«লেকুউইলি»: নতুন প্রজাতির এক বানর, যা বিজ্ঞানীরা আবিষ্কারের অনেক আগেই স্থানীয়দের জানা ছিল

লেখক: Svitlana Velhush

A new species of monkey with distinctive orange lips and a deep roaring call has been identified in the Democratic Republic of Congo. Colobus congoensis, known to local people as Likweli, is just the fifth new monkey species scientists have identified in Africa in the last 75

Image
Reply

গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের ঘন রেইনফরেস্টে, যেখানে নদীগুলো যেন রহস্য লুকিয়ে বাঁক নিয়েছে, বিজ্ঞানীরা অবশেষে এমন এক বানরের অস্তিত্ব নিশ্চিত করেছেন, যাকে স্থানীয় বাসিন্দারা বহু বছর ধরে «লেকুউইলি» বলে ডাকত। এটি হলো Colobus congoensis—গত 75 বছরে আফ্রিকান বানরের পঞ্চম নতুন প্রজাতি, এবং এর আবিষ্কার প্রায় দুই দশকের পর্যবেক্ষণের ফল।

কালো লোম, উজ্জ্বল কমলা-গোলাপি ঠোঁট এবং মুখ ও নাকের চারপাশে হালকা রঙের ছোপ, লম্বা লেজ এবং বৈশিষ্ট্যপূর্ণ গর্জন—যারা প্রকৃতিতে লেকুউইলিকে দেখেছেন, তারা এভাবেই এর বর্ণনা দেন। এই অস্বাভাবিক বানরটির প্রথম ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিল 2008 সালে, কিন্তু পদ্ধতিগত গবেষণা শুরু হয় পরে, এবং কেবল 2026 সাল নাগাদ প্রজাতিটির বর্ণনা দেওয়ার মতো যথেষ্ট তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হয়। এই সময়ের মধ্যে মাত্র 114 বার প্রাণীটির দেখা পাওয়ার ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছে, যা এর অত্যন্ত লাজুক স্বভাবের পরিচয় দেয়।

আকর্ষণীয় বিষয় হলো, স্থানীয় সম্প্রদায়গুলো শুধু লেকুউইলি সম্পর্কে জানত তা-ই নয়, তারা এর একটি নামও দিয়েছিল এবং সম্ভবত দৈনন্দিন জীবনে তারা দীর্ঘকাল ধরে একে পর্যবেক্ষণ করে আসছিল। বিজ্ঞানীরাও স্বীকার করেছেন যে, এই লোকজ্ঞান ছাড়া অনুসন্ধান হয়তো আরও দীর্ঘায়িত হতো। এমন ঘটনাগুলো মনে করিয়ে দেয় যে, ঐতিহ্যগত জ্ঞান কীভাবে আধুনিক বিজ্ঞানকে সমৃদ্ধ করে, বিশেষ করে দুর্গম অঞ্চলগুলোর ক্ষেত্রে।

নতুন এই প্রজাতিটির বিচরণক্ষেত্র খুব ছোট—কঙ্গোর কেন্দ্রে লোমামি নদীর বাঁকগুলোর মাঝে প্রায় 1700 বর্গকিলোমিটার এলাকা। এটি জনসংখ্যাকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলে: বনাঞ্চলের সামান্য পরিবর্তন বা চোরাশিকার দ্রুত এদের সংখ্যার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। কঙ্গোর বনভূমি হলো গ্রীষ্মমণ্ডলীয় জঙ্গলগুলোর অন্যতম শেষ বড় এলাকা, যেখানে এখনও উচ্চ জীববৈচিত্র্য টিকে আছে, কিন্তু মানুষের চাপ বাড়ছে।

লেকুউইলি আবিষ্কার প্রমাণ করে যে, তুলনামূলকভাবে পরিচিত বাস্তুতন্ত্রের জীবন সম্পর্কেও আমরা কতটা কম জানি। প্রতিটি নতুন প্রজাতি কেবল একটি বৈজ্ঞানিক তথ্য নয়, বরং গ্রীষ্মমণ্ডলীয় বনের ভেতরের জটিল সম্পর্কের এক অনুস্মারক, যেখানে একটি বানর বীজের বিস্তার এবং উদ্ভিদের ভারসাম্য বজায় রাখতে ভূমিকা রাখতে পারে।

এমন লুকানো বাসিন্দাদের সংরক্ষণের জন্য কেবল বৈজ্ঞানিক অভিযানের প্রয়োজন নেই, বরং স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে নিবিড় সহযোগিতাও প্রয়োজন, যাদের পর্যবেক্ষণ অনেক সময় আনুষ্ঠানিক গবেষণার চেয়েও নির্ভুল ও গভীর হয়।

1 দৃশ্য

এই বিষয়ে আরও নিবন্ধ পড়ুন:

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।