সরকারগুলো সাধারণত ক্রিপ্টোকারেন্সির ব্যাপারে ততক্ষণ পর্যন্ত তড়িঘড়ি করে না, যতক্ষণ না তারা একে তাদের মুদ্রার একচেটিয়া আধিপত্যের জন্য হুমকি হিসেবে দেখে। এর বিপরীতে, দক্ষিণ কোরিয়া ২০২৬ সালের দ্বিতীয়ার্ধে বিশেষভাবে 'ডিজিটাল সম্পদ সংক্রান্ত মৌলিক আইন' প্রবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে, যেখানে শুরুতেই স্ট্যাবলকয়েন এবং স্পট ইটিএফ (ETF)-এর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
শিল্প সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, এই বিলের লক্ষ্য হলো দক্ষিণ কোরীয় ওন-এর সাথে সংশ্লিষ্ট স্ট্যাবলকয়েন ইস্যুকারীদের জন্য সুনির্দিষ্ট নিয়ম তৈরি করা এবং ক্যাপিটাল মার্কেট আইন সংশোধনের মাধ্যমে বিটকয়েন ও অন্যান্য সম্পদের স্পট এক্সচেঞ্জ-ট্রেডেড ফান্ডের পথ প্রশস্ত করা। পাশাপাশি, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডিজিটাল ওন অবকাঠামোর সাথে অন্যান্য ব্লকচেইনের সামঞ্জস্যতা এবং জাতীয় সম্পদ ব্যবস্থাপনা পদ্ধতিতে ভার্চুয়াল সম্পদকে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়েও আলোচনা চলছে।
আপাতদৃষ্টিতে এটিকে বাজারের অনুকূলে একটি পদক্ষেপ বলে মনে হচ্ছে। বিনিয়োগকারীরা পরিচিত মাধ্যম হিসেবে ইটিএফ পাবেন, যা সাধারণ ব্রোকারেজ অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে কেনা যাবে এবং কোম্পানিগুলো কঠোর তত্ত্বাবধানে স্ট্যাবলকয়েন ইস্যু করার সুযোগ পাবে। তবে এর পেছনে একটি গভীর পরিকল্পনা কাজ করছে: রাষ্ট্র পুঁজির প্রবাহের ওপর নিজের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে চায় এবং এটি পুরোপুরি বিকেন্দ্রীভূত নেটওয়ার্কের হাতে ছেড়ে দিতে নারাজ।
স্ট্যাবলকয়েনগুলো নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর কাছে বিশেষভাবে আকর্ষণীয়। এগুলো প্রথাগত ব্যাংক এবং ক্রিপ্টো-অর্থনীতির মধ্যে একটি সুবিধাজনক সেতু হয়ে উঠতে পারে, তবে একই সাথে এটি লেনদেন ট্র্যাকিং বা নজরদারির হাতিয়ার হিসেবেও কাজ করবে। ঠিক কারা ওন-সংযুক্ত স্ট্যাবলকয়েন ইস্যু করার অধিকার পাবে—ব্যাংকগুলো নাকি আরও বৃহত্তর কোনো করপোরেট গোষ্ঠী—তা নিয়ে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে এখনো বিতর্ক চলছে।
সাধারণ মানুষের জন্য এর অর্থ হলো, ডিজিটাল সম্পদে প্রবেশাধিকার আগের চেয়ে সহজ হবে এবং একই সাথে সরকারি দৃষ্টিতে এটি আরও নিরাপদ হবে। বিদেশি এক্সচেঞ্জে ক্রিপ্টো রাখার পরিবর্তে, স্থানীয় পেনশন বা ব্রোকারেজ অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ইটিএফ-এর শেয়ার কেনা সম্ভব হবে। তবে এক্ষেত্রে নিয়মকানুন হবে আরও কঠোর: মূলধন, রিজার্ভ এবং রিপোর্টিংয়ের ক্ষেত্রে কঠিন শর্ত আরোপ করা হবে।
ইতিহাস সাক্ষী যে, নিয়ন্ত্রণ খুব কমই উদ্ভাবনকে থামিয়ে দেয়, তবে এটি সবসময় উদ্ভাবনের গতিপথ বদলে দেয়। লেনদেনের পরিমাণের দিক থেকে অন্যতম 'ক্রিপ্টো-বান্ধব' দেশ দক্ষিণ কোরিয়া এখন অর্থের এই নতুন রূপগুলোর বিরুদ্ধে লড়াই না করে বরং বিদ্যমান আর্থিক ব্যবস্থার সাথে সেগুলোকে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে।
পরিশেষে, প্রশ্নটি আইনটি প্রণীত হবে কি না তা নিয়ে নয়, বরং এটি কার স্বার্থকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেবে—ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী, ব্যাংক নাকি খোদ রাষ্ট্রকে।




