ডিজিটাল যুগে দেশের অভ্যন্তরে অর্থ লেনদেন আলোর গতিতে হলেও আন্তর্জাতিক সীমানা পেরোতে প্রায়ই কয়েক দিন সময় লেগে যায়। এখন আন্তঃব্যাংক বার্তার পরিচিত মাধ্যম SWIFT একটি নিজস্ব ব্লকচেইন লেজার চালু করছে, যাতে আন্তঃদেশীয় লেনদেন চব্বিশ ঘণ্টা সচল রাখা যায়। এই পাইলট প্রকল্পে Citi, HSBC এবং UBS-সহ ১৭টি বড় ব্যাংক অংশগ্রহণ করছে।
৯ জুলাই ২০২৬-এর একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে SWIFT জানিয়েছে, নতুন ব্লকচেইনভিত্তিক এই প্ল্যাটফর্ম তাৎক্ষণিক নিষ্পত্তির জন্য টোকেনাইজড ডিপোজিট ব্যবহারের সুযোগ দেবে। ছয়টি মহাদেশের ব্যাংকগুলো ইতিমধ্যেই সরাসরি লেনদেনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এটি প্রথাগত ব্যবস্থার বিকল্প নয়, বরং একটি সম্পূরক মাধ্যম: এই লেজার দায়বদ্ধতার একটি সমলয় দৃশ্য নিশ্চিত করে এবং সপ্তাহে সাত দিন ২৪ ঘণ্টা কাজ করে।
এই পদক্ষেপের পেছনে সুনির্দিষ্ট স্বার্থ রয়েছে। বড় ব্যাংকগুলো বিকেন্দ্রীভূত ক্রিপ্টো নেটওয়ার্কের কাছে নিয়ন্ত্রণ না হারিয়ে মূলধন প্রবাহের ওপর নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখতে চায়। টোকেনাইজড ডিপোজিট মূলত সাধারণ জমার ডিজিটাল সংস্করণ, যা একটি ডিস্ট্রিবিউটেড লেজারে সংরক্ষিত থাকে। এগুলো নিয়মনীতির মধ্যে থেকেই লেনদেন দ্রুত করতে এবং ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। গ্রাহকদের জন্য এর অর্থ হতে পারে আরও সুনির্দিষ্ট চার্জ এবং গতি, যদিও খরচে খুব বড় কোনো পরিবর্তন নাও আসতে পারে।
সাধারণ ব্যাংক ট্রান্সফারকে একটি ট্রেনের সাথে তুলনা করুন যা নির্দিষ্ট সময়সূচী অনুযায়ী চলে এবং পথিমধ্যে ট্রেন বদলানোর কারণে প্রায়ই দেরি করে। SWIFT-এর নতুন সিস্টেমটি অনেকটা একটি হাই-স্পিড লাইন যুক্ত করার মতো, যেখানে ট্রেন নিরবচ্ছিন্নভাবে চলে, কিন্তু টিকেট এবং নিয়মকানুন আগের সেই অপারেটরদের হাতেই থাকে। এর মাধ্যমে ব্যাংকগুলো মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নিজেদের ভূমিকা না হারিয়েই স্ট্যাবলকয়েন এবং CBDC-এর সাথে প্রতিযোগিতার একটি হাতিয়ার পাচ্ছে।
CoinDesk এবং Ledger Insights-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই পাইলট প্রকল্পে BNP Paribas, BNY এবং Wells Fargo-এর মতো প্রতিষ্ঠানগুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। HSBC ইতিমধ্যেই তাদের টোকেনাইজড ডিপোজিট পরিষেবা চালু করেছে। এটি প্রমাণ করে যে প্রথাগত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো এই প্রযুক্তিকে কতটা গুরুত্বের সাথে নিচ্ছে: তারা শুধু পরীক্ষা করছে না, বরং এটিকে তাদের পরিকাঠামোতে যুক্ত করে নিচ্ছে।
দীর্ঘমেয়াদে এই পরিবর্তনগুলো বৈশ্বিক অর্থব্যবস্থাকে আরও দক্ষ করে তুললেও এর কেন্দ্রীভূত চরিত্র বজায় থাকবে। অর্থ লেনদেন দ্রুততর হবে, তবে এর প্রবাহ এখনও গুটি কয়েক বড় প্রতিষ্ঠানের হাতেই থাকবে। সাধারণ মানুষের জন্য এর অর্থ হলো বিদেশ ভ্রমণে বা লেনদেনে বিলম্ব কম হওয়া, তবে আর্থিক জগতের পূর্ণ বিকেন্দ্রীকরণ নিয়ে বিভ্রান্তি দূর হওয়াও জরুরি।

