধারণ করে না, বরং সেই জীবনের স্মৃতিও বয়ে বেড়ায়।

প্রবাল, পলিমাটি এবং সমুদ্রের পানির স্তরে স্তরে আমাদের গ্রহের হাজার বছরের ইতিহাস লিপিবদ্ধ হয়ে আছে—এমন এক ইতিহাস যা বিজ্ঞানীরা কেবল পাঠোদ্ধার করতে শুরু করেছেন।

সম্ভবত মহাসাগরই হলো পৃথিবীর সবচেয়ে বড় জীবন্ত বই।

প্রতিটি অভিযান এর মাত্র কয়েকটা নতুন পৃষ্ঠা উন্মোচন করে।

আর আমরা যত নিবিড়ভাবে এগুলো পড়তে শিখব, কেবল মহাসাগর নয়, খোদ প্রাণের ইতিহাসকেও তত গভীর থেকে বুঝতে পারব।

3 দৃশ্য
আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।