শানসি প্রদেশের পাহাড়ে একটি ইনফ্রারেড ক্যামেরায় স্পষ্ট স্ফীত উদরসহ একটি উত্তর-চীনা মাদি চিতাবাঘ ধরা পড়েছে। হেশুন কাউন্টির প্রাকৃতিক অভয়ারণ্য থেকে পাওয়া এই ফুটেজগুলো আরও একটি প্রমাণ যে, এই বিরল শিকারি প্রাণীটি কেবল টিকেই নেই, বরং তাদের সংখ্যাও পুনরুদ্ধার হতে শুরু করেছে।
স্থানীয় পরিবেশগত সমিতির কর্মীরা নিয়মিতভাবে পশুর চলাচলের পথ এবং জলাশয়ের কাছে বসানো প্রায় তিনশ ক্যামেরা পরীক্ষা করেন। গত কয়েক মাসে কেবল অন্তঃসত্ত্বা মাদি চিতাই নয়, বরং এক জোড়া চিতাবাঘ, গাছে তাদের এলাকা চিহ্নিত করার জন্য করা আঁচড়ের চিহ্ন এবং এমনকি লেন্সের একদম কাছে চলে আসা একটি কৌতূহলী প্রাণীর ছবিও তোলা সম্ভব হয়েছে। এই ছবিগুলোর মাধ্যমে শিকারিদের নিজস্ব বিচরণক্ষেত্র ও অভ্যাস অনুসরণ করা সম্ভব হয়।
2025 সালের শেষের তথ্য অনুযায়ী, এই কাউন্টি এবং এর আশপাশে 63টি পূর্ণবয়স্ক এবং 26টি চিতা শাবক গণনা করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা লক্ষ্য করেছেন যে, একটি স্থিতিশীল প্রজননক্ষম গোষ্ঠী তৈরি হয়েছে। শরৎকালে, যখন অন্তঃসত্ত্বা মাদি চিতাটির শাবক জন্ম দেওয়ার কথা, তখন প্রজনন কতটা সফল হচ্ছে তা বোঝার জন্য পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রাখা হবে।
উত্তর-চীনা চিতাবাঘ সবচেয়ে কম সংখ্যায় থাকা উপপ্রজাতিগুলোর মধ্যে একটি। বনাঞ্চল খণ্ডবিখণ্ড হওয়া এবং চোরাশিকারের কারণে কিছুদিন আগেও এদের বিলুপ্তির দ্বারপ্রান্তে বলে মনে করা হতো। আজ ক্যামেরাগুলো দেখাচ্ছে যে, সংরক্ষিত এলাকা এবং নিয়মতান্ত্রিক গণনা ফলাফল দিচ্ছে: পশুগুলো তাদের আগের বিচরণক্ষেত্রে ফিরে আসছে এবং সফলভাবে বংশবৃদ্ধি করছে।
এই ধরনের পর্যবেক্ষণ কেবল বিজ্ঞানের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ নয়। এগুলো মনে করিয়ে দেয় যে, এমনকি জনবহুল অঞ্চলেও বড় শিকারি প্রাণীদের জন্য জায়গা সংরক্ষণ করা সম্ভব, যদি মানুষ সচেতনভাবে তাদের হস্তক্ষেপ সীমিত করে এবং বাস্তুসংস্থানের অবস্থার ওপর নজর রাখে।
যখন ক্যামেরায় একটি অন্তঃসত্ত্বা মাদি চিতা ধরা পড়ে, তখন এটি কেবল একটি সফল ছবি নয়—এটি একটি সংকেত যে, প্রকৃতি নিজেকে পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম, যদি তাকে কেবল একটি সুযোগ দেওয়া হয়।


